পোস্টগুলি

মার্চ, ২০১৮ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

বি জে পি র ভবিষ্যৎ

উত্তর প্রদেশে দুটো গুরুত্বপূর্ণ লোকসভা নির্বাচনেই বি জে পি হেরে গেল। আমি নিশ্চিত --- বি জে পি -র এই একই হাল হবে ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে। তবে একটিমাত্র শর্ত খুব গুরুত্বপূর্ন। তাহলো, উত্তর ভারতে দলিত পার্টিটির সাথে ও বি সি দের ২/৩ টি পার্টির সাথে নির্বাচনে বোঝাপড়া তৈরি হওয়া/করা। এটা নাহলে বি জে পি পরাস্ত হবে না, আমি একথা বলছি না, এটা হলে তা নিশ্চিত হয়। অনেকের হয়তো মনে আছে, মনে না থাকলে হিসাব করে দেখুন --- বি জে পি-র উত্থান বি এস পি-র কাঁধে ভর করে। কাঁশিরাম বলতেন বি জে পি-কে মই হিসাবে ব্যবহার করার কথা। আসলে তিনি এটা বলতেন আম্বেদকরবাদীদের কাছে তার অনৈতিক (আম্বেদকরের নীতি বিরোধী) কাজের সাফাই দেবার জন্য এবং একই সাথে কাঁশিরাম প্রচার করেন যে, কংগ্রেস এমনকি বি জে পি-র থেকেও বেশি খারাপ, বেশি মনুবাদী দল। যাহোক, দেশবাসী জানেন যে, কার্যত কাঁশিরাম বি জে পি কে লিফট দেন, বি এস পি কে মই হিসাবে ব্যবহার করে বি জে পি কেন্দ্রের ক্ষমতা দখল করে। ৮৫-১৫ ভাগের কথাটা আম্বেদকরবাদী আন্দোলনকারীদের কাছে ওম বলে মন্ত্র শুরু করার মত, বি এস পি র কাছেও তাই। কিন্তু তারা উত্তর ভারতে ও বি সিদের পার্টিগুলির সাথে কোনোদি...

অন্ধ বিবেক!

বিবেকানন্দ বলেছেন--- " আমাদের মহান স্মৃতিকার মনু আর্যের সংজ্ঞা দিতে গিয়া বলিয়াছেন, প্রার্থনার ফলে যাহার জন্ম, সেই আর্য। প্রার্থনা ব্যতীত যে শিশুর জন্ম হয়, মনুর মতে সে অবৈধ সন্তান।.... প্রার্থনা ব্যতীত যদি আপনাদের সন্তান হইয়া থাকে, তবে তাহারা মানব জাতির অভিশাপ হইবে।..... আমাদের শাস্ত্র শিক্ষা দেয়, সন্তান ভালো বা মন্দ হইবে, তাহা স্থিরীকৃত হয়, গর্ভবাসকালীন প্রভাবের দ্বারা। লক্ষ লক্ষ বিদ্যালয়ে যান, লক্ষ লক্ষ পুস্তক পড়ুন, পৃথিবীর সব পন্ডিতের সঙ্গ করুন--- এগুলির প্রভাব অপেক্ষা জন্মকালীন শুভসংস্কারের প্রভাব বেশি।শুভ বা অশুভ উদ্দেশ্য লইয়াই আপনার জন্ম। শিশু জন্মগ্রহণ করে -- হয় দেবতারূপে, নয় দানবরূপে--- শাস্ত্র এই কথাই ঘোষণা করে। শিক্ষা আর সব কিছু পরে আসে, ঐগুলি অতি তুচ্ছ। যে ভাবে লইয়া আপনার জন্ম হইয়াছে, তাহাই আপনার ভাব ( বিবেকানন্দ বাণী ও রচনা, ৫ম খন্ড, পৃষ্ঠা ৩৩৭ ও ৩৩৮)। ( এই অমৃৎবানী সমূহের পুনউচ্চারণ হবে তার এইসব ভাষণের ১২৫ তম বৎসর স্মরণে, যার জন্য মুখ্যমন্ত্রী সরকারি তহবিল থেকে ১০ কোটি টাকা দিচ্ছেন)

বিধবার স্বর্গ

মহান স্বামী বিবেকানন্দর আশচর্য্য আবিষ্কার---- "বালবিধবাদের শোচনীয় অবস্থার যে চিত্র আঁকা হয়ে থাকে, তার সত্যতা অস্বীকার করে তিনি (স্বামীজী) বলেন যে, ভারতে সাধারণভাবে বিধবাদের বিস্তর প্রতিপত্তি, কারণ সেদেশে সম্পত্তির বড় অংশ বিধবাদের করায়ত্ত। বস্তুত বিধবারা এমন একটা স্থান অধিকার করে আছে যে, মেয়েরা এবং হয়তো পুরুষেরাও পরজন্মে বিধবা হবার জন্য সম্ভবত প্রার্থনাও করে থাকেন ( স্বামী বিবেকানন্দ বাণী ও রচনা,৫ম খন্ড, পৃষ্ঠা ৩১৪)।

হিন্দুধর্ম ও দলিত

বিবেকানন্দ তাঁর শিষ্যগণকে একটি চিঠিতে নিচের এই কথাগুলি লিখেছেন। কথাগুলো ঐতিহাসিকভাবে ঠিক এবং বিবেকানন্দর মতে  হিন্দু ধর্মীয় নির্দেশের দিক দিয়েও ঠিক। আমি আপনার কাছে বিশেষ করে দলিত বর্গের বন্ধুদের কাছে বর্তমান পরিস্থিতির সাথে মিলিয়ে এই কথাগুলোর ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণের অনুরোধ জানাচ্ছি। উদ্ধৃতিটি হল "মালাবারে একজন চন্ডালকে একজন উচ্চবর্ণের লোকের সঙ্গে এক রাস্তায় চলিতে দেওয়া হয় না, কিন্তু সে মুসলমান বা খ্রিস্টান হইলে তাহাকে অবাধে সর্বত্র যাইতে দেওয়া হয়, আর এই নিয়ম একজন হিন্দু রাজার রাজ্যে কত শতাব্দী ধরিয়া রহিয়াছে! ইহা একটু অদ্ভুত রকমের বোধ হইতে পারে, কিন্তু অতিশয় প্রতিকূল অবস্থার ভিতরও অপরাপর ধর্মের প্রতি হিন্দুধর্মের সহানুভূতির ভাবও ইহাতে প্রকাশিত হইতেছে" (বিবেকানন্দ বাণী ও রচনা, বেলুড়মঠ প্রকাশন, ৫ম খন্ড, পৃষ্ঠা ৩৫৫)। ( এই মুসলমান ও খ্রিস্টানরা অধিকাংশ চন্ডাল থেকে ধর্মান্তরিত)

ত্রিপুরা-কলকাতায় মূর্তি ভাঙা প্রসঙ্গে

ভাঙা হলো লেনিন, শ্যামাপ্রসাদ, আম্বেদকর, পেরিয়ার, গান্ধী আর হনুমানের মূর্তি। এটা এমন একটা দেশ -- যেখানে গান্ধী, আম্বেদকর, লেনিনের মূর্তি গড়েন মানুষ; আবার সেই দেশের মানুষ শ্যামাপ্রসাদ ও হনুমানের মূর্তিও গড়েন। তাই ভাঙাভাঙিও আর অস্বাভাবিক কি! মানুষ মূর্তি গড়ে কেন? আর ভাঙেনও বা কেন?--- মনে হয় প্রচারের জন্য। মতাদর্শ প্রচারের কথা মাথায় রেখে ও শ্রদ্ধা-কৃতজ্ঞতা জানাবার জন্য। মূর্তি মানুষের মনে আগ্রহ ও অনুসন্ধিৎসা সৃষ্টি করবে, মানুষ  তাদের মতাদর্শ জানবেন এবং উদ্বুদ্ধ হবেন -- এসব ভেবেই হয়তো মূর্তি প্রতিষ্ঠা। আর ভাঙার প্রশ্ন তাহলে বুঝতে অসুবিধা হবার কথা নয়। মতাদর্শ প্রচারের সংঘাত; জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি ও সংকোচনের সংঘাতের পরিণতিতে এই ভাঙার সিদ্ধান্ত হতে পারে। আর হতে পারে পাগল ও মাতালের ঝোঁক -- তাদের চিত্তবিনোদন। গণতন্ত্রে যদি প্রত্যেকের বক্তব্য, মতাদর্শ প্রচারের অধিকার থাকে তাহলে গান্ধীর মূর্তি ও মহাত্মাকে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপকারী আম্বেদকরের মূর্তি পাশাপাশি খাড়া থাকতে পারে। ভগবানে অবিশ্বাসী পেরিয়ারের পাশে হনুমানের মূর্তি থাকতে পারে। পুঁজিবাদী-সামন্ততান্ত্রিক দেশের রাস্তার মোড়ে সমাজতন্ত্র ও সমানাধিকারের...

দলিতদের করণীয় কাজ

দিলীপ গাইন একটা পোস্ট করে বলেছেন ---- বড় দলে গিয়ে কোনো লাভ নেই, হয়নি। ভাবতে হবে ইত্যাদি---- আমি লিখেছি --- ভারতীয় পরিস্থিতিতে দলিত এবং মুসলমানদের নিজস্ব নিয়ন্ত্রণাধীন পার্টি প্রয়োজন, সেটা দুই সমাজের ঐক্যবদ্ধ পার্টিও হতে পারে। প্রয়োজন যৌথ এবং যোগ্য নেতৃত্ব ও পরিষ্কার ঘোষিত কর্মসূচি। --- এটা আমার মূল কথা। কিন্তু আজকের দিনে রাজনীতির গতি সরল পথ ধরে এগোয় না, তাই সতর্কতার সাথে পরিস্থিতির মোকাবিলা করার জন্য নানা ধরণের পারমুটেশন-কম্বিনেশন করার প্রয়োজন হলে তা করতে হবে। তার জন্য নিজেদের যোগ্য, দক্ষ ও সাহসী হতে হবে। দলিত- মুসলিমদের সমস্যা সমাধানের জন্য যা যা প্রয়োজন সে সবের জন্য সবার আগে প্রয়োজন দেশে একটা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ও পরিবেশ। সে জন্য আম্বেদকর গণতন্ত্রের পক্ষে এত বেশি সরব ছিলেন। আর এই গণতন্ত্রের শিক্ষা ও অনুশীলনের সূতিকাগার হলো নিজ নিজ পার্টি। পার্টির নাম যাই হোক, এই শর্ত পূরণ করতে না পারলে সেই পার্টি আম্বেদকরবাদী বলে দাবি করার অনধিকারী। সেই জন্য দলিতদের নিজস্ব দাবির সাথে দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থা কোন দিকে চলছে, সংসদীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা কোন চ্যালেঞ্জের মুখে কিনা, সেটা গুরুত্ব দিয়ে ভ...

যোগেন্দ্রনাথের কুৎসার জবাবে

TDN Bangla আমার একটা সাক্ষাৎকার প্রচার করে। তাতে তপন ঘোষ, কিছু বামুন ও নমো আমাকে এবং যোগেন্দ্রনাথ মন্ডলকে নিয়ে কুৎসা করছে, তার জবাবে এই কথাগুলি--- যোগেন বাবু এই বাংলা থেকে আম্বেদকরকে গণ পরিষদে পাঠাবার কাজে নেতৃত্ব দেন। তিনি বাংলার তফসিলিদের জন্য  সংরক্ষণ নীতি  কার্যকরী করার জনক এবং তিনিই বাংলার তফসিলি ছাত্র-ছাত্রীদের stipend চালু করেন। ১৯৪৩ সালে মুসলিম মন্ত্রিসভার সহযোগিতায় তিনি এই কাজে সফল হন। এর প্রতিটি কাজে উচ্চ বর্ণ হিন্দুরা বাধা দেন। ব্যর্থ হয়ে তাঁরা যোগেনবাবুর কুৎসা শুরু করে, যা আজও চলছে। দলিতরা শুধু এইটুকু কাজের জন্য তাকে সুদীর্ঘকাল মনে রাখবেন। দলিতদের মধ্যে আবোলতাবোল বলা মানুষের সংখ্যা কম নয়, তাদের কথাগুলি হলো আস্তাকুঁড়ের জঞ্জাল। দেশ ভাগ এবং বাংলা ভাগের জন্য দায়ী উচ্চ বর্ণ হিন্দু সমাজের নেতারা। যোগেন বাবু দেশ ভাগ এবং বাংলাভাগের বিরোধিতা করেন। মূলত বাংলাভাগের জন্য বাঙালিরা দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন, উদ্বাস্তু হয়েছেন। তাই দেশ ত্যাগের কারণ উচ্চ বর্ণ হিন্দু নেতৃত্ব। কংগ্রেসি নেতারা এবং শ্যামাপ্রসাদ। পূর্ববঙ্গের ১/২ কোটি হিন্দু যেমন পালিয়ে ভারতে এসেছেন, বরিশালের বাড়ি ছেড়ে ...

ঢাকায় হিন্দুরা

ঢাকায় এসে উত্তরায় ছিলাম।এক জামাই-মেয়ে থাকে। জামাই উকিল, ভাইঝি ল' এ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তর। বিচারকের চাকরির জন্য লিখিত পরীক্ষায় পাশ করেছে এবং আত্মবিশ্বাসের সাথে বললো --- চাকরি পেয়ে যাবে (চাকরিটা সে পেয়েছে, এখন ম্যাজিস্ট্রেট)। তাদের কর্মজীবন, সামাজিক জীবন --- এসবের মধ্যে হিন্দু বলে সমস্যা হয় কিনা জানতে চাই। তারা বললো -- কোনো সমস্যা নেই, নিজের দেশে আছে, ভালো আছে। বিল্ডিংয়ে ১০টা ফ্লাট, ৩ টি হিন্দু পরিবার থাকে। ভাইঝি সারাদিন একা থাকে, কোনো দুশ্চিন্তা হয় না বলে জানালো। কলকাতায় একই বিল্ডিংয়ে বাস করা অনেক দূরের ব্যাপার, হিন্দু পাড়া/এলাকায় কোনো মুসলমানকে কেউ বাড়ি ভাড়া দেবে না। আরেক মেয়ে- জামাই থাকে যাত্রাবাড়ী, এখন সেখানেই আছি। জামাই কলেজে পড়ায়, ভাইঝি হাইস্কুলে। নাতি পড়ে ইঞ্জিনীয়ারিং। বললাম, পাড়ায় আর কতঘর হিন্দু আছে? বললো, নেই, কাউকে তেমন জানে না। নাতিটা  প্রাথমিক থেকে এই অঞ্চলে, আছে, পড়েছে। ওর দুই যমজ বোনও ১১/১২ ক্লাসে পড়ে। ওরা ৫ জন হিন্দু হিসাবে কোনো সমস্যা জানে না। ভালো থাকে, ভালো আছে।

আর এস এস -এর চৌকিদার

অসিত বিশ্বাস নামে একজন আমার ওয়ালে কমেন্ট করে। পরে তার ওয়ালে এটা পোস্ট করেছে। উত্তর সেখানে পেস্ট করলাম, মনে হয় মুছে দিল:-- অসিতের লেখায় এক নজরে দেখলাম ৯/১০ টা বানান ভুল। এটা ঠিক করো। বাদুড়িয়া, দেগঙ্গা, ধুলাগড় --- এসব আমার কাছাকাছি এলাকা। তোমরা হয়তো যাও নি, আমি কয়েকবার করে গিয়েছি, খোঁজ নিয়েছি, জানি। ওগুলি আমাকে বলে লাভ নেই, মিথ্যা অন্যত্র চালাবার চেষ্টা করো। ভোজপুরী ছবির দৃশ্য, কুমিল্লার গন্ডগোলের ছবি-- এসব চক্রান্ত ফাঁস হয়েছে। তোমাদের লোকজন ধরা পড়েছে। উদ্দেশ্য দাঙ্গা সৃষ্টি করা। এ কথা সবার জানা। আম্বেদকর ইচ্ছার বিরুদ্ধে কাউকে দুই দেশের মধ্যে লোক বিনিময়ের কথা বলেন নি বরং বিরোধিতা করেছেন। তোমার জানা, বেঠিক জানা। স্বইচ্ছায় যাঁরা দেশ ছাড়বেন অর্থাৎ উদ্বাস্তুদের ভাল ব্যবস্থার জন্য বলেছিলেন। বিবেকানন্দ হিন্দু ধর্মের জাত ব্যবস্থার পক্ষে ছিলেন। তিনি বর্ণ ব্যবস্থাকে ঈশ্বর কর্তৃক দেওয়া শ্রেষ্ঠ সম্পদ বলেছেন। হিন্দুরধর্মের কলঙ্ক ঢাকতে তোমরা সনাতন ধর্ম বলছো, এটা শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা, হয় না, হবে না। তোমার-আমার পূর্বপুরুষ অত্যাচারিত,অসম্মানিত ও ঘৃণার শিকার হয়েছেন হিন্দু ধর্মের নামে। ব্যবস...

জাতের নেতা বনাম মোদি

নেতার জাত--- মানে মান/স্তর  বোঝা যায় চাপে পড়লে। তিনি মোদী হন বা মুকুল হন অথবা সে সুবোধ, যেই হোক। বছর দুয়েক মোদী দাঁড়ি-কোটে শান দিলেন ঠান্ডা মাথায়। কিন্তু লম্বা প্রতিশ্রুতির রথ এগোয় না! সুইস ব্যাংক থেকে যে চার পয়সাও বের করা যায় না! উনি রথে বসে আনাড়ীর মতো যত গুঁতোগুতি করেন, রথ ঘর ঘর করে তত পিছলে যায়! অধৈর্য্য  মোদী নোট বাতিলের চমক নিয়ে হাজির হলেন কিন্তু হলো বুমেরাং। গবাদি পশু বেচা-কেনায় নিয়ন্ত্রণ, জি এস টি -- তাও ঘুরে মারলো শিঙের গুঁতো! একটা রাজ্যের নির্বাচন, একজন প্রধানমন্ত্রীর কাছে খুব বড় কিছু নয়, সামান্য চাপ!  তবুও প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী, প্রাক্তন উপরাষ্ট্রপতি, প্রাক্তন বিদেশমন্ত্রী, প্রাক্তন সেনানায়ক প্রমূখ ব্যক্তিবর্গ সম্পর্কে যেসব ভিত্তিহীন ও দায়িত্ব জ্ঞানহীন কথা বলছেন, যেভাবে সরাসরি সাম্প্রদায়িক তাস খেলছেন, তাতে নেতা হিসাবে তাঁর জাত চেনা যাচ্ছে। কুকুর পাগল হলে তার এই দশা হয়!

নমো সমাজে আরএসএস জঞ্জাল

নমোদের মধ্যে কিছু আর এস এস নামের জঞ্জাল জন্মেছে, তাদের কথার জবাবে--- লোচন, উৎপল,বাইন, শিমুল--- ওয়ালটা নিজের হতে পারে, তাই বলে অন্যকে দালাল বলে গালি দেবেন, আর অন্যরা ফুল ছুড়বেন, তাতো হয় না! নাগরিকত্ব নিয়ে আমাদের সংগঠন সুপ্রিমকোর্টে মামলা লড়ছে ৪ বছর ধরে। আমরা ফেসবুকে একাউন্ট পেয়ি চেক চেয়েছিলাম উকিলের নামে। কয়েকজন সেভাবে দিয়েছে, ৪/৫ জন ক্যাশ দিয়েছে। টাকাগুলো সব উকিল বাবুকে দিয়ে দেওয়া হয়েছে। মামলা চলছে। শেষের দিকে ৩৯০০০/৩৯৫০০ টাকা আমরা ক্যাশ পেয়েছি, সম্ভবত তার রিসিট দেওয়া হয় নি, তবে ফেসবুকে লিখে তার একটা প্রাপ্তি স্বীকার করা হয়েছে। লোচন বাবু বা নাকি নিশীথ বাবু আমাকে কোনো টাকা দেন নি কিন্তু আমাকে অস্বচ্ছ বলে প্রমাণ করার চেষ্টা করেছেন, কয়েকজন চামচা তাতে নেচেও উঠেছেন। তা টাকা যদি উনি উত্তম কবিকে দিয়ে থাকেন, তাহলে রিসিটটা কি আপনার তার কাছ থেকে চেয়ে নেওয়া উচিত নয়? বা উত্তম অথবা আমার কাছে চেয়ে কি আপনি রিসিট পান নি? তাছাড়া রিসিট পেলেই কি হিসাব মিটে যায়? রিসিট দেওয়া নেওয়া দুই পক্ষের জন্য উচিত কাজ, তবুও, তার পরেও একটা হিসাব থাকে। দিতে হয়, নিতে হয়। আমরা সেটা করি। অভিযোগ করার আগে বুদ্ধিমান লোকে এস...

বাংলা ভাগের শিকার

বিষয় --- বাংলাভাগ ও বর্তমানে ভারতবর্ষের বাঙালি ----------------------------------------------------------------------- ১৯৪৭ এর স্বাধীনতা বাঙালির হৃদপিণ্ডকে দু-টুকরো করে দিয়েছে । দ্বিজাতি তত্ত্বের কূটকাচালিতে (বাংলা ভাগে) বাঙালির কোনো ভূমিকা ছিল না, ছিল পুজিপতি আর রাজনৈতিক দাবা খেলায় কিছু নেতার ক্ষমতা দখলের অভীপ্সা । ফলে চিরস্থায়ী হয়ে রইল বাঙালিকে ভিটে-মাটি থেকে উৎখাতের ধারাবাহিকতা। বাঙালি জাতি ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে। দুর্বল হয়েছে বাঙালি ঐক্য। বাঙালি ষড়যন্ত্রের শিকার ১৯৪৬ সাল থেকেই। দণ্ডকারণ্য সহ ভারতের ১৮ টি প্রদেশে প্রায় ২ কোটি  বাঙালির  স্থায়ী বসতি স্থাপনের অধিকার পাওয়া সত্ত্বেও প্রতিদিন উৎখাত হওয়ার আশঙ্কায় প্রহর  গুনছেন । ২০০৩ সালে ভারতের নাগরিকত্ব আইন সংশোধন করে ভারতীয় জনতা  পার্টি । নুতন সংশোধিত ধারায় যখন - তখন যেকোনো উদ্বাস্তু বাঙালিকে  অনুপ্রবেশের তকমা লাগিয়ে তাড়িয়ে দেওয়া অথবা জেলে পোরা যাবে । উত্তরপ্রদেশ, আসাম, পশ্চিমবঙ্গ সহ অন্যান্য প্রদেশেও আইনের  এই ধারার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে । নরেন্দ্র মোদি পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে দাঁড়িয়ে প্রকাশ্য জনসভায় ঘোষণা কর...

বাংলা ভাগের খল নায়ক

কোনো এক অনির্বান বন্দ্যোপাধ্যায় ' বাংলাভাগ ও ভারতবর্ষের বাঙালি' নামে কোথাও কিছু একটা লিখেছেন। তাতে মোহিত হয়ে পলতার নিশীথ নামে একজন লেখাটি বা তার অংশ পোস্ট করে দেন। লেখা পড়ে উল্লসিত কয়েকজন মন্তব্য করেছেন। তার একজন হলেন উত্তম সরকার (নিশীথের কথায় উত্তম আমার অনুরাগী)। সে লিখেছে -- অসাধারন লেখা! উত্তমের মন্তব্য পড়ে আমার মাথা ঘুরে যাবার মতো অবস্থা, তাই এই দুকথা লেখা। মূল লেখাটির অংশ হলো -- " ১৯৪৭-এর স্বাধীনতা বাঙালির হৃদপিন্ডকে দুটুকরো করে দিয়েছে। দ্বিজাতি তত্ত্বের কূটকাচালিতে (বাংলাভাগে ) বাঙালির কোনো ভূমিকা ছিলোনা।" কিন্তু আমি যতটা জানি--- বাংলাভাগ হলো বাঙালি হিন্দু ভদ্রলোকদের অন্তত ১০ বছরের নিরন্তর চেষ্টা ও  চক্রান্তের ফল। তারা দেশভাগ না হলেও বাংলাভাগের জন্য বদ্ধপরিকর ছিলেন। বাস্তবত দেশভাগ হবার ২ মাস আগে তারা বাংলাভাগ করে ছাড়েন। বাংলা ভাগের ক্ষেত্রে বাংলা কংগ্রেসের বড় অংশ ও শ্যামাপ্রসাদ নেতৃত্বাধীন হিন্দু মহাসভা মূল উদ্যোগী ছিলেন। যদিও শ্যামাপ্রসাদের শক্তি তেমন ছিলনা। বাংলাভাগের বিরুদ্ধে ছিল গোটা বাঙালি মুসলিম নেতাগণ ও মুসলিম সমাজ। যোগেন্দ্রনাথের নেতৃত্বে দলিত সমাজে...

ভারতবর্ষে দাঙ্গা

নীচের অংশটি জিম নওয়াজের ফেসবুক পোস্টের অংশ। আজকের কাগজে আরো কিছু সরকারি হিসাব প্রকাশিত হয়েছে। তাহলো --- ২০১৪ থেকে ২০১৬ এই দুই অর্থবছরে গুজরাটে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হয়েছে ১৮২ টি। উত্তর প্রদেশে এই দুই বছরে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হয়েছে ৪৫০ টি, কর্ণাটক রাজ্যে ২৭৯ টি, মহারাষ্ট্রে ২৭০ টি, মধ্যপ্রদেশে ২০৫ টি, রাজস্থানে ২০০ টি, বিহারে ১৯৭ টি দাঙ্গা হয়েছে। যেকোনো দেশে দাঙ্গার বিরোধিতা করতে হবে, আমরা তা করি। তবুও একটা তুলনামূলক আলোচনাও হয়। বিশেষ করে বাংলাদেশের সাথে। দেশত্যাগের কারণ বিশ্লেষন করার ক্ষেত্রে দাঙ্গা হাঙ্গামার কথা ওঠে। ভারতের মুসলমানরা কিন্তু ভারত ত্যাগ করেছেন না, দেশত্যাগ করার কথা ভাবছেন না।

নাগরিকত্ব বিল ২০১৬ ---একটা ভাওতা

গতকাল লিখেছিল অন্যান্য কাগজ, আজ লিখেছে আনন্দ বাজার। কাগজগুলো লিখছে যে, নাগরিকত্ব (সংশোধনী) বিল, ২০১৬ তে বি জে পি নাকি হিন্দু উদ্বাস্তুদের নাগরিকত্ব দেবার কথা বলেছে! কথাটা একেবারেই ঠিক নয়। ওই বিলটি মাত্র এক বাক্যের, তাতে নাগরিকত্ব শব্দটির উল্লেখ মাত্র নেই। তাতে বলা হয়েছে, " পাকিস্তান, আফগানিস্তান এবং বাংলাদেশ থেকে ৩১ ডিসেম্বর, ২০১৪ তারিখের আগে যেসব হিন্দু-বৌদ্ধ উদ্বাস্তু/শরণার্থী ধর্মীয় কারণে অত্যাচারিত হয়ে বা তার ভয়ে ভারতে এসেছেন তাদের  ২০০৩ সালে তৈরি নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের ২(১)(বি)ধারা অনুযায়ী অনুপ্রবেশকারী বলা হবে না।" --- ব্যস এটুকুই! আমার ধারণা -- এতে বাঙালি উদ্বাস্তুদের প্রায় কিছুই লাভ/সুবিধা হবে না। কারণ সাধারণ মানুষ নাগরিকত্ব পান জন্মসূত্রে।   বি জে পি ২০০৩ সালের আইনে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাবার অধিকার শর্তযুক্ত করে দেয়। তাতে বলা হয় -- মা-বাবার নাগরিকত্ব না থাকলে কেউ এদেশে জন্মগ্রহণ করলেও জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাবে না। এই প্রস্তাবিত বিলে সেই গিট খোলা হয় নি, কোনো কথাই নেই! আর বিলের শর্তগুলো দেখুন--- ১) প্রমান করতে হবে কেউ বাংলাদেশ থেকে এসেছেন কিনা।  ২) ধর্মীয় ...

বিল : তালাকের শাস্তি

লোকসভায় তাৎক্ষণিক তালাকের জন্য শাস্তি বিল পাস হলো, কিন্তু দুই দশক ধরে মহিলা সংরক্ষণ বিল ঝুলে আছে। ঝুলে আছে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া উদ্বাস্তুদের নাগরিকত্বের প্রতিশ্রুতি।--- গুরুত্বের প্রশ্ন নিয়ে নাগরিকরা ভাবুন! ১৯৩৩ সালে পরাধীন ভারতের পার্লামেন্ট পাস করে অস্পৃশ্যতা বিরোধী বিল। কিন্তু অস্পৃশ্যতা আজও নির্মূল হয় নি। তালাকের এই আইন ভেলকি দেখাবে, এই আশা কি সত্য হবে? এই বিল হুবহু পাস হয়ে আইন হলে তা হবে সংবিধান বিরোধী। এইসব আইনের প্রস্তাব উটকো ঝামেলা ও প্রচারের লক্ষ্যে। জাত-বর্ণ সমস্যা ভারতের সবচেয়ে বড় সমস্যা। হিন্দু-মুসলমান দাঙ্গায় এদেশে যত মানুষ মারা যান, তারচেয়ে অনেক বেশি মানুষ খুন হন জাতের হাঙ্গামায়, খুন ছাড়াও অন্য নির্যাতনতো আছেই। জাত-বর্ণ ব্যবস্থা তুলে দেবার জন্য আইন হোক। পৈতা থেকে শুরু করে জাত-বর্ণের যেকোনো চিহ্ন ও প্রকাশকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে গণ্য করা হোক।

মমতাদেবী ও অসমের নাগরিকপঞ্জি

অসমের নাগরিকপঞ্জি : নাম বাদ

তপধীর বাবুর (অসম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য) নাম বাদ পড়েছে। উনি উনার মতো আরো কয়েকজনের নাম উল্লেখ করেছেন, যাদের নাম এন আর সি থেকে বাদ গেছে। উনি লিখেছেন, কাগজ ছেপেছে, আমরা ও কর্তৃপক্ষ জেনেছি এবং সবাই এও জানি এসব ঠিক হয়ে যাবে। তাঁর লেখার গুরুত্ব ও প্রয়োজন-- দুইই আছে। তাদের নাম বাদ পড়লে অন্যদের হাল যে কি, এটাও বোঝা যায়। কিন্তু বোঝা দরকার যে, সংশোধিত তালিকায় যখন তাঁদের নামগুলো অন্তর্ভুক্ত হবে, তখন অন্যান্য হাজার হাজার সাধারণ মানুষগুলির নামগুলো অন্তর্ভুক্ত হবে না। দুঃখের হলো 2003 সালের আইন তৈরির শুরুর সময় ও তার পরে এই কালা আইনের বিরুদ্ধে বাঙালি রাজনৈতিক ও বুদ্ধিজীবী সমাজ এগিয়ে আসেন নি, কাগজগুলিও প্রায় নীরব। দেরিতে হলেও,সেটা এখন করা দরকার। আমার মতো 'সংকীর্ণ' লোকের ধারণা --- বাঙালি রাজনৈতিক সমাজ, প্রচার মাধ্যম ও বুদ্ধিজীবী সমাজ ইত্যাদি কেউ এ ব্যাপারে বেশিদূর এগোবেন না। কারণ অচিরে তাঁরা বুঝে যাবেন যে, এই শক্তিশেল কার্যত আঘাত করবে দলিতদের, হতে পারে কিছু প্রকৃত ভারতীয় মুসলমানকেও।

দলিতের শক্তি ও সমস্যা

মহিদুল মন্ডল নামে এক ফেসবুক বন্ধু খিলজিকে বিকৃত করার প্রতিবাদে একটি পোস্ট করেছেন, সেখানে আমার একটি কমেন্ট---- ভারতের দলিতরা একটা জনগোষ্ঠী। তারা আকারে অনেকটা মানুষের মতো, কিন্তু  কোনো অর্থে তাদের মানুষ বলা হতো না। আপনারা নিজেদের অবস্থানের উচ্চতা নিয়ে (খিলজি vs রাজপুত) তর্ক করছেন, যুক্তি দেখাচ্ছেন। কিন্তু আমি দলিত, আমি কী  করি, কী  বলি! আমি কোরেগাঁও নিয়ে বললাম। বললাম --- আমরা মাত্র কয়েকজন মিলে শক্তিশালী ব্রাহ্মণ রাজা পেশোয়াদের খড়কুটোর মতো উড়িয়ে দিলাম। একথা বলায়, আমরা কয়েকদিন আগে প্যাদানি খেলাম। আমরা কিছু করতে পারলাম না ; কারণ আমাদের পিছনে পাশে কেউ নেই, কিছু নেই আমাদের। তোমরা আগে সম্রাট ছিলে, আমরা সেই জন্তু জানোয়ার। কোনো সুরাহা হয় নি। রাজপুতরা কিন্তু তোমাদের প্রধান শক্তির একটা, তবে ভাড়াটে। ইংরেজ আমলের শুরুতে আমরা কোম্পানির হয়ে তোমাদের বিরুদ্ধে লড়াই করলাম। তোমরা, তোমাদের রাজপুত বাহিনী, শিখ বাহিনী--- এসব কোনো কিছুই কিন্তু আমাদের সামনে প্রতিরোধ গড়তে পারোনি। আমরা দুসাদ, মাহার আর পারিয়া --- এসব জন্তুগুলির শিংয়ের গুঁতো তোমরা সামলাতে পারোনি। তোমাদের ৭০০/৮০০ বছরের শাসন শেষ হয়ে ...

প্রসঙ্গ : শিকাগো ভাষণ

বিবেকানন্দকে নিয়ে একটি বিতর্কের অংশ। এই অংশটি আমার লেখা--- সংখ্যার ব্যাপারে (৭২/৭৪) আমার নিজেরই একটা সংশয় হয়। তাই খুঁজে বের করার চেষ্টা করলাম, পেলাম না। যদি পাই জানাব। তবে আপনার দেওয়া ৫০০০ সংখ্যাটি সঠিক নয়। কারণ কলম্বাস হলের ধারণ ক্ষমতা ছিল সর্বোচ্চ ৪০০০। ওটা মূলত ছিল বহুবিধ বিষয়ের বিশ্বমেলা, তার একটা অংশ ছিল ধর্মমহামেলা । অন্যান্য শাখার মিটিং হয়েছিল ও তার প্রতিনিধি ছিল। হতে পারে সব মিলিয়ে ৫০০০ প্রতিনিধি সেখানে ছিল, যার উল্লেখ আপনি দেখেছেন। ওই বক্তৃতায় তিনি (স্বামীজী) অনেক এলোমেলো, ভুল ও মিথ্যা কথা বলেছিলেন। যেমন বৌদ্ধ ও জৈনধর্ম হলো হিন্দুধর্মের শাখা। তাঁর বাণী ও রচনায় এটুকু বাদ দেওয়া হয়েছে। ৯ অক্টোবর তিনি আমেরিকার এক শহরে বক্তৃতা দেন। বার্কের  লেখায় জানা যায় তিনি সেখানে জাতিভেদ ব্যবস্থাকে সমর্থন করে বক্তৃতা করেন (সূত্র ডেইলি প্রেস)। তিনি তাঁর বক্তৃতায় অর্ধ সত্য, মিথ্যা ও ভুল কথা অবলীলায় বলেছেন। ধর্ম মহাসভায় চীনের কনফুসিও মতের প্রবক্তা পাং কোয়াং সবচেয়ে প্রশংসা পান। ভারতের বা বাংলার ব্রাহ্ম ধর্মের  প্রতিনিধি প্রতাপচন্দ্র মজুমদারের বক্তৃতা সবচেয়ে বেশি প্রশংসা পায়। বিবেকানন্...

দলিত ও হিন্দুত্ববাদী সরকার

কেন্দ্রীয় সরকারের হিসাব : গত তিন বছরে দেশে সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষ ও মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে। ২০১৬ সালে ৭০৩ টি সংঘর্ষে মারা যান ৮৬ জন। ২০১৭ সালে সংঘর্ষ বেড়ে দাঁড়ায় ৮২২ এবং মৃত্যু হয় ১১১ জনের, আহত হয় ২৩৮৪ জন। তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি লোক মারা গিয়েছে বি জে পি শাসিত উত্তর প্রদেশে, ৪৪ জন। এছাড়াও 'শান্তিপ্রিয়' হিন্দুদের একটি ফেসবুক একাউন্ট 'হিন্দুত্ববার্তা' বন্ধ করতে হয়েছে হিংসা ছড়ানোর জন্য। বি জে পি নেতা ও সংসদ সদস্য  বিনয় কাটিয়ার হুমকি দিয়ে বলছেন ভারতীয় মুসলমানদের পাকিস্তান-বাংলাদেশে চলে যেতে। ত্রিপুরায় সন্ত্রাসবাদী বলে পরিচিতদের ছায়া সংগঠনের সাথে নির্বাচনী আতাত--- এ সবই বিবেকানন্দ ভক্তদের কীর্তি।

মনোরঞ্জন ব্যাপারীর নুতন চোখ ও পথ

মনোরঞ্জন ব্যাপারীর একটি পোস্টের জবাবে লিখেছি   মনা দা, আমি আপনার ল্যাজ ধরে মোড়াই নি, শুধু ল্যাজে একটু হাত ছুইয়েছি। কিন্তু আপনি ছাটি মারলেন দুপা তুলেই। মুশকিল হলো --- আপনি সবাইকে শত্রু ভাবছেন, তাই সজোরে গুঁতো মারতে পারছেন, নিজের জন ভাবায় অন্যেরা তা পারছেন না। আমি একথা বলছি ফেসবুকে যা দেখছি, তা নিয়ে। ফেসবুকে আপনার পোস্ট দেখছিলাম যে, আপনি নাকি জয়পুরে সবাইকে ও সবকিছুকে ধুয়ে দিচ্ছেন কিন্তু তারপর আবিষ্কার হলো --- আপনাকে জয়পুর ধুয়ে-মুছে অনেকটাই সাফ-সুতরো করে নিতে পেরেছে। অন্তত আপনার ঘোষণা, " জয়পুর আমাকে দেখার নুতন চোখ দিয়েছে" -- এই কথা আপনি নিজে ঘোষণা করার পর আর কারুর মনে সংশয় থাকার কথা নয়। আপনি ফেসবুকের পাতায় স্পষ্ট ঘোষণা করলেন, " আজ (জয়পুর থেকে ফেরার পর থেকে) থেকে আমার নুতন পথে নুতন যাত্রা শুরু" । --- এসব পড়ে ও শুনে উৎসা ও অন্য দুএকজনের বুক দুরু দুরু করেছে, কিন্তু সেটা কি অযৌক্তিক? সেকথা ঠারে ঠারে আপনাকে জানানোয় আপনি শক্তিশেল ছুড়লেন --- ভাবখানা এমন যে, অন্য কেউ যেন আর টু শব্দ না করেন। কিন্তু একমাত্র আপনি সাহসী ও লড়াকু সৈনিক, তা কি প্রকৃতিতে হয়!---হয় না। উচ্চবর্ণ সমাজ...

সহমরণ স্বেচ্ছায় : স্বামী বিবেকানন্দ

বিবেকানন্দকে নিয়ে খুচখাছ লিখে বেশ গালি খাচ্ছি। তাই ভাবলাম কিছু একটা গুছিয়ে লেখা দরকার। কিন্তু যাই যে লিখুন, ভক্তরাতো খারাপ কিছু লিখলে মানবেন না! সাত পাঁচ ভেবে গতকাল বইমেলা থেকে বেলুড়মঠ থেকে ছাপা ১০ খণ্ডের গোটা বিবেকানন্দ রচনাবলী কিনে নিলাম। আরো ৫/৭ খানা বই স্বামীজীর উপর লেখা। এটা একেবারে হাতে ছাই লাগিয়ে ধরার জন্য। ১০ম খণ্ডের কিছুটা পড়ে ফেললাম, আর অবাক হয়ে ভাবছি ভক্তির কি মহিমা! মাথায়-মুখে যা এসেছে স্বামীজী আমেরিকার বক্তব্যগুলিতে তাই বলেছেন। আর যা বলেছেন, তাই নাকি হিন্দু ধর্ম! মানে যে কোনো দিন কলকাতা দেখেনি, তাকে যেমন খুশি কলকাতা চিনিয়েছেন! তিনি বলছেন, হিন্দু নারী রাজা অপেক্ষা বেশি সন্মান ও সুবিধা ভোগ করেন (৩২)। তার মানে হিন্দুধর্ম নারীদের এমন অধিকার ও সম্মান দিয়েছে। ২/৩ টি বক্তৃতায় তিনি জাতিভেদ প্রথার সমর্থন করেছেন বলে খবরের কাগজের রিপোর্ট (২১ ও অন্য পৃষ্ঠায়)। ১০/১৫ টি খবরের কাগজে তাকে ব্রাহ্মণ সন্যাসী বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি হয়তো সেই মিথ্যা পরিচয় দিয়েছেন। ব্রাহ্মণদের সম্পর্কে তিনি বলেছেন -- আর্য্যদের খাঁটি বংশধর ব্রাহ্মণ জাতি, পাশ্চত্য লোকের পক্ষে স্বপ্নেও এই উন্নত মানবগোষ্ঠীর ...

স্বামী বিবেকানন্দ ও জাতি প্রথার চমৎকার দিক!

বেলুড়মঠের  প্রকাশিত স্বামীজীর বাণী ও রচনার কয়েকটি কথা। প্রসঙ্গ: জাতভেদ প্রথা। :--- বুদ্ধের আবির্ভাবের পূর্বে ভারতের চিন্তাজগত ছিল বিভক্ত। তাহার ধর্মের নির্ভুল ধারণা কর...

খাঁটি হিন্দু ও গোমাংস

"আপনারা শুনলে বিস্মিত হবেন যে, প্রাচীন প্রথানুসারে যে হিন্দু গোমাংস ভক্ষণ করে না, সে খাঁটি হিন্দুই নয়। কোনো কোনো উৎসবে তাকে গোবধ করতেই হত, গোমাংস ভক্ষণ করতেই হত। আর আজ সেই প্রথা একেবারে বীভৎস বলে গণ্য হয়ে থাকে" (স্বামী বিবেকানন্দের বাণী ও রচনা, ১০ম খন্ড, বেলুড়মঠ সংস্করণ, পৃষ্ঠা ১৮৯)

বর্ণবিভাগ সভ্যতা শেখানোর সোপান : বিবেকানন্দ

আর্যরা অতি দয়াল ছিলেন। তাঁদের অখন্ড সমুদ্রবৎ বিশাল হৃদয়ে, অমানব-প্রতিভাসম্পন্ন মাথায় ওসব অপাতরমনীয় পাশব প্রণালী কোনো কালেও স্থান পায়নি। স্বদেশী আহাম্মক! যদি আর্যরা ব...

ত্রিপুরায় ক্ষমতা বদল

যাঁরা ক্ষমতায় নেই, তাঁরা ক্ষমতা চান। কেউ মন্ত্রী হতে চান, কেউ এম এল এ, কেউ অঞ্চল প্রধান, কেউ সদস্য। কেউ শুধুই পাড়ায় একটু গুরুত্ব, নিতান্ত কেউ ভাবেন যে, কোথাও যেন সমস্যায় না পড়েন। তাই এই বাংলায় খোঁজ পড়েছিল, কে বা কারা পারেন বামফ্রন্টকে উৎখাত করতে; এখন ত্রিপুরায় মানুষ বেছে নিলেন বি জে পি কে। ব্যস! মানুষ যদি আস্থা পান যে, এই বাংলাতে বি জে পি পারবে, তাহলে দেখবেন ত্রিপুরার থেকে এখানে হিন্দু বেশি ছাড়া কম নেই, তবে সে সম্ভাবনা এখানে প্রায় নেই।

বাঙালি হিন্দু ও বি জে পি

উত্তরপূর্ব ভারতে আগতরতলা আর শিলচর শহরে ছাড়া বি জে পি নেই, ওখানে বি জে পি-কে মুরগি করে ওরা সুবিধা আদায় করছে। আর পশ্চিমবঙ্গের হিন্দুরা আদতে বি জে পি/আর এস এস--- আলাদা দল নেত্রীগ...

জাতিভেদ প্রথা নিয়ে বিবেকানন্দ

এই দরিদ্রগণকে --- ভারতের এই পদদলিত জনসাধারণকে তাহাদের স্বরূপ বুঝাইয়া দেওয়া আবশ্যক। জাতিবর্ণ নির্বিশেষে সবলতা দুর্বলতার বিচার না করিয়া প্রত্যেক নরনারীকে, প্রত্যেক বালক বালিকাকে শুনাও, শিখাও --- সবল-দুর্বল, উচ্চ নীচ নির্বিশেষে সকলেরই ভিতর সেই অনন্ত আত্মা রহিয়াছেন; সুতরাং সকলেই মহৎ হইতে পারে, সকলেই সাধু হইতে পারে ।.... অতি কুসংস্কারপূর্ণ ও অযৌক্তিক প্রথাগুলির বিরুদ্ধেও একটি নিন্দাসূচক কথা বলিও না, কারণ সেগুলি দ্বারাও অতীতে আমাদের কিছু না কিছু কল্যাণ সাধিত হইয়াছে। সর্বদা মনে রাখিও, আমাদের সামাজিক প্রথাগুলির উদ্দেশ্য যেরূপ মহৎ, পৃথিবীর আর কোন দেশেরই সেরূপ নহে। আমি পৃথিবীর প্রায় সর্বত্রই জাতিভেদ দেখিয়াছি, কিন্তু এখানে উদ্দেশ্য যেরূপ মহৎ, অন্য কোথাও সেরূপ নহে। অতএব যখন জাতিভেদ অনিবার্য, তখন অর্থগত জাতিভেদ অপেক্ষা পবিত্রতা কৃষ্টি ও আত্মত্যাগের উপর প্রতিষ্ঠিত জাতিভেদ বরং ভালো (বিবেকানন্দ বাণী ও রচনা, বেলুড়মঠ, ৫ম খন্ড, পৃষ্ঠা ৬৩ ও ৬৮)।

স্বামী বিবেকানন্দ শূদ্র না ক্ষত্রিয়?

দেখুনতো নরেন দত্তর এই দাবির সাথে আপনি একমত কি না --- আমি (বিবেকানন্দ) সমাজ সংস্কারকদের মুখপত্রে পড়িলাম যে, তাহারা বলিতেছেন, আমি শূদ্র; আমাকে জিজ্ঞাসা করিতেছেন: শূদ্রের সন্ন্যাসী হইবার কী  অধিকার আছে? ইহাতে আমার উত্তর এই: যদি তোমরা তোমাদের পুরাণ বিশ্বাস করো, তবে জানিও --- আমি সেই মহাপুরুষের বংশধর, যাহার পদে প্রত্যেক ব্রাহ্মণ 'যমায় ধর্মরাজায় চিত্রগুপ্তায় বৈ নমঃ' মন্ত্র উচ্চারণ সহকারে পুষ্পাঞ্জলি প্রদান করেন, আর যাহার বংশধরগণ বিশুদ্ধ ক্ষত্রিয়। এই বাঙালি সংস্কারকগণ জানিয়া রাখুন, আমার জাতি অন্যান্য নানা উপায়ে ভারতের সেবা ব্যতীত শত শত শতাব্দী ধরিয়া ভারতের অর্ধাংশ শাসন করিয়াছিল। ......তাহাদের জানা উচিত, ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয় ও বৈশ্য --- এই তিন বর্ণের সন্ন্যাস নেবার অধিকার আছে(.৫ম খন্ড, পৃষ্ঠা ৭৫এবং৭৬)।

মূর্তি ভাঙা-গড়ার রাজনীতি

এখনো পর্যন্ত বাঙালিদের মধ্যে তুলনামূলকভাবে নির্বোধ অংশ বি জে পি করে। ত্রিপুরায় লেনিন মূর্তি ভাঙা তাই অস্বাভাবিক কিছু নয়। ওরা সুযোগ পেলে বাংলাতেও একই কাজ করবে। আমি এই কাজের নিন্দা করি। কিন্তু আমার প্রশ্ন হলো --- বাম জমানায় ওগুলি গড়া হলো কেন? আমার মনে হয়, তা গড়া হয়েছিল মানুষকে ধোঁকা দিতে। এই বামেরা লেনিনের কে, কী  সম্পর্ক তাদের লেনিনের সাথে? আর যেটা দুর্বোধ্য, তা হলো ওগুলি ভেঙে ফেলার কি প্রয়োজন দেখা দিল? নুতন প্রজন্মতো সি পি এম আর লেনিনকে সমার্থক ভেবে গালি দেয়, বিপদের কোনো গন্ধ সেখানে আছে কি? সি পি এম যেমন লেনিন মূর্তি গড়েছিলেন, বি জে পি গড়ছে আম্বেদকরের মূর্তি, একই উদ্দেশ্যে। তবে এই মূর্তি পালাবদলের পর কেউ ভাঙবে না। ক্ষমতা সংহত করতে পারলে বি জে পি/আর এস এস নিজেরাই ভেঙে দেবে। আমার মনে হয় বি জে পি ভয়ংকর বিপদজনক; কিন্তু যাঁরা বিপদ বিপদ বলে চিৎকার করছে, তারা আসলে ভীত নয়; ওটা ক্ষমতার লোভে বা ক্ষমতা হারাবার ভয়ে প্রচার। বিপদটা সত্যিই যাঁদের, চির বঞ্চিত সেই লোকগুলি ক্ষমতার স্বাদের লোভে নিজেদের বিপদ ত্বরান্বিত করছে।

হিন্দুদের থেকে দলিতদের বিচ্ছিন্ন করুন, হিন্দুরাজ প্রতিষ্ঠার বিপদ আটকান

ভারতীয় সমাজ ও রাষ্ট্রে  হিন্দুরাজ প্রতিষ্ঠার চেষ্টায় স্বাভাবিক মিত্র শক্তি উচ্চবর্ণ হিন্দু সমাজ। এই সমাজের মধ্যে কিছু ব্যক্তি আছেন, যাঁরা গণতান্তিক ব্যবস্থা ও গণতান্ত্রিক শক্তির মিত্র, কিন্তু তাঁরা নিতান্তই ব্যতিক্রম। হিন্দুরাজ সমস্ত সংখ্যালঘুশ্রেণীর মানুষের বিপদের কারণ হবে। আমি তফসিলি সমাজের মানুষকেও সংখ্যালঘু বলছি। ব্রিটিশ ভারতের শেষ দিকে যখন সম্প্রদায়গত টানাপোড়েন চলেছিল, তখন প্রায়শই তাঁদের সংখ্যালঘুই বলা হত। এখন অবশ্য তফসিলিরা নিজেদের হিন্দু ভাবে, আর হিন্দু রাজত্বে নিজেদের ক্ষমতা ও আধিপত্যের স্বপ্ন দেখে। কিন্তু বি জে পি/আর এস এস  তাঁদের হিন্দু বলে মনে করে না, শুধু ব্যবহার করার কৌশল নিয়েছে। তাই তফসিলিদের/দলিতদের স্বপ্ন দিবাস্বপ্ন হয়ে থাকবে। ভারতের গণতন্ত্র ও ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে হিন্দুদের থেকে দলিতদের বিচ্ছিন্ন করে সমস্ত সংখ্যালঘুদের যুক্তফ্রন্ট গঠনের উপর। তার পথপ্রকরণ ভাবা হোক ও উদ্যোগ নেওয়া হোক। কংগ্রেস, সি পি এম, তৃণমূল ইত্যাদির উপর ভরসা করলে বিপদ হতে পারে। আপৎকালে দেখা যাবে হিন্দুকংগ্রেস, হিন্দুসিপিএম, হিন্দুতৃণমূল; সব হিন্দু এক হয়ে যাবে। মধ্যপথে নানা পারমুটেশন-কম্বিন...

স্বামীজীর দৃষ্টিতে নারী ও বিধবা

বলুনতো দেখি এই প্রশ্নে স্মরণীয় কে --- রামমোহন, বিদ্যাসাগর, গুরুচাঁদ ঠাকুর, না স্বামী বিবেকানন্দ? আমাকে (বিবেকানন্দ) বারংবার জিজ্ঞাসা করা হয়েছে---" আপনি বিধবাদিগের ও নারিজাতির উন্নতির উপায় সম্বন্ধে কি চিন্তা করেন?  এই প্রশ্নে আমি শেষ বারের মতো উত্তর দিতেছি--- আমি কি বিধবা যে, আমাকে এই অর্থহীন প্রশ্ন করিতেছ? আমি কি নারী যে, আমাকে বারংবার এই প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করিতেছ? তুমি কে যে, গায়ে পড়িয়া নারিজাতির সমস্যা সমাধান করিতে অগ্রসর হইতেছ"? .....( বিবেকানন্দ বাণী রচনা, বেলুড়মঠ, ৫ম খন্ড, পৃষ্ঠা ১০৬)।

বিবেকানন্দকে নিয়ে হিন্দু রাজনীতি

ভারত ও বাংলা দেখি বিবেকানন্দময়! অধিকাংশ মানুষ ও প্রজাপার্টি তাহার চরণধ্যানে নিমগ্ন! মমতাদেবী রাজ্যের পথ, ঘাট, উদ্যান, অট্টালিকা--- সবই স্বামীজীর নামে নামাঙ্কিত করিয়াছেন। এখন শুরু হইয়াছে তাঁহার  খড়ম লইয়া দুই পরাক্রমশালী প্রতিদ্বন্দ্বী --- সবুজ আর গেরুয়ার মধ্যে মহারণ! আমি মাত্র ৭৫০ টাকায় ১০ খণ্ডের এক পাজা বই কিনে খুশি হয়েছিলাম। টাকা দিয়ে কেনা বই, টাকাগুলোতো নষ্ট করতে পারিনা! কিন্তু পড়তে পড়তে এখন ভয় লাগছে, আমারও না  মাথায় কোনো গোল বাধে! আত্মা আছে গরু ছাগল, কীট পতঙ্গ, মানুষ সব কিছুর মধ্যে, আর সব আত্মার সমান মহিমা : কেবল নারী আর ছোট জাত ছাড়া!

হিন্দুত্ব রাজনীতির মোকাবিলার পথ

তৃণমূল কংগ্রেস মূলত কংগ্রেস। তার নেত্রী ও সেনাপতি-সৈন্য, সবই কংগ্রেস, তাদের কংগ্রেসি ঘরানা। চিন্তা-চেতনা, শিক্ষা --- সবই এক। পার্থক্য শুধু অবস্থানগত। বি জে পি বিরোধিতার ক্ষেত্রে আজ কংগ্রেসকে অনেকদূর পর্যন্ত ভরসা করা যায়, কিন্তু তৃণমূলকে নয়। তবুও তাকে দরকার, সাথে বেঁধে রাখার চেষ্টা চালাতে হবে। কংগ্রেসকে ভরসা করা যায় নীতির কারণে নয়, সেই দল সারা দেশের ক্ষেত্রে বি জে পি র প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বলে, ক্ষমতার প্রশ্নে এই দ্বন্দ্ব। আবার এই দ্বন্দ্বের জন্যই এই রাজ্যে তৃণমূলকে বি জে পি বিরোধী শিবিরে পাওয়া যেতে পারে, তবে সেখানেও অনেক কিন্তু আছে। পর্দার পিছনে নানা ধরণের সমঝোতার বিপদ আছে। দিদিকে ভরসা করা সমস্যার, তাই চোখ খোলা রাখতে হবে। ত্রিশের দশকের শেষ ভাগে ও চল্লিশের দশকের প্রথম ভাগে যখন উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা (হিন্দু মহাসভা) বাংলায় মাথা চাড়া দেয়, তখন কংগ্রেসও উগ্র হিন্দুত্বের লাইন নিয়ে তার মোকাবিলা করেছিল। তাদের সাথে পাল্লা দিতে কংগ্রেস এমনকি ঘোষণা করেছিল যে, ঢাকার দাঙ্গা দুর্গত মানুয়ের মধ্যে শুধু হিন্দুদের তারা (কংগ্রেস) রিলিফ দেবে। মমতা দেবী ১৯৯৮ সালে বি জে পি র সাথে জোট বাধলেন, সেটা বাবরি ম...