হিন্দুত্ব রাজনীতির মোকাবিলার পথ
তৃণমূল কংগ্রেস মূলত কংগ্রেস। তার নেত্রী ও সেনাপতি-সৈন্য, সবই কংগ্রেস, তাদের কংগ্রেসি ঘরানা। চিন্তা-চেতনা, শিক্ষা --- সবই এক। পার্থক্য শুধু অবস্থানগত।
বি জে পি বিরোধিতার ক্ষেত্রে আজ কংগ্রেসকে অনেকদূর পর্যন্ত ভরসা করা যায়, কিন্তু তৃণমূলকে নয়। তবুও তাকে দরকার, সাথে বেঁধে রাখার চেষ্টা চালাতে হবে।
কংগ্রেসকে ভরসা করা যায় নীতির কারণে নয়, সেই দল সারা দেশের ক্ষেত্রে বি জে পি র প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বলে, ক্ষমতার প্রশ্নে এই দ্বন্দ্ব। আবার এই দ্বন্দ্বের জন্যই এই রাজ্যে তৃণমূলকে বি জে পি বিরোধী শিবিরে পাওয়া যেতে পারে, তবে সেখানেও অনেক কিন্তু আছে। পর্দার পিছনে নানা ধরণের সমঝোতার বিপদ আছে। দিদিকে ভরসা করা সমস্যার, তাই চোখ খোলা রাখতে হবে।
ত্রিশের দশকের শেষ ভাগে ও চল্লিশের দশকের প্রথম ভাগে যখন উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা (হিন্দু মহাসভা) বাংলায় মাথা চাড়া দেয়, তখন কংগ্রেসও উগ্র হিন্দুত্বের লাইন নিয়ে তার মোকাবিলা করেছিল। তাদের সাথে পাল্লা দিতে কংগ্রেস এমনকি ঘোষণা করেছিল যে, ঢাকার দাঙ্গা দুর্গত মানুয়ের মধ্যে শুধু হিন্দুদের তারা (কংগ্রেস) রিলিফ দেবে।
মমতা দেবী ১৯৯৮ সালে বি জে পি র সাথে জোট বাধলেন, সেটা বাবরি মসজিদ ভাঙা ও তা নিয়ে দাঙ্গার বেশিদিন পরের কথা নয়। দুবার বি জে পি র সাথে মন্ত্রিত্ব করলেন। ২০০২ সালে গুজরাট দাঙ্গার উপর ভর করে মোদি সাহেব ২য় বার ক্ষমতায় আসলে নেত্রী ফুলের তোড়া দিয়ে মোদিকে বরণ করলেন। তাই দেখা যাচ্ছে-- কোনো নীতি নৈতিকতার প্রশ্ন নয়, তৃণমূলের দলীয় লাভ-লোকসান, সুবিধা-অসুবিধার প্রশ্ন মুখ্য।
তৃণমূলের মূল শক্তি মুসলমান ভোট, তাই বি জে পি র দিকে সরাসরি পা বাড়ালো মুশকিল। কিন্তু এই সরকার মুসলমানদের জন্য করেনি কিছুই। সংরক্ষণ দিয়েছেন কিন্তু চাকরি দেন নি, নানা কৌশলে আটকেছেন। ১০০০০ মাদ্রাসার অনুমোদন ঘোষণা/প্রচার করেছেন কিন্তু কোন গ্রান্ট/অনুদান, শিক্ষক নিয়োগ দেন নি- মাইনে দেন নি। প্রচুর প্রচার হলেও ইমাম-মোয়াজ্জেনদের ভাতা আসলে মুসলমান সমাজের সম্পত্তি -- ওয়াকফ সম্পত্তির আয়ের টাকা, সরকারের টাকা নয়। মুসলমানরা প্রচুর প্রতিশ্রুতি খেয়ে এখন চোয়া ঢেকুর তুলছেন। এই ফালতু প্রচার ও মূখ্যমন্ত্রীর মাথায় জড়ানো হিজাব এখন বি জে পি র পালে হাওয়া তুলছে।
হিন্দুরা এই সরকারের তরফ থেকে মুসলমানদের দেওয়া এই সব ভাওতার কৌশল বুঝে যদি চুপ থাকেন, তাহলে ঠিক আছে। তা না হলে, ৭০% হিন্দু ভোটের জন্য তারা ওই ঢাকা দাঙ্গার সময়ের কৌশল নেবেন না, একথা হলফ করে বলা যাবে না।
ইতিমধ্যে এই সরকার মুসলমানদের চাপে রাখার কৌশল নিয়েছে বলে মনে হচ্ছে। বি জে পি কে ঝামেলা খানিকটা করতে দিয়ে, তারপর পুলিশের হস্তক্ষেপ। বি জে পি রাজ্যে না থাকলে মুসলমানরা যে আর বেশিদিন তৃণমূলে থাকবে না, এটা ওরা বুঝে গেছে। বি জে পি বিরোধী শক্তির একজোট হবার সমস্যা বা জোটে অন্তর্ঘাতের একটা বড় কারণ এটা হতে পারে।
এই রাজ্যে বা বাংলাদেশে একটা বড় মাপের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা না বাধাতে পারলে এখানে বি জে পি খুব সুবিধা করতে পারবে না। না হলে তৃণমূল ভাঙতে হবে, বড় দাঙ্গা এই কাজেও হাওয়া দিতে পারে। ছোট ছোট দাঙ্গার কৌশল নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলেই সরকার ও সরকারি দল বিপদে পড়বে। বি জে পি বিরোধী অন্য দলগুলি এসবের সুযোগই নেবে, দরকারি কাজ কী করবে বলা মুস্কিল।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন