তৃণমূল নেত্রী ফের সংসদে

 আনন্দবাজার পত্রিকা

১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০০৫ (০৬)


ইস্তফা গ্রাহ্য হয়নি 'জেনে' ফের সংসদে তৃণমূলনেত্রী


নিজস্ব সংবাদদাতা, নয়াদিল্লি, ১৬ ফেব্রুয়ারি : অবশেষে সংসদে ফিরলেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রায় দেড় মাস পরে। যৌথ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির বক্তৃতা শুনতে আজ তিনি হাজির ছিলেন সেন্ট্রাল হলে। অতএব বিধানসভা নির্বাচনের আগে যুদ্ধ যা-ই হোক, আপাতত সংসদে মধুরেণসমাপয়েত।


স্পিকার সোমনাথ চট্টপাধ্যায় তাঁর ইস্তফা গ্রহণ করেননি। লোকসভার সচিবালয় থেকে কিছু দিন আগে তাকে চিঠি দিয়ে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ইস্তফা গ্রহণ করা হচ্ছে না। অতএব মমতা সংসদে যোগ দিলেন। তৃণমূল নেত্রী গত ৪ আগস্ট একটি মুলতুবি প্রস্তাব এনে বাংলাদেশী অনুপ্রবেশের বিষয় নিয়ে বলতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তালিকায় তার নাম না থাকার যুক্তিতে স্পিকার তাকে বলার সুযোগ দেননি। এই অভিযোগে তাই মমতা পদত্যাগপত্র দিয়েছিলেন ডেপুটি স্পিকারের কাছে। সোমনাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, কোনও সংসদ সদস্য যদি ইস্তফা দিতে চান, তবে তা নিতে হবে লোকসভার স্পিকারের কাছে। ডেপুটি স্পিকারের কাছে ইস্তফা দেওয়া অবৈধ। তাই তাঁর ইস্তফা স্বীকার করা হচ্ছে না। মুখে এ কথা বললেও স্পিকারের দফতর থেকে মমতাকে এ কথা জানানো হয়নি।


মমতা আজ বলেন "আমি নীতিগত কারণে ইস্তফা দিয়েছিলাম। গোটা দেশে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের সমস্যা ভয়াবহ চেহারা নিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে অনুপ্রবেশের সমস্যার সাথে আই এস আই এর সমস্যা ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে গিয়েছে।। রাজ্যের নিরাপত্তা উদ্বেগজনক। এইসব কথা সংসদে বলতে চেয়েছিলাম বলেই আমাকে বলতে দেওয়া হয়নি। তার প্রতিবাদে ইস্তফা দিয়েছিলাম। কিন্তু

ইস্তফা গ্রহণ করা হচ্ছে কি না, সেটা আমাকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। যখন চিঠি দিয়ে জানানো হল, তখন আমিও কাজে যোগ দিলাম।" সংবিধানের ১০১(৪) ধারার লোকসভার আচরণবিধি কমিটির ২০২ ধারায় কোনও সাংসদ স্পিকারের অনুমতি না নিয়ে অথবা আগাম ছুটির দরখাস্ত ছাড়া টানা ৬০ দিন লোকসভায় অনুপস্থিত থাকলে তাঁর সাংসদ পদ খারিজ হয়ে যাবে এবং সংশ্লিষ্ট লোকসভা কেন্দ্রটি শূন্য বলে ঘোষিত হবে।


মমতা ৪৯ দিন একটানা অনুপস্থিত ছিলেন। কাজেই আরও ১১ দিন অনুপস্থিত থাকলে আইন অনুসারে তার সদস্যপদ চলে যাওয়ার কথা। মমতা আজ বলেন, “লোকসভার সচিবালয় আমাকে কিছু জানায়নি বলেই অনুপস্থিত ছিলাম। ইস্তফা নামঞ্জুর করায় আমি কাজে যোগ দিলাম।” লোকসভার সচিবালয় অবশ্য ভিন্ন ব্যাখ্যা দিচ্ছে। তাঁদের বক্তব্য, ডি. আর. কালরার স্বাক্ষরিত একটি চিঠি মমতার কাছে যায়। তাতে তাঁকে সতর্ক করে বলা হয়, আর কিছু দিন অনুপস্থিত থাকলে তাঁর সদস্যপদ খারিজ হতে পারে। সতর্কীকরণের এই চিঠি পেয়ে মমতা পাল্টা চিঠি পাঠান সচিবালয়ে। তাঁর ইস্তফার বিষয়ে জানতে চেয়ে। সেই চিঠি পাওয়ার দুসপ্তাহ বাদে, ৯ জানুয়ারি লোকসভার সচিবালয় থেকে শ্রীনিভাসুলুগুন্ডার নামে আর এক চিঠি যায় মমতার কাছে। তাতে বলে দেওয়া হয়, মাননীয় স্পিকার মমতার পদত্যাগপত্রটি গণ্যই করেন নি কারণ চিঠিটি ডেপুটি স্পিকারকে লেখা। তাই স্পিকার সমতার ইস্তফাই গণ্য করছেন না।


স্পিকার অবশ্য মমতার ইস্তফা নিয়ে আর কোনও মন্তব্য করতে চাননি। তিনি বলেন, "তৃণমূল নেত্রী সংসদে যোগ দেওয়ায় আমি খুশি।"

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ভাতে কেরোসিন যাত্রাপুরে, অভিযোগ বাংলাদেশী

যদা যদা হি ধর্মস্য... গীতার এই শ্লোকে ঠিক কী বলা হয়েছে?