দলিতের শক্তি ও সমস্যা

মহিদুল মন্ডল নামে এক ফেসবুক বন্ধু খিলজিকে বিকৃত করার প্রতিবাদে একটি পোস্ট করেছেন, সেখানে আমার একটি কমেন্ট----

ভারতের দলিতরা একটা জনগোষ্ঠী। তারা আকারে অনেকটা মানুষের মতো, কিন্তু  কোনো অর্থে তাদের মানুষ বলা হতো না। আপনারা নিজেদের অবস্থানের উচ্চতা নিয়ে (খিলজি vs রাজপুত) তর্ক করছেন, যুক্তি দেখাচ্ছেন। কিন্তু আমি দলিত, আমি কী  করি, কী  বলি!

আমি কোরেগাঁও নিয়ে বললাম। বললাম --- আমরা মাত্র কয়েকজন মিলে শক্তিশালী ব্রাহ্মণ রাজা পেশোয়াদের খড়কুটোর মতো উড়িয়ে দিলাম। একথা বলায়, আমরা কয়েকদিন আগে প্যাদানি খেলাম। আমরা কিছু করতে পারলাম না ; কারণ আমাদের পিছনে পাশে কেউ নেই, কিছু নেই আমাদের।

তোমরা আগে সম্রাট ছিলে, আমরা সেই জন্তু জানোয়ার। কোনো সুরাহা হয় নি। রাজপুতরা কিন্তু তোমাদের প্রধান শক্তির একটা, তবে ভাড়াটে।

ইংরেজ আমলের শুরুতে আমরা কোম্পানির হয়ে তোমাদের বিরুদ্ধে লড়াই করলাম। তোমরা, তোমাদের রাজপুত বাহিনী, শিখ বাহিনী--- এসব কোনো কিছুই কিন্তু আমাদের সামনে প্রতিরোধ গড়তে পারোনি। আমরা দুসাদ, মাহার আর পারিয়া --- এসব জন্তুগুলির শিংয়ের গুঁতো তোমরা সামলাতে পারোনি। তোমাদের ৭০০/৮০০ বছরের শাসন শেষ হয়ে গেলে। আমরা সারা ভারত ওদের জন্য  জয় করে দিলাম। সেদিনও ইংরেজরা লড়ে জয়লাভ করেনি। আমরা লড়াই করে ইংরেজদের প্রতিষ্ঠিত করেছি। কিন্তু আমরা জন্তুই থেকে গেছি।

প্রায় পুরো সময়কাল বামুন আর ক্ষত্রিয়রা ইংরেজদের দালালি করেছে। দালালি করা তোমরা, মানে মুসলমানরা, ওদের শিখিয়েছো, দালাল বানিয়েছ --- বলতে চাইছি, তোমাদের জমানায় ওরা তোমাদের দালালি করে  দালালি পেশা রপ্ত করেছে। পট পরিবর্তন হয়। এবার কিন্তু তোমরা-আমরা মিলিতভাবে জন্তুতে রূপান্তরিত হয়েছি। তোমরা তবু শিং নাড়ানোর কথা বলছো, আমি কী  করি!

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

তৃণমূল নেত্রী ফের সংসদে

যদা যদা হি ধর্মস্য... গীতার এই শ্লোকে ঠিক কী বলা হয়েছে?

ভাতে কেরোসিন যাত্রাপুরে, অভিযোগ বাংলাদেশী