বাংলা ভাগের শিকার

বিষয় --- বাংলাভাগ ও বর্তমানে ভারতবর্ষের বাঙালি
-----------------------------------------------------------------------

১৯৪৭ এর স্বাধীনতা বাঙালির হৃদপিণ্ডকে দু-টুকরো করে দিয়েছে । দ্বিজাতি তত্ত্বের কূটকাচালিতে (বাংলা ভাগে) বাঙালির কোনো ভূমিকা ছিল না, ছিল পুজিপতি আর রাজনৈতিক দাবা খেলায় কিছু নেতার ক্ষমতা দখলের অভীপ্সা । ফলে চিরস্থায়ী হয়ে রইল বাঙালিকে ভিটে-মাটি থেকে উৎখাতের ধারাবাহিকতা। বাঙালি জাতি ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে। দুর্বল হয়েছে বাঙালি ঐক্য। বাঙালি ষড়যন্ত্রের শিকার ১৯৪৬ সাল থেকেই।

দণ্ডকারণ্য সহ ভারতের ১৮ টি প্রদেশে প্রায় ২ কোটি  বাঙালির  স্থায়ী বসতি স্থাপনের অধিকার পাওয়া সত্ত্বেও প্রতিদিন উৎখাত হওয়ার আশঙ্কায় প্রহর  গুনছেন । ২০০৩ সালে ভারতের নাগরিকত্ব আইন সংশোধন করে ভারতীয় জনতা  পার্টি । নুতন সংশোধিত ধারায় যখন - তখন যেকোনো উদ্বাস্তু বাঙালিকে  অনুপ্রবেশের তকমা লাগিয়ে তাড়িয়ে দেওয়া অথবা জেলে পোরা যাবে । উত্তরপ্রদেশ, আসাম, পশ্চিমবঙ্গ সহ অন্যান্য প্রদেশেও আইনের  এই ধারার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে । নরেন্দ্র মোদি পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে দাঁড়িয়ে প্রকাশ্য জনসভায় ঘোষণা করেছেন, উদ্বাস্তু বাঙালিরা তৈরি থাকো, তোমাদের ভারত ছেড়ে চলে যেতে হবে । এক সময় শিবসেনা প্রধান বালঠাক্‌রেও 'বাঙালি খেদা' প্রক্রিয়া শুরু করেছিলেন । বাঙালিরা ভারতে ব্রাত্য ? আজ আসাম বলছে "বাঙালি খেদাও", কাল মহারাষ্ট্র বলছে "বাঙালি খেদাও", পরশু কে বলবে কে জানে ! -- যে দেশটার জন্য বাঙালি আর বাংলা ছিন্নভিন্ন হয়ে গেল, সে দেশটা বাঙালিদেরই নয় ? কেন ভারতের অন্য রাজ্যে বাঙালিরা বারবার অপমানিত হবে ? বাঙালিরা কার পাকা ধানে মই দিয়েছে  ? বাঙালি আর বাংলা ভাষাকে রক্ষা করতে হলে আজ থেকেই সংঘবদ্ধ হতে হবে। বাঙালি আর বাংলা-বিরোধীদের চিহ্নিত করুন। তাঁদের উচিত জবাব দিন। বিপদ বেশি দূরে নেই।----অনির্বান ব্যানার্জি।


মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

তৃণমূল নেত্রী ফের সংসদে

যদা যদা হি ধর্মস্য... গীতার এই শ্লোকে ঠিক কী বলা হয়েছে?

ভাতে কেরোসিন যাত্রাপুরে, অভিযোগ বাংলাদেশী