নমো সমাজে আরএসএস জঞ্জাল

নমোদের মধ্যে কিছু আর এস এস নামের জঞ্জাল জন্মেছে, তাদের কথার জবাবে---

লোচন, উৎপল,বাইন, শিমুল--- ওয়ালটা নিজের হতে পারে, তাই বলে অন্যকে দালাল বলে গালি দেবেন, আর অন্যরা ফুল ছুড়বেন, তাতো হয় না!

নাগরিকত্ব নিয়ে আমাদের সংগঠন সুপ্রিমকোর্টে মামলা লড়ছে ৪ বছর ধরে। আমরা ফেসবুকে একাউন্ট পেয়ি চেক চেয়েছিলাম উকিলের নামে। কয়েকজন সেভাবে দিয়েছে, ৪/৫ জন ক্যাশ দিয়েছে। টাকাগুলো সব উকিল বাবুকে দিয়ে দেওয়া হয়েছে। মামলা চলছে। শেষের দিকে ৩৯০০০/৩৯৫০০ টাকা আমরা ক্যাশ পেয়েছি, সম্ভবত তার রিসিট দেওয়া হয় নি, তবে ফেসবুকে লিখে তার একটা প্রাপ্তি স্বীকার করা হয়েছে।

লোচন বাবু বা নাকি নিশীথ বাবু আমাকে কোনো টাকা দেন নি কিন্তু আমাকে অস্বচ্ছ বলে প্রমাণ করার চেষ্টা করেছেন, কয়েকজন চামচা তাতে নেচেও উঠেছেন। তা টাকা যদি উনি উত্তম কবিকে দিয়ে থাকেন, তাহলে রিসিটটা কি আপনার তার কাছ থেকে চেয়ে নেওয়া উচিত নয়? বা উত্তম অথবা আমার কাছে চেয়ে কি আপনি রিসিট পান নি? তাছাড়া রিসিট পেলেই কি হিসাব মিটে যায়? রিসিট দেওয়া নেওয়া দুই পক্ষের জন্য উচিত কাজ, তবুও, তার পরেও একটা হিসাব থাকে। দিতে হয়, নিতে হয়। আমরা সেটা করি। অভিযোগ করার আগে বুদ্ধিমান লোকে এসব খবর নেন। জন সমুদ্রের মাঝে থাকলে এই বোধ জন্মায়, আবার শুধু সমুদ্রে থেকে কারুর কারুর তাতে বিকৃতিও যে হয়, তা বুঝলাম।

উত্তম ৪০০০/৪৫০০ টাকা ক্যাশ দিয়েছিল বলে মনে পড়ে। আর ১০০০০ টাকার একটি চেক উকিলের নামে এবং একাউন্ট পেয়ি। হতে পারে তার মধ্যে আপনার ৫০০০ টাকা ছিল। তা আপনার টাকা চুরি করে খাবার সুযোগ পাই নি। দুর্ভাগ্য আপনার এত বড় সুযোগ আপনার হাতছাড়া হলো! অতো ছোট মন নিয়ে এতটা বড় কথা লেখেন! সুপ্রীমকোর্টে মামলা করেছেন কখনো? কি লাগে জানেন? সুকৃতি চোর বলে তার কথায় উকিল বিনা টাকায় কেস লড়ছে! আমরা তার যাতায়াত খরচের সবটা দিতে পারি না, তাই চুরি করার সুযোগ পাচ্ছি কই! আর কেসটা আমার জন্য নয়, উদ্বাস্তুদের নাগরিকত্বর জন্য। ৫০০০ টাকা যদি অনেক ভারী মনে হয়, কষ্টবোধ হয়, আমি নিজের থেকে ওটা ফেরত দিয়ে আপনার কষ্ট লাঘব করতে রাজি আছি। আপনি কি রকম আর্থিক সহযোগিতা করা লোক, তা ৫০০০ টাকার কষ্টে বোঝা যায়!

লোচন আমার ব্যক্তি স্বার্থের কথা বলেছেন। সেটা কি? নির্দিষ্ট করে বললে আমার এবং ফেসবুক বন্ধুদের সুবিধা হয়। আমি আপনাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলছি, কোনো ক্ষেত্রে তা যদি প্রমান করতে পারেন, তাহলে আমি সব কিছু ছেড়ে দেব। আর যদি না পারেন, তাহলে আপনি ভুল স্বীকার করতে রাজি কি না?

আমি দলিত এবং মুসলিমদের মধ্যে রাজনৈতিক ঐক্যের কথা বলি। আপনি তার বিরোধী! আপনি আন্তর্জাতিক গুরুচাঁদ মিশন করেছেন। কিন্তু জানেন না যে, গুরুচাঁদ এই ঐক্যের কথা বলেছেন ও নিজের জীবনে অনুশীলন করেছেন। আম্বেদকর তাই বলেছেন। যোগেন্দ্র নাথ তাই করেছেন এবং সমাজ তাতে উপকৃত হয়েছে।

আম্বেদকরের মাহাদ সত্যাগ্রহে বিশেষ সহযোগিতা ছিল মুসলমানের। গোলটেবিল বৈঠকে গান্ধী তথা উচ্চবর্ণ হিন্দুদের সাথে লড়াইয়ে আম্বেদকরের পাশে দাঁড়ান মুসলমানরা। মুসলমানদের সহযোগিতা ছাড়া যোগেন্দ্র নাথের পক্ষে আম্বেদকরকে গণ পরিষদে পাঠানো সম্ভব ছিলোনা। ১৯৩৫ সালে তফসিলিদের জন্য সংরক্ষণ নীতি তৈরি হয় ও সারা ভারতে লাগু হয়। কিন্তু শ্যামাপ্রসাদ ও কংগ্রেসের উচ্চবর্ণ হিন্দুদের চাপে বাংলায় তা লাগু করা সম্ভব হয় না। যোগেন্দ্র নাথ মুসলিম মন্ত্রিসভার সহযোগিতায় ১৯৪৩ সালে তা বাংলায় কার্যকরী করেন। তফসিলিদের স্টাইপেন্ড যোগেন্দ্র নাথ ওই ১৯৪৩ সালে মুসলমান মন্ত্রিসভার সহযোগিতায় চালু করেন। যোগেন বাবু মুসলমানদের সাথে ঐক্য করে ভালো করেছেন, না মন্দ করেছেন অথবা ঠিক করেছেন না ভুল করেছেন, তা এসব দিয়ে বুঝতে হবে। উচ্চবর্ণ হিন্দুদের সুরে যারা সুর মেলান, দালাল কি তারা নন!

লোচন সুবোধের সংগঠন করেন নি কিন্তু মুসলিম বিদ্বেষ প্রচারের জন্য টাকা দিয়েছেন। ব্রাহ্মণবাদকে পরাস্ত করতে যে জোট দরকার, বর্ণ বাদীদের মদতে তা ভাঙতে উনি মদত দিয়েছেন।

বাইনবাবু একদিন আসুন, হিসাব দেব। আর সমর বাবুর ওষুধ তিতা কিনা সেটাও পরীক্ষা করে দেখা যাবে। আর উৎপল বাবু কি মেঘনাদ, মেঘের আড়ালে থেকে লড়াই করছেন?

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

তৃণমূল নেত্রী ফের সংসদে

যদা যদা হি ধর্মস্য... গীতার এই শ্লোকে ঠিক কী বলা হয়েছে?

ভাতে কেরোসিন যাত্রাপুরে, অভিযোগ বাংলাদেশী