মনোরঞ্জন ব্যাপারীর নুতন চোখ ও পথ

মনোরঞ্জন ব্যাপারীর একটি পোস্টের জবাবে লিখেছি  

মনা দা, আমি আপনার ল্যাজ ধরে মোড়াই নি, শুধু ল্যাজে একটু হাত ছুইয়েছি। কিন্তু আপনি ছাটি মারলেন দুপা তুলেই। মুশকিল হলো --- আপনি সবাইকে শত্রু ভাবছেন, তাই সজোরে গুঁতো মারতে পারছেন, নিজের জন ভাবায় অন্যেরা তা পারছেন না। আমি একথা বলছি ফেসবুকে যা দেখছি, তা নিয়ে।

ফেসবুকে আপনার পোস্ট দেখছিলাম যে, আপনি নাকি জয়পুরে সবাইকে ও সবকিছুকে ধুয়ে দিচ্ছেন কিন্তু তারপর আবিষ্কার হলো --- আপনাকে জয়পুর ধুয়ে-মুছে অনেকটাই সাফ-সুতরো করে নিতে পেরেছে। অন্তত আপনার ঘোষণা, " জয়পুর আমাকে দেখার নুতন চোখ দিয়েছে" -- এই কথা আপনি নিজে ঘোষণা করার পর আর কারুর মনে সংশয় থাকার কথা নয়।

আপনি ফেসবুকের পাতায় স্পষ্ট ঘোষণা করলেন, " আজ (জয়পুর থেকে ফেরার পর থেকে) থেকে আমার নুতন পথে নুতন যাত্রা শুরু" । --- এসব পড়ে ও শুনে উৎসা ও অন্য দুএকজনের বুক দুরু দুরু করেছে, কিন্তু সেটা কি অযৌক্তিক? সেকথা ঠারে ঠারে আপনাকে জানানোয় আপনি শক্তিশেল ছুড়লেন --- ভাবখানা এমন যে, অন্য কেউ যেন আর টু শব্দ না করেন। কিন্তু একমাত্র আপনি সাহসী ও লড়াকু সৈনিক, তা কি প্রকৃতিতে হয়!---হয় না।

উচ্চবর্ণ সমাজের বাধা অযোধ্যার পাহাড়, আর দলিত সমাজের বাধা হিমালয়ের মতো --- একথা বলার পর দুকথা না লেখা কি উচিত কাজ হতো? আপনি যেভাবে দলিতদের মধ্যে দুকলম লেখাপড়া জানা গোটা লোকগুলোর প্যান্ট ধরে টানছেন তা খুলে নেবার জন্য, তারপরও মৃদু প্রতিবাদ না করলে আপনিতো প্যান্ট খুলে নিয়েই দৌড় লাগাবেন!

আপনি মার্কসের শ্রেণী বোঝেন --- গরিব-ধনী, শোষক-শোষিত বোঝেন; কিন্তু একই সাথে আম্বেদকর বোঝেন--- এই দাবি করে আম্বেদকরের চিন্তা-চেতনাকে নস্যাৎ করছেন, বর্ণ নির্যাতনের প্যাচ অস্বীকার করার কায়দা শেখাচ্ছেন। এভাবে দলিত আন্দোলনের ভিত্তিটাই গুঁড়িয়ে দেবার মশলা মাখানোর কাজ চলছে --- মনোরঞ্জন বাবুর মতো বিখ্যাত কিন্তু দরিদ্র রিকশাওয়ালার জীবনের অভিজ্ঞতাতো ফেলনা নয়!

আর এস এস- র ভালো মানুষগুলির সাথে ফটো পোস্ট করা দিয়ে শুরু। এখন দেখছি আরো দুএকজন দাদা দিদির সাথে ছবি। না, তাতে তেমন কোনো সমস্যা নেই; কিন্তু এটা আপনার  নুতন যাত্রাপথের সোনালী রেখা হয়ে ওঠে  কিনা, সেটা মানুষ যদি হিসাবে রাখেন, তাহলে তাঁদের দোষ দেওয়া যাবে কি!

পকেটের টাকা খরচ করে বই যাঁরা ছাপেন, অথচ  পাঠক নেই, তাঁরা তা না করে, যাঁর বই লোকে পড়েন, তাঁকে তা দিলে, সমাজ উপকৃত হতো --- এমন দাবি কেউ করতেই পারেন এবং তাতে অনেক ভক্ত সমর্থনও করতে পারেন কিন্তু কী করা যাবে, এমন মহানুভবতা সমাজ আজও অর্জন করতে পারে নি!

তবে তিনি যে বলছেন ৫০ জন পাঠক নেই কারুর, এটা ঠিক বলেন নি। দলিতদের মধ্যে পাঠক কম, সেটা একটা সমস্যা ঠিকই, তবুও একটা কথা জোর দিয়ে বলতাম, যদি জানতাম মনা দার সবচেয়ে বিক্রিত বইটির কত কপি বিক্রি হয়েছে। আমি তার এই বইটি ২৫/৩০ কপি কিনে বিলি করেছি। এমন অবশ্যই আরো অনেকে আছেন, দোকান থেকেও ভালো বিক্রি হয়েছে, কিন্তু কত? এই অধমের ৫/৬ বই ২ থেকে ৪ বার পর্যন্ত নুতন করে ছাপা হয়েছে বা সংস্করণ বেরিয়েছে। ১০০০/২০০০ করে প্রতিবার ছাপা। একটি পুস্তিকা ১০০০০ কপি করে দুবার এবং ৫০০০ কপি একবার ছাপা হয়েছে এবং বিক্রি হয়েছে। কিন্তু কোনো বইয়ের দোকানের ঠিকানা নেই, ব্যবসায়ী প্রকাশক নেই । আরো কয়েকজনের কিছু বই যথেষ্ট ভালো বিক্রি হয়েছে ও হয়। মনা দা হয় জানেন না, না হলে দম্ভে অন্ধ হয়ে গেছেন। তা ছাড়া পকেটের পয়সায় যাঁরা বই ছাপেন, তাঁরা কি নিন্দা কুড়ানোর কাজ করছেন? এ নিয়ে কটাক্ষ? একজন লেখকের এটুকু জ্ঞান থাকবে, এটা কি আশা করা যায় না?

মনা দার মূল অভিযোগ মনে হয় আমার বিরুদ্ধে নয়। অন্তত দুদিন আগে পর্যন্ত নয়। যাঁদের মনা দা  শত্রু ভাবেন ও বলছেন, তাঁদের কেউ কিন্তু অন্তত ফেসবুকে মনা দার বিরুদ্ধে তেমন কিছু বলেছেন, আমার চোখে পড়ে নি। তিনি একতরফা লিখে যাচ্ছেন, গালি দিচ্ছেন। গোটা লেখাপড়া জানা দলিত সমাজকে ধুয়ে দিচ্ছেন, আর বলছেন যে, তিনি আক্রান্ত! --- দাদা এটা বন্ধ করুন। নিজের সমাজের স্বার্থেই তা করুন, তাতে নিজেরও ভালো হবে।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

তৃণমূল নেত্রী ফের সংসদে

যদা যদা হি ধর্মস্য... গীতার এই শ্লোকে ঠিক কী বলা হয়েছে?

ভাতে কেরোসিন যাত্রাপুরে, অভিযোগ বাংলাদেশী