পোস্টগুলি

এপ্রিল, ২০১৭ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

সমর্থনের ভিত্তি বাড়াও

উদ্বাস্তু আন্দোলনের বর্তমান পর্যায় অর্থাৎ এখনো পর্যন্ত শেষ পর্যায়ের একজন কর্মী আমি। ২০০৩ সালে তখন বি জে পি নেতৃত্বাধীন এন ডি এ সরকার। অটলবিহারি তখন প্রধানমন্ত্রী। ঐ সরকার নাগরিকত্ব আইন সংশোধনের জন্য একটি বিল আনে এবং বিলের উপর জনগণের মতামত চাওয়া হয়। এটা ২০০৩ সালের সেপ্টেম্বর/অক্টোবর মাসের ঘটনা। আমার স্কুল ছাত্র জীবন পূর্ব পাকিস্তানে। তখন আয়ুব খানের বিরুদ্ধে উত্তাল ছাত্র সমাজ। আমি বামপন্থি ছাত্র রাজনীতির দ্বারা প্রভাবিত হয়ে পড়ি। ঐ ভাবনার সাথে জড়িয়ে যায় আম্বেদকরের মতাদর্শ। ভারতে চাকরি সূত্রে এটা হয়। ২০০৩ সালে জড়িয়ে যায় উদ্বাস্তু আন্দোলনের সাথে। এটা হয়েছিল অমরদার জন্য। অমর বিশ্বাস আয়কর কমিশনার। তিনি একদিন নেট থেকে বিলটির কপি নিয়ে আমাকে দেন। তখন নেট --- আমি এবং অনেকেই বুঝতাম না। ওটা পড়ে বোঝার চেষ্টা করি। দিল্লি গিয়ে সাংসদ আর এস গভাইকে ঐ বিলের বিরোধিতা করার জন্য অনুরোধ করি। তিনি রাজি হন। তিনি তা করেছিলেন। তখন আর পি আই- এর ৪ জন সাংসদ। গভাই সাহেব মারা গেছেন। পরে তিনি বিহার ও কেরলের রাজ্যপাল হয়েছিলেন। এভাবে আমার উদ্বাস্তু আন্দোলনে আসা। এই সমস্যাটা বাঙালদের। কিন্তু নানা কথা ভেবে ঘটি ও মুসলমান...

পূর্ব বঙ্গের হিন্দুরা কেন দেশত্যাগ করেন (শেষ কিস্তি)

তথাগত বাবু আনন্দবাজারের পর্যবেক্ষণ ছেপে দিয়ে নিজে মন্তব্য করেছেন, " তাহলেও আনন্দবাজারের এই বক্তব্যের সাথে একমত হওয়া কঠিন, যে অর্থনৈতিক সংকটের ফলেই হিন্দুরা পূর্ববঙ্গ ছাড়ছিলেন। ছাড়ার প্রধান ও মূল কারণ ছিল হিন্দুদের নিরাপত্তাবোধ সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাওয়া। এই নিরাপত্তাবোধের অভাব একেবারে হিন্দুদের মস্তিষ্কের ও হৃদয়ের কেন্দ্রস্থল পর্যন্ত পৌঁছেছিল। নিরাপত্তার অভাব ছিল সর্বব্যাপী --- জীবনের নিরাপত্তা, সম্পত্তির নিরাপত্তা, ধর্মীয় নিরাপত্তা এবং সর্বোপরি বাড়ির মেয়েদের নিরাপত্তা "। আমার মনে হয় সবটা মিলিয়েই মানুষের দেশত্যাগ --- যে কথা আগেই আলোচিত হয়েছে। মিথ্যা কেসে ফাঁসানো, বিনাবিচারে আটক, খানাতল্লাশি --- এসব কারণগুলিকে আলাদা করে দেখে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না। কারণ ভারতে এজাতীয় ঘটনা অহরহ হচ্ছে, বরং আরো বেশি কিছু হচ্ছে; কিন্তু মানুষ কি ভারত ত্যাগ করে পালাছেন ?  --- পালাচ্ছেন না। কিন্তু সে যাহোক, বাস্তবত ১৯৫০ সাল পর্যন্ত এইসব আশংকার কোনটি বাস্তবে হয় নি। কিন্তু তবুও ১৯৭০ সাল পর্যন্ত মোট যত মানুষ পূর্ব পাকিস্তান ত্যাগ করেন তার দুই তৃতীয়াংশ মানুষ ১৯৫০ সালের আগেই চলে আসেন। সে জন্য মুসলমানদ...

বাল্যবিবাহ প্রসঙ্গে স্বামী বিবেকানন্দ

বিবেকানন্দ নিচের কথাগুলি বলছেন। যারা তাঁকে আধুনিক ও প্রগতিশীল ভাবেন, তারা কিছু বলবেন ---- বাল্যবিবাহ প্রথা যে সকল ভাব হইতে উদ্ভূত হইয়াছে, সেই সকল ভাব অবলম্বন করিয়াই প্রকৃত সভ্যতার সঞ্চার হইতে পারে, অন্য কিছুতেই নহে। যদি পুরুষ বা নারীকে ওপর যেকোনো নারী বা পুরুষকে পত্নী বা প্রতিরূপে গ্রহণ করিবার স্বাধীনতা দেওয়া হয়, যদি ব্যক্তিগত সুখ ও পাশবপ্রকৃতির পরিতৃপ্তি সমাজে অবাধে চলিতে থাকে, তাহার ফল নিশ্চয়ই অশুভ হইবে --- দুষ্টপ্রকৃতি অসুরস্বভাব সন্তানসমূহের উৎপত্তি হইবে।...ভারতীয় বাল্যবিবাহ প্রথার পশ্চাতে এই সকল উচ্চতর ভাব ও তত্ত্ব রহিয়াছে --- কোষ্ঠিতে বরকন্যার যেরূপ 'জাতি', 'গণ'  প্রভৃতি লিখিত থাকে, এখনো তদনুসারেই  হিন্দু সমাজে বিবাহ হয়। আর প্রসঙ্গক্রমে ইহাও বলিতে চাহি যে, মনুর মতে কামোদ্ভুত সন্তান আর্য নহে। যে সন্তানের জন্মমৃত্যু বেদের বিধানানুযায়ী, সেই প্রকৃতপক্ষে আর্য (খন্ড ৫, পৃষ্ঠা ২৪১-৪২)

পূর্ব বঙ্গের হিন্দুরা কেন দেশত্যাগ করেন (৩য় কিস্তি)

পূর্ব পাকিস্তান থেকে দেশান্তরণের অর্থনৈতিক কারণও ছিল। এমন বহু গরিব মানুষ দেশান্তরিত হয়েছেন যারা ওদেশে নিঃস্ব ছিলেন। তারা যখন ভারতে পুনর্বাসনের সুবিধা পাবার কথা শুনলেন, অনেক পরিবার ভাগ্য অন্বেষণে বেরিয়ে পড়েন। ব্যক্তিগতভাবে আমি নিজের গ্রাম ও পার্শবর্তী গ্রামের অনেক পরিবারের কথা জানি --- যারা (নমো পরিবার) ১৯৬৫/৬৬ সালের আগে দেশ ত্যাগ করেছেন, তাদের মধ্যকার অধিকাংশই নিতান্ত গরিব ভূমিহীন ছিলেন। দরিদ্রতা থেকে মুক্তির আশায় তারা একটা ঝুঁকি নিয়েছিলেন। দাঙ্গা হাঙ্গামার জন্য যেমন কিছু মানুষ দেশান্তরিত  হয়েছেন, তেমনি কিছু মানুষ অজন্মা, বন্যা, জলাবদ্ধতা, দুর্ভিক্ষের জন্যেও দেশ ত্যাগ করেছেন। কলকাতা ও বড় শহরে মজুরের কাজ পাবার আশায় একটা সময় পর্যন্ত বহু মানুষ এসেছেন। হিন্দুরা এসেছেন পরিবার নিয়ে পাকাপাকিভাবে, আবার সংখ্যায় অল্প হলেও কিছু নিরক্ষর, অসহায়, গরিব মুসলমান মানুষও একটা সময় পর্যন্ত এসেছেন কাজের খোঁজে। তারা কেউ পরিবার নিয়ে, কেউ আংশিক পরিবার নিয়ে। তারা পাকাপাকিভাবে ভারতে থাকার ইচ্ছা নিয়ে আসেন নি এবং অধিকাংশ ফিরেও গেছেন। কিন্তু হতে পারে নিশ্চিত কোনো আয়ের সংস্থান হয়ে যাওয়ার কিছু মুসলমান পরিবার হয়তো...

পূর্ব বঙ্গের হিন্দুরা কেন দেশত্যাগ করেন(২য় কিস্তি)

তথাগত বাবু সন্দ্বীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে উদ্ধৃত করেছেন। সন্দ্বীপ বাবুর মতে, " ১৯৪৮-৪৯ সালে হিন্দুদের পূর্ববাংলা ছাড়ার মূল কারণ এইটাই যে, তারা স্বাধীনতা পরবর্তী পরিস্থিতি মেনে নিতে পারছিলেন না এবং একথা সত্য যে, স্বাধীনতা বা দেশভাগের আগে হিন্দুরা মুসলমানদের তুলনায় যে রকম সামাজিক উচ্চতায় বাস করতেন, সেখান থেকে তাদের পতন অবশ্যম্ভাবী ছিল এবং হয়েওছিল "। তথাগত বাবুর উদ্ধৃত হিরন্ময় বন্দোপাধ্যায় এই সামাজিক উচ্চতা থেকে পতনের বেশ কিছু উদাহরণ দিয়েছেন। " বিক্রমপুরের একজন ব্রাহ্মণ ভারতে চলে যাবেন বলে সিদ্ধান্ত করেছিলেন তার কারণ, তার পরিচিত এক মুসলমান ভদ্রলোক একদিন তার সঙ্গে দেখা করতে এলেন এবং তার সামনে রাখা একটি বেঞ্চিতে বসলেন। স্বাধীনতার আগে হলে তিনি মাটিতে বসতেন। অবস্থাপন্ন হিন্দুরা বেশ অস্বস্তিবোধ করতেন এই দেখে, যে মুসলমানরা এখন তাদের নাম ধরে ডাকছে, সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে চোখে চোখ রেখে কথা বলছে --- স্বাধীনতার আগে তাদের কাছে যা অকল্পনীয় ছিল। ফরিদপুর জেলার মাদারীপুর মহকুমার (বর্তমানে জেলা) পালং থানার কাকদ্বীপ গ্রামের অনেক হিন্দু মনে করেছিলেন যে, তারা আগে মুসলিমদের যেরকম অপমান করতেন, তারা এইবার...

পূর্ববাংলার হিন্দুরা কেন দেশত্যাগ করেন

তথাগতবাবু পূর্ববঙ্গের হিন্দুদের দেশত্যাগের কারণ বোঝাতে ' যা ছিল আমার দেশ ' নামে বেশ বড় আকারের একটি বই লিখেছেন। তিনি প্রমান করার চেষ্টা করেছেন যে, মুসলমানদের অত্যাচারে পূর্ববঙ্গের হিন্দুরা দেশত্যাগ করে ভারতে এসেছেন। তিনি হিন্দুদের উপর বীভৎস অত্যাচারের নানা কাহিনী বলার চেষ্টা করেছেন --- যাতে তা আজকের হিন্দুত্ববাদীদের প্রচার ও দাবির সাথে মিলে যায়। কিন্তু কোনো পাঠক যদি তার বইটি মনোযোগ দিয়ে পড়েন এবং বিশ্লেষণ করেন, তাহলে দেখা যাবে তার দাবি পুরোপুরি ঠিক নয়। তিনি যে সমস্ত তথ্য এই বইয়ে উল্লেখ করেছেন এবং তার উপর নির্ভর করে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন --- তা বহু ক্ষেত্রে পরস্পর বিরোধী। আমি মূলত তার বইয়ে যে সব তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে এখানে তার কিছু কিছু তুলে ধরবো --- যাতে পূর্ববঙ্গের হিন্দুদের দেশত্যাগের মূল কারণ অনেকটাই বোঝা যাবে। মুসলমানদের অত্যাচার যে আসল কারণ নয় --- এই সত্য উদঘাটিত হবে। তথাগত বাবু লিখেছেন, " ১৯৫০ এর আগে পর্যন্ত হিন্দুরা পূর্ব পাকিস্তান ছাড়ছিলেন কিছু অত্যাচারিত হয়ে কিন্তু বেশিরভাগ নিরাপত্তাবোধের অভাবে। এদের মধ্যে একটা অংশ ছিলেন উচ্চবর্ণের অর্থাৎ ব্রাহ্মণ-কায়স্থ-বৈদ্য বা ...

ডঃ আম্বেদকরের উপর প্রবন্ধ

ছবি
ডঃ আম্বেদকরের পূর্ব পুরুষেরা বসবাস করতেন মহারাষ্ট্র প্রদেশের কোঙ্কণ রিজিওনে । কিন্তু তাঁর জন্ম হয় মধ্যপ্রদেশের ইন্দরের কাছাকাছি মউ জেলায় । সময়কাল ১৮৯১ সালের ১৪ই এপ্রিল । ঐ সময়ে ডঃ আম্বেদকরের বাবা রামজি শকপাল ব্রিটিশ সেনাবাহিনিতে চাকরি করতেন এবং সেইসুত্রে মধ্যপ্রদেশে কর্মরত ছিলেন । ডঃ আম্বেদকরের বাবা ছিলেন আর্মি অফিসার , সুবেদার মেজর এবং মিলিটারি স্কুলের অধ্যক্ষ । তিনি ইংরেজিতে সুদক্ষ ছিলেন এবং এই বিদ্যা ডঃ আম্বেদকর তাঁর বাবার কাছ থেকে ভালভাবে রপ্ত করেন । ডঃ আম্বেদকরের ঠাকুরদার নাম ছিল মালোজি শকপাল , তিনিও ব্রিটিশ সেনাবাহিনির অফিসার ছিলেন । শুধু তাই নয় , ডঃ আম্বেদকরের ৭ জন দাদু ( মায়ের বাবা - কাকা ), সবাই সেনা অফিসার ছিলেন এবং এই দুটি পরিবারই ছিল উদার কবির পন্থি । পরিবারের এই উদার মনোভাব ডঃ আম্বেদকরের মধ্যেও প্রভাব ফেলে । ডঃ আম্বেদকর ১৪ জন ভাইবোনের মধ্যে সবচেয়ে ছোট । মাত্র ৬ বছর বয়সে তিনি তাঁর মাকে হারান । তারপর পিসিমা মীরাবাঈ - এর কাছে তিনি আদর - যত্নে বড় হতে থাকেন । ডঃ আম্বেদকরের পুরো নাম ভীমরাও রামজি আম্বেদকর , তাকে ছোটবেলায় ভীম নামেই ডাকা হতো । আম্বেদকর পদবী তা...