পূর্ব বঙ্গের হিন্দুরা কেন দেশত্যাগ করেন (শেষ কিস্তি)
তথাগত বাবু আনন্দবাজারের পর্যবেক্ষণ ছেপে দিয়ে নিজে মন্তব্য করেছেন, " তাহলেও আনন্দবাজারের এই বক্তব্যের সাথে একমত হওয়া কঠিন, যে অর্থনৈতিক সংকটের ফলেই হিন্দুরা পূর্ববঙ্গ ছাড়ছিলেন। ছাড়ার প্রধান ও মূল কারণ ছিল হিন্দুদের নিরাপত্তাবোধ সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাওয়া। এই নিরাপত্তাবোধের অভাব একেবারে হিন্দুদের মস্তিষ্কের ও হৃদয়ের কেন্দ্রস্থল পর্যন্ত পৌঁছেছিল। নিরাপত্তার অভাব ছিল সর্বব্যাপী --- জীবনের নিরাপত্তা, সম্পত্তির নিরাপত্তা, ধর্মীয় নিরাপত্তা এবং সর্বোপরি বাড়ির মেয়েদের নিরাপত্তা "।
আমার মনে হয় সবটা মিলিয়েই মানুষের দেশত্যাগ --- যে কথা আগেই আলোচিত হয়েছে। মিথ্যা কেসে ফাঁসানো, বিনাবিচারে আটক, খানাতল্লাশি --- এসব কারণগুলিকে আলাদা করে দেখে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না। কারণ ভারতে এজাতীয় ঘটনা অহরহ হচ্ছে, বরং আরো বেশি কিছু হচ্ছে; কিন্তু মানুষ কি ভারত ত্যাগ করে পালাছেন ? --- পালাচ্ছেন না। কিন্তু সে যাহোক, বাস্তবত ১৯৫০ সাল পর্যন্ত এইসব আশংকার কোনটি বাস্তবে হয় নি। কিন্তু তবুও ১৯৭০ সাল পর্যন্ত মোট যত মানুষ পূর্ব পাকিস্তান ত্যাগ করেন তার দুই তৃতীয়াংশ মানুষ ১৯৫০ সালের আগেই চলে আসেন। সে জন্য মুসলমানদের অত্যাচারই যে হিন্দুদের দেশত্যাগের প্রধান কারণ --- একথা প্রচার করা যায় কিন্তু প্রমান করা যায় না, কারণ তা সত্য নয়।
তথাগত বাবু লিখেছেন, " কিছু নেতা পূর্ববঙ্গে থেকেও গেলেন। সম্ভবত এরা ভেবেছিলেন যে, দেশত্যাগের পরেও বহু হিন্দু পূর্ববঙ্গে থেকে যাবেন এবং তাদের নেতৃত্ব দেবার জন্য তাদের থেকে যাবার প্রয়োজন আছে। এদের মধ্যে অগ্রগণ্য ছিলেন যোগেন্দ্রনাথ মন্ডল (বরিশাল), ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত , কামিনীকুমার দত্ত (কুমিল্লা), সতীন্দ্রনাথ সেন (বরিশাল), বসন্তকুমার দাস (সিলেট), প্রভাষচন্দ্র লাহিড়ী (রাজশাহী) ইত্যাদি। এদের সকলকেই শেষ পর্যন্ত রাজনীতি ছাড়তে হয়েছিল --- কয়েকজনকে অত্যন্ত করুন অবস্থায় এই পৃথিবীও ছাড়তে হয়েছিল।
রাজশাহীর প্রভাষ লাহিড়ী এবং সিলেটের বসন্ত দাস পূর্ব পাকিস্তানে কিছুটা সফল হয়েছিলেন। কিন্তু 1958 সালে সামরিক শাসন জারি হবার পর তাদের এবরো করা হয় এবং তারা ভারতে চলে আসেন " ।
একটু লক্ষ্য করার যে, কি জাতীয় অত্যাচারে মানুষ দেশছাড়া হচ্ছেন। তথাগত বাবু এ সবকেই অত্যাচারের উদাহরণ হিসাবে তুলে এনেছেন। এবরো (EBDO) অর্থাৎ Elected Bodies Disqualification Order । আয়ুব খান সামরিক শাসনকালে সমস্ত জনপ্রতিনিধিকে বাতিল করেছিলেন। এই সামরিক শাসন ও EBDO তে কি শুধু হিন্দুরা বাতিল হয়েছিলেন বা সমস্যায় পড়েছিলেন? ইন্দিরা গাঁধীর ইমার্জেন্সির সময় কি মুসলমানরা দেশ ছেড়ে পালিয়েছিলেন?
তথাগত বাবুরা সব সময় বলতে চান যে, মুসলমানরা আল্লাহ বললেই নাকি সব এক হন। তাহলে পূর্ব বাংলার মুসলমানরা বিহারি মুসলমানদের সাথে বা বিহারি মুসলমানরা কেন বাঙালি মুসলমানদের সাথে একাত্ব হতে পারলেন না ! কেন বাঙালি মুসলমানরা পশ্চিম পাকিস্তানের মুসলমানদের সাথে একদেশে মিলেমিশে একসাথে থাকতে পারলেন না !
তথাগতবাবু বলছেন, " এই সময় হিন্দুদের পূর্ব পাকিস্তান ছেড়ে পালাবার অন্যতম কারণ ছিল মেয়েদের সন্মান রক্ষা করা। প্রাকযৌবনা, যৌবনবতী, এমনকি গতযৌবনা হিন্দু মহিলারাও যে রকম ধ্বনি ও ইঙ্গিতের সম্মুখীন হচ্ছিলেন, তাতে তারা বাড়ি ছেড়ে বেরোতেই ভয় পাচ্ছিলেন। পূর্ববঙ্গের হিন্দু মহিলারা, বিশেষ করে শহরের মহিলারা এই সময় পশ্চিমবঙ্গের মহিলাদের তুলনায় অনেকটাই এগিয়ে ছিলেন, অনেকেই কলেজে পড়তেন, পথেঘাটে যাতায়াত করতেন। মুসলমান ছেলেছোকরা, এমনকি বয়স্ক লোকের কার্যকলাপের ফলে তা একেবারে বন্ধ হয়ে গেলো (উত্তর প্রদেশে যোগীরাজের রোমিওদের উৎপাত স্মরণ করুন। মানুষ কি তাহলে উত্তর প্রদেশ বা ভারত ছেড়ে পালাবেন ! তথাগতবাবুর বীভৎস মুসলমানের অত্যাচারের কাহিনী এসব !)
আবুল মনসুর আহমদের (সচেতন রাজনীতিক বলে তথাগতবাবু তার বইয়ে পরিচয় উনার পরিচয় দিয়েছেন) কিছু লেখা তথাগতবাবু উদ্ধৃত করেছেন, " এটা ঐতিহাসিক সত্য যে, পূর্ববাংলায় অন্যান্য স্থানের তুলনায় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা খুবই কম হইয়াছিল --- একরূপ হয় নাই বলিলেও চলে। কিন্তু একটু তলাইয়া দেখিলেই বোঝা যাইবে যে, পূর্ব বাংলার হিন্দুদের মধ্যে বাস্তুত্যাগের হিড়িক পড়িয়াছিল। সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার ভয়ে নয়, অন্য কারণে। পাকিস্তানের রাষ্ট্রনায়ক ও মুসলিম লীগ নেতৃবৃন্দের অন্তঃসারশূন্য ' ইসলামী রাষ্ট্র ' ও শরিয়তি শাসনের ভয়ে হিন্দুরা সত্যিই ঘাবড়ে গিয়েছিলো। জানের ভয়ে নয়, মানের ভয়ে। ধর্ম ও কালচার হারাইবার ভয়ে। অর্ধ শতাব্দী ধরিয়া যে হিন্দুরা দেশের আজাদীর জন্য জান-মাল কোরবাণী করিয়াছে স্বাধীন হবার পরে তারাই নিজেদের ধর্ম ও কৃষ্টি-সংস্কৃতি লইয়া সসম্মানে দেশে বাস করিতে পারিবে না, এটা মনের দিক হইতে তাদের জন্য দুঃসহ।......... পাকিস্তানের রাষ্ট্রনায়কেরা শুধুমাত্র দাঙ্গা হাঙ্গামাহীন শান্তি স্থাপন করিয়াই মনে করিয়াছিলেন তাহাদের কর্তব্য শেষ হইলো "।
এই সময়কালের বিভিন্ন বর্ণনা তথাগতবাবুদের মনপছন্দ না হওয়ায় তিনি বিদেশিদেরও গালি দিতে ছাড়েন নি। তিনি লিখেছেন, " এই সময় কিছু সাদা চামড়ার বিদেশীও এই ব্যাপারে সম্পূর্ণ নীরব থেকেছেন। এদের মধ্যে একজন কানাডার ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয়ের কিথ ক্যালার্ড। তিনি বলছেন, কিছু ব্যতিক্রম ক্ষেত্র বাদ দিলে সাম্প্রদায়িক নির্যাতন (১৯৫০ দাঙ্গাসহ) প্রায় হয়ই নি। স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে, ক্যালার্ড নিজের চোখে কিছু দেখেন নি বা দেখার চেষ্টা করেন নি। সরকারি দলিল-দস্তাবেজ-এর উপর নির্ভর করে বই লেখা সেরেছেন "। --- তথাগতবাবু সরকারি দলিলের উপর নির্ভর করে বই লেখার জন্য ক্যালার্ডকে সমালোচনা করেছেন, সবাইতো ওভাবেই বই লেখেন। তিনি কিসের উপর নির্ভর করে এতবড় বইটি লিখলেন ? --- সত্যি বলতে গেলে, তথাগতবাবু সরকারি দলিল, প্রতিষ্ঠীত ঐতিহাসিক ও গবেষকদের সিদ্ধান্ত, এসব কিছুকে এক কথায় তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়ে নিজের ও সংঘের মতামত ইতিহাস বলে চালাতে চেয়েছেন।
এত সব বলার অর্থ এই নয় যে, পূর্ব পাকিস্তানে সংখ্যালঘু মানুষের উপর কোনো অত্যাচার হয় নি বা বাংলাদেশে এখন কোনো অত্যাচার হয় না অথবা তাদের উপর কোনো চাপ সৃষ্টি হয় না। নিশ্চয়ই হয় এবং আগেও হয়েছে। আমরা কেউ চাই না সংখ্যালঘুরা নির্যাতিত হোক, তবুও একথা ঠিক যে, পৃথিবীর প্রায় প্রতিটি দেশে সংখ্যালঘুরা সমস্যার মধ্যে থাকেন। কোথাও, কোনো দেশে এবং কোনো সময়ে তা কম। আবার কোনো দেশে এবং কোন সময়ে এই সমস্যা বাড়ে। ১৯৪৭সাল একটি কঠিন সময় ছিল। তবুও দেশের পশ্চিম প্রান্তে যা হয়েছিল, তা বাংলায় আটকানো গিয়েছিলো --- যা খুব সোজা কাজ ছিল না। এ অবস্থায় বলার এই যে, হিন্দুরা যদি দেশভাগের পর প্রথম থেকে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হয়ে সেদেশে থাকার চেষ্টা করতেন, হয়তো সেখানে থাকতে পারতেন। দেশত্যাগ করার জন্য শুধুই মুসলমানদের অত্যাচার বলে যা প্রচার চলছে, তা ঠিক নয়। বরং পূর্ব বঙ্গের হিন্দুদের দেশত্যাগ করার জন্য মুসলমানদের অত্যাচারের বিষয়টি একটি গৌণ ও প্রান্তিক কারণ।
তথাগতবাবুরা পূর্ব বঙ্গের হিন্দুদের উদ্ধার কর্তা হিসাবে শ্যামপ্রসাদকে তুলে ধরার অপচেস্টা করেন। কারণ হিসাবে বলেন --- তিনি নাকি বাংলা ভাগ করে পশ্চিম বঙ্গ সৃষ্টি করেছেন, তাই উদ্বাস্তুদের একটা নিজস্ব রাজ্য হয়েছে। প্রথমত বাংলা ভাগের জন্য শ্যামপ্রসাদের নগন্য ভূমিকা ছিল। সে সময়ে তাদের তেমন কোনো শক্তি ছিল না (এই প্রবন্ধের দাঙ্গা অংশে বিস্তারিত লিখেছি)। যাহোক, তর্কের খাতিরে এখানে আমি একটা সম্ভাবনার কথা বলব। --- বাংলায় ৪৫% হিন্দু ছিলেন। তারা শিক্ষা, চাকরি, সম্পদে অনেক এগিয়ে ছিলেন। তাই বাংলা ভাগ না হলে, বিশেষ করে স্বতন্ত্র-স্বাধীন রাষ্ট্র হলে বাঙালি হিন্দুদের দেশ ত্যাগ করতে হতো না। কিন্তু শ্যামা ও কংগ্রেসের একাংশ তার তীব্র বিরোধিতা করেন। বাংলা ভাগ না হয়ে দেশ ভাগ হলেও বাঙালিরা বিহার-উড়িষ্যা-অসম ও অন্য রাজ্যে যাবার জন্য দেশ ত্যাগ করতেন না। স্বাধীন বাংলার জন্য চেষ্টা করেছিলেন শরৎ বসু, যোগেন্দ্রনাথ, কিরণশংকর রায় প্রমুখ।
তথাগতবাবু এই বইয়ে লিখেছেন যে, এক কোটি হিন্দু উদ্বাস্তু হয়েছেন। তার মধ্যে অর্ধেকের কিছু বেশি উদ্বাস্তু আছেন পশ্চিমবঙ্গে। এই রাজ্যে অর্ধেকের বেশি নাগরিকত্ব ও অন্যান্য সমস্যায় জর্জরিত। বাংলার বাইরে বাকি প্রায় অর্ধেকের বাঙালি সত্ত্বা শেষ হতে বসেছে। অসমের বাঙালিরা নিরন্তর অত্যাচারের শিকার --- যে নির্যাতন বাংলাদেশের হিন্দুদের উপর যা হয় তার থেকে কম নয়, বরং বেশি। আর পৌনে দুই কোটি হিন্দু বাঙালি, আরো বেশি সংখ্যালঘু হয়ে বাংলাদেশে পড়ে আছেন। তাহলে শ্যামপ্রসাদের কাজের কি ফল হলো, তাকি অকাজ নয় !
১৯৫০ এর দাঙ্গা, ১৯৬৪ সালের দাঙ্গা বা ভোলা দ্বীপ ও রামুর ঘটনা --- এসব দাঙ্গা-হাঙ্গামা বাস্তব সত্য এবং নিন্দনীয় ঘটনা। এসব ঘটনার পুনরাবৃত্তি যে কোনো মূল্যে বন্ধ করতে হবে। সারা পৃথিবীর মানুষের মতো বাংলাদেশের অধিকাংশ মুসলমান এই ঘটনার নিন্দা করেছেন। তারাও এসব চান না। এসব ঘটনা পূর্ব বঙ্গের হিন্দুদের দেশত্যাগে উৎসাহিত করেছে --- এটা যেমন ঠিক; অন্যদিকে ভারতবর্ষের অসমের নেলী ঘটনা হয়েছে, ভাগলপুর, মীরাট, জামসেদপুর, মুম্বাই, গোরক্ষপুর, গুজরাট, মোজাফরনগর --- এসব নৃশংস ও ব্যাপক দাঙ্গার ঘটনা ঘটেছে। যে সব দাঙ্গার সাথে বাংলাদেশে যা কিছু ঘটেছে তার কোনো তুলনাই চলে না। কিন্তু একজন মুসলমানও দেশত্যাগ করার কথা ভাবেন নি। প্রতি দাঙ্গার ক্ষেত্রে অভিযোগ উঠেছে যে, সরকার ও প্রশাসন মুসলমানদের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্ব করেছে। তবুও মুসলনানরা চেয়েছেন যে, এসব বন্ধ হোক। তারা লড়াই করে এদেশেই থাকতে চান। তারা ভারতকে নিজের দেশ বলে বিশ্বাস করেন বলেই এই মনের জোর পান।
ভারত, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের হিন্দু-মুসলমানের মানসিকতার এই পার্থক্য হলো এক ঐতিহাসিক পরম্পরা । ভারতের অসংখ্য মুসলমান হিন্দুদের সাথে কংগ্রেসের পতাকাতলে ঐক্যবদ্ধ ভারতের জন্য লড়াই করেছেন। জমিয়তে উলামা হিন্দ --- ভারতীয় মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধমিও-সামাজিক সংগঠন। তার নেতা কর্মীরা হিন্দুদের সাথে অকাতরে জীবন দিয়েছেন স্বাধীনতার লড়াইয়ে। তারা হিন্দুদের সাথে একসাথে ভারতে বসবাস করতে চেয়েছেন। আর পূর্ববঙ্গের হিন্দুরা সব সময়েই ছিলেন হিন্দুস্তানের পক্ষে। এমনকি তারা বাংলা ভাগের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করেছেন এবং মনে প্রানে বাংলা ভাগ চেয়েছেন। তাই, দেশভাগের পর পূর্ববঙ্গকে নিজের দেশ বলে তারা গ্রহণ করতে পারেন নি। ভারতকে হিন্দুস্তান ভেবে নিজেরা তার সাথে একাত্ব হতে চেয়েছেন। --- আর এই সত্য সংঘ পরিবার ও তথাগত বাবু সঠিকভাবেই ধরতে পেরেছেন --- যার জন্য নিজের অসাবধানতার জন্য হলেও তিনি লিখিতভাৱে স্বীকার করেছেন দেশত্যাগের জন্য "আজকে (২০১৬) বাংলাদেশের হিন্দুর সমস্যাটা মুলত মনস্তাত্ত্বিক। কিন্তু কালকে সেটা মনস্তাত্ত্বিক থেকে রক্তাক্ততে পরিণত হতে পারে। এটাই সমস্যা "।
অর্থাৎ তথাগতবাবু বাংলাদেশের হিন্দুদের চরিত্রের দুর্বলতা এবং দেশত্যাগের মূল কারণ জানেন। তা তিনি প্রকাশ করেছেন এবং তাদের ভয় দেখিয়েছেন, আতংকিত ও সন্ত্রস্ত করার চেষ্টা করেছেন। অর্থাৎ ঘুরিয়ে দেশত্যাগে উৎসাহ দিয়েছেন। তারা এই ভয়ঙ্কর খেলায় মেতেছেন পশ্চিমবঙ্গের রাজ ক্ষমতা দখলের স্বপ্ন নিয়ে। এজন্য তারা যে মরীয়া, সে কথা ঘোষণা করে চলেছেন। তারা হয়তো ভাবছেন বাংলাদেশে দাঙ্গা হাঙ্গামা সৃষ্টি হলে এবং উদ্বাস্তু স্রোত এপার বাংলায় তাদের পক্ষে সমর্থনের ঢেউ বয়ে আনতে পারে।
কিন্তু আশার কথা হলো --- বাংলাদেশের হিন্দুদের নুতন প্রজন্ম ক্রমেই অন্যকিছু ভাবতে শুরু করেছেন। তারা মাতৃভূমিকে ভালোবেসে , মাতৃভূমির মাটি আঁকড়ে ধরে থাকতে চান --- এই অবস্থায় সেখানকার সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণকেও আজ তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে। বাঙালি হিসাবে ঐক্যবদ্ধভাবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার সুবর্ণ সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে হবে।---শেষ
( এরপর দাঙ্গা বিষয় নিয়ে লেখা)
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন