সমর্থনের ভিত্তি বাড়াও

উদ্বাস্তু আন্দোলনের বর্তমান পর্যায় অর্থাৎ এখনো পর্যন্ত শেষ পর্যায়ের একজন কর্মী আমি। ২০০৩ সালে তখন বি জে পি নেতৃত্বাধীন এন ডি এ সরকার। অটলবিহারি তখন প্রধানমন্ত্রী। ঐ সরকার নাগরিকত্ব আইন সংশোধনের জন্য একটি বিল আনে এবং বিলের উপর জনগণের মতামত চাওয়া হয়। এটা ২০০৩ সালের সেপ্টেম্বর/অক্টোবর মাসের ঘটনা।

আমার স্কুল ছাত্র জীবন পূর্ব পাকিস্তানে। তখন আয়ুব খানের বিরুদ্ধে উত্তাল ছাত্র সমাজ। আমি বামপন্থি ছাত্র রাজনীতির দ্বারা প্রভাবিত হয়ে পড়ি। ঐ ভাবনার সাথে জড়িয়ে যায় আম্বেদকরের মতাদর্শ। ভারতে চাকরি সূত্রে এটা হয়। ২০০৩ সালে জড়িয়ে যায় উদ্বাস্তু আন্দোলনের সাথে।

এটা হয়েছিল অমরদার জন্য। অমর বিশ্বাস আয়কর কমিশনার। তিনি একদিন নেট থেকে বিলটির কপি নিয়ে আমাকে দেন। তখন নেট --- আমি এবং অনেকেই বুঝতাম না। ওটা পড়ে বোঝার চেষ্টা করি। দিল্লি গিয়ে সাংসদ আর এস গভাইকে ঐ বিলের বিরোধিতা করার জন্য অনুরোধ করি। তিনি রাজি হন। তিনি তা করেছিলেন। তখন আর পি আই- এর ৪ জন সাংসদ। গভাই সাহেব মারা গেছেন। পরে তিনি বিহার ও কেরলের রাজ্যপাল হয়েছিলেন। এভাবে আমার উদ্বাস্তু আন্দোলনে আসা।

এই সমস্যাটা বাঙালদের। কিন্তু নানা কথা ভেবে ঘটি ও মুসলমান নেতৃবৃন্দকেও এই আন্দোলনের সাথে যুক্ত করার চেষ্টা করেছি। হিন্দু উদ্বাস্তুদের নাগরিকত্বের দাবিতে তারাও আন্দোলনে সামিল হয়েছেন। কিন্তু একটি তথাকথিত উদ্বাস্তু সংগঠনের মিথ্যা প্রচার ও অপপ্রচারের ফলে এই আন্দোলন খানিকটা ক্ষতিগ্রস্থ হয়।

বর্তমানে সংঘ পরিবারের হাক-ডাক, দাপাদাপি আরো বেড়েছে। তারা উদ্বাস্তুদের কাঁধে চেপে গাছে চড়ে বসার চেষ্টা করছে। হাতিয়ার করছে মুসলিম বিদ্বেষ। এই অবস্থায় মুসলিম নেতৃবৃন্দ যদি সত্যি হিন্দু উদ্বাস্তুদের প্রতি সহানুভূতিশীল হন এবং তারা যদি উদ্বাস্তুদের পাশে দাঁড়ান, তাহলে সমাজে একটি ভালো বার্তা যেতে পারে।

কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত ঘটনার গতি-প্রকৃতি উল্টো দিকে মোড় নিচ্ছে। মুসলমানরা নাগরিকত্ব (সংশোধনী) আইন, ২০১৬- এর বিরোধিতা করার কথা ভাবছেন। একটি যৌথ সভায় তারা সেরকম সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আমি খবরটির পরিপ্রেক্ষিতে একটি বড় চিঠি লিখি। দৈনিকটি ঐ চিঠিটা ছেপে দেয়। পুরো বিষয়টি ভালোভাবে না জানা-বোঝার জন্য হয়েছে বলে আমার মনে হয়। অসমে বাঙালি হিন্দু উদ্বাস্তুদের পাশে বাঙালি মুসলমানরা নেই, কোনো অসমীয়া মানুষও  নেই। ফলে তারা কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন। সবাইকে পাশে পাবার চেষ্টা হয়তো সেখানে ছিলোনা।

আমরা আবার একটি আন্দোলনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। অন্যদের সাথে মুসলমানদেরও এই আন্দোলনে সামিল করা দরকার। জমিয়তে উলেমা হিন্দ, সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশন, মুসলিম লীগ, জামাত ইসলাম হিন্দ, ওয়েলফেয়ার পার্টি, মিল্লি কাউন্সিল, পপুলার ফ্রন্ট, ফুরফুরা শরীফ, সুন্নাতুল জামাত কমিটি, মুসলিম ও বি সি কমিটি, মাদ্রাসা শিক্ষক সমিতি --- এসব সংগঠনকে যুক্ত করা ও তাদের সমর্থন পেলে ভালো হয়, দাবি আদায়ে সুবিধা হয়। সত্বর তাদের সাথে বসার চেষ্টা করা হবে।

অসমের বিভিন্ন সংগঠনকে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। গত পরশুর মিটিংয়ে আসতে পারেন নি কিন্তু আজ একটি গুরুত্ব পূর্ণ সংগঠনের নেতা বিধায়ক পুরকায়স্থ (শিলচর) এসেছিলেন। তারা থাকবেন। উজান অসমের নেতা জয়জিৎ দাসের সঙ্গে কথা হয়েছিল । তাদের সংগঠন থাকবে বলেছিলেন। আরো কিছু সংগঠনকে পাওয়া যেতে পারে। এখানকার কয়েকটি সংগঠন ইতিমধ্যে রাজি হয়েছে।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

তৃণমূল নেত্রী ফের সংসদে

যদা যদা হি ধর্মস্য... গীতার এই শ্লোকে ঠিক কী বলা হয়েছে?

ভাতে কেরোসিন যাত্রাপুরে, অভিযোগ বাংলাদেশী