বাংলাদেশী রেজিষ্টার অপসারিত

 ১৩ ডিসেম্বর, ২০০৭, আনন্দবাজার পত্রিকা


 অপসারিত রেজিস্ট্রার বাংলাদেশি, উত্তরবঙ্গে অভিযোগ উপাচার্যের


নিজস্ব সংবাদদাতা, কোচবিহার: অপসারিত রেজিষ্টার পরিমল সরকারের নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলে এ বারে পুলিশে অভিযোগ দায়ের করলেন উত্তরবঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মৃণালকান্তি মজুমদার। মঙ্গলবার তিনি কোচবিহার কোতোয়ালি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর অভিযোগ, পরিমলবাবু বাংলাদেশের নাগরিক। বেআইনিভাবে শংসাপত্র সংগ্রহ করে তিনি এ দেশে বসবাস করছেন।


অভিযোগ পেয়েই ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন জেলাশাসক রাজেশ সিংহ। তিনি বলেন, "রেজিস্টারের বিরুদ্ধে অত্যন্ত গুরুতর অভিযোগ করেছেন উপাচার্য। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পুলিশি নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে।”


গত ৪ ডিসেম্বর উপাচার্য পরিমল সরকারকে রেজিষ্টার পদ থেকে বরখাস্ত করার পরে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে লাগাতার আন্দোলন শুরু হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, আধিকারিক, কর্মী এবং ছাত্রদের একাংশ ধর্না, মিছিল, ক্লাস বয়কট শুরু করায় অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। রেজিস্টারের অভিযোগ, ছাত্র ভর্তি নিয়ে দুর্নীতি খতিয়ে দেখতে তাঁর নেতৃত্বে তৈরি একটি তদন্ত কমিটির রিপোর্ট ধামাচাপা দিতেই তাঁকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এত দিন এ ব্যাপারে কোনও স্পষ্ট মন্তব্য করেননি উপাচার্য। এ বার রেজিস্টারের নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলে পুলিশে অভিযোগ দায়ের করার পরে বলেন, “বরখাস্ত নয়, রেজিষ্টারকে রিলিজ করা হয়েছে। সেটা আইন মেনেই হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে পুলিশি সাহায্য চাওয়া হয়েছে। এর বাইরে আর কিছুই বলব না।"


পরিমলবাবু অবশ্য জানান, তাঁকে হেনস্থা করতেই নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। তিনি বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে চাকরি করছি। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক,

ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইনস্টিটিউটেও চাকরি করেছি। এতদিন এই প্রশ্ন ওঠেনি। তদন্ত হলেই আসল ঘটনা ধরা পড়বে।” পরিমলবাবু ১৯৭৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএসসি পাশ করেন। ১৯৭৭ সালে তিনি ভারতীয় নাগরিকত্ব নেন। তবে উপাচার্যের ওই অভিযোগের পরেও পরিস্থিতির কোনও উন্নতি হয়নি। বুধবার থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস বয়কট শুরু হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের এসএফআই নেতা রাজীব গুড়ি বলেন, “ভর্তি নিয়ে অনিয়ম ধরে ফেলায় যেভাবে রেজিস্ট্রারকে সরানোর চেষ্টা চলছে, সেটা মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। বাধ্য হয়েই ক্লাস বয়কটের ডাক দিতে হয়েছে।” 


আধিকারিক সমিতির সদস্য বিমান সরকার বলেন, “রেজিষ্টারের নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলার পিছনে কী উদ্দেশ্য তা সকলেই বুঝে গিয়েছেন। রেজিষ্টারকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।"

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

তৃণমূল নেত্রী ফের সংসদে

ভাতে কেরোসিন যাত্রাপুরে, অভিযোগ বাংলাদেশী

যদা যদা হি ধর্মস্য... গীতার এই শ্লোকে ঠিক কী বলা হয়েছে?