বিজেপি সরকার
বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকারের কাজ ও ঘোষণায় স্পষ্ট যে, তারা ভারতের সংসদীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ধ্বংস করতে চায় এবং চলমান সংবিধানকে নস্যাৎ করে মনুসংহিতার আদলে ব্রাহ্মণ্যবাদী প্রাচীন ধর্মীয় ভাবধারা প্রতিষ্ঠিত করতে চায়। তারা যদি এই কাজে সফল হয় বা এখনকার থেকে আরো খানিকটা অগ্রসর হতে সমর্থ হয়, তাহলে তা তবে সামগ্রিকভাবে দেশের জন্য ক্ষতিকর, সভ্যতার পিছু হটা। আর বিশেষ করে দেশের মেহনতি মানুষ, দলিত, মুসলমান এবং অন্যান্য ধর্মীয় সংখ্যালঘুশ্রেণীর মানুষেরা বিপর্যয়ের মুখোমুখি হবেন।
এই অবস্থায় দেশের গরীব মেহনতি জনগণ, শান্তিপ্রিয় মানুষ এবং অন্যান্য সব গণতন্ত্র ধর্মনিরপেক্ষ দেশবাসীর আশু কর্তব্য হলো নিজেদের মধ্যকার ভুল বোঝাবুঝি ও সমস্ত রকমের দ্বন্দ্ব- বিরোধ স্থগিত রেখে ঐক্যবদ্ধভাবে বিজেপি দল ও সরকারের বিরোধিতা করা এবং তাদের সরকারি ক্ষমতা থেকে হটিয়ে দেওয়া।
ভারতবর্ষের বড় বড় সংসদীয় দলগুলির নানা সীমাবদ্ধতা আছে, তারাও নানা দোষে দুষ্ট ; তাদের অতীত নিয়ে মানুষের মনে বহু প্রশ্ন আছে, অপ্রীতিকর অভিজ্ঞতাও আছে। আবার এটাও সত্য যে, সব দলই নুতন নুতন অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করে চলেছে, নানা ঘাত- প্রতিঘাত ও অবস্থার চাপে নিজেদের বদল করতে বাধ্য হচ্ছে। নেতৃত্বের পরিবর্তনের জন্যেও দলের কর্মসূচিতে অগ্রাধিকারের তালিকা পাল্টাচ্ছে।
বর্তমানে দেশের রাজনীতিতে অনেকগুলি আঞ্চলিক দলের যথেষ্ট গুরুত্ব আছে। বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই করে জয়যুক্ত হতে গেলে তাদের ভূমিকা অস্বীকার করার কোন উপায় নেই। তবুও এটা ঠিক যে, তারা কেউ একক শক্তিতে বিজেপিকে রুখতে পারবে না বা তারা জোট বেধেও বিজেপিকে আটকাতে পারবে না।
এমনকি দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে কংগ্রেস দলের সেই ক্ষমতা আছে — একথাও বলা যায় না। তবে কংগ্রেসই একমাত্র দল, যারা বিজেপি বিরোধী লড়াইয়ে নেতৃত্ব দিতে পারে, নেতৃত্ব দিতে সক্ষম। সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে তাদের সংগঠন আছে, শক্তি আছে, যোগ্য নেতৃত্ব উঠে এসেছে এবং সেই শক্তি ক্রমবিকাশমান। আর এই কাজে তাদের বিশ্বাসযোগ্যতা আছে।
এই অবস্থায় কংগ্রেসকে বিজেপি বিরোধী সব শক্তিকে সাথে নিতে হবে এবং বিরোধীদের উচিত কংগ্রেসের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হওয়া। এই জোটবদ্ধতা শুধু পার্টি স্তরে সীমাবদ্ধ করলে চলবে না। পার্টি বহির্ভূত ব্যাপক সংখ্যক গণতান্ত্রিক ধর্মনিরপেক্ষ সংগঠন ও মানুষকে সাথে নেবার জন্য কংগ্রেসকে পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। তাদের জন্য সুযোগ করে দিতে হবে এবং এইসব মানুষ ও সংগঠনকে কংগ্রেসের সাথে ও পাশে দাড়িয়ে কংগ্রেসকে শক্তি যোগাতে হবে।
পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতি খানিকটা জটিল। এখানে প্রধান দুই শক্তিশালী পার্টি হলো তৃণমূল এবং বিজেপি। কিন্তু বিজেপি বিরোধিতার ক্ষেত্রে তৃণমূল একেবারেই বিশ্বাসযোগ্য নয়। তাছাড়া এই সরকারের যা ভূমিকা — দুর্নীতি, সন্ত্রাস, নীতিহীনতা ইত্যাদি যে পর্যায়ে পৌঁছেছে, তাতে এমনকি বিজেপি বিরোধিতার জন্যেও তার পাশে দাড়ানো যায় না। তাছাড়া মনে হয় যে তৃণমূল, পশ্চিমবঙ্গে তাদের অস্তিত্বের জন্য কখনও চাইবে না যে, কংগ্রেস কেন্দ্রের ক্ষমতায় আসুক। ফলে তারা হয়তো ঘোট পাকানোর চেষ্টা চালিয়েই যাবে।
সেজন্য ২০২৪ সালে কেন্দ্রে যদি ত্রিশঙ্কু অবস্থা হয়, তৃণমূলের সংসদ সদস্যদের সমর্থন সরাসরি বা ঘুরিয়ে বিজেপির পক্ষে যাবে বলে মনে হয়। সেজন্য এই রাজ্যের মেহনতি মানুষ, তফসিলি জাতি আদিবাসী, উদ্বাস্তু, মতুয়া ও সংখ্যালঘু এইসব গণতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষ মানুষের উচিত কংগ্রেস ও বামজোটকে শক্তি জোগানো। এই রাজ্য থেকে যত বেশি সম্ভব এমপি জিতিয়ে আনার চেষ্টা করা। বিজেপি বিরোধিতার জন্য এই রাজ্যের মানুষের এটাই হলো আশু কাজ।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন