বাংলাদেশী যাত্রাপুর বাড়িছাড়া

 আনন্দবাজার ২৪ ফেব্রুয়ারি,২০০৬

 গ্রেফতারি এড়াতে রাতে বাড়ি ছাড়া নদিয়ার গ্রাম


নিজস্ব সংবাদদাতা, কৃষ্ণনগর: গ্রেফতারি এড়াতে বাড়িতে রাত কাটাতে পারছেন না নদিয়ার কোতোয়ালি থানা এলাকায় যাত্রাপুর গ্রামের বাসিন্দা প্রায় ৩০০ জন পুরুষ। ওই বাসিন্দাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাঁরা বাংলাদেশি। তাঁদের নাম আপাতত বাদ না পড়লেও ভোটার তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে ওই গ্রামেরই বাসিন্দা, কৃষ্ণনগর ১ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি অঞ্জনা রায়ের স্বামীর নাম। বুধবার ভোটার তালিকা প্রকাশিত হওয়ার পর দেখা যায় তৃণমূল পরিচালিত ওই পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি অঞ্জনা দেবীর স্বামী কৃষ্ণপদ রায়ের নাম নেই।


বুধবার এ ব্যাপারে অঞ্জনা দেবীর তরফে লিখিত অভিযোগ পেয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন কৃষ্ণনগর (সদর)-এর মহকুমা শাসক অজয় স্যান্নামত। তিনি বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদি প্রমাণিত হয় কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে কৃষ্ণপদ রায়ের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিয়েছেন, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে কড়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর কৃষ্ণপনবাবুর নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হবে।"


অঞ্জনা দেবীর অভিযোগ, “উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমার স্বামীর নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। আর যাত্রাপুর গ্রামের বহু ভোটারকে বাংলাদেশি বলে ভুয়ো অভিযোগ এনেছে সিপিএম। এই গ্রাম ভূণমূল কংগ্রেস প্রভাবিত। ফলে আমাদের ভোট কমাতে এই ধরনের মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে।" মহকুমা শাসক অবশ্য বাংলাদেশি অভিযোগ প্রসঙ্গে বলেন, "বিভিন্ন সূত্রে অভিযোগ পাওয়া গিয়েছিল যে ওই গ্রামে বহু

বাংলাদেশি আছেন। প্রশাসনের তরফে এ ব্যাপারে জেলা গোয়েন্দা দফতরকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু যাত্রাপুর গ্রামের যে বাসিন্দাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তাদের কাউকে তদন্তে গিয়ে পাওয়া যাচ্ছে না।"


বৃহস্পতিবার যাত্রাপুর গ্রামে গিয়ে জানা গেল গ্রামের বাসিন্দা প্রায় ৩৪০ জন পুরুষ রাত্রে বাড়িতে থাকেন না। দিনের বেলাতেও ওই গ্রামের পুরুষদের দেখা পাওয়া যায় না। অপরিচিত কেউ গ্রামে এলে কথা বলতে চান না মহিলারা। দু সপ্তাহ আগে ওই গ্রামের বাসিন্দা সাতজনকে বাংলাদেশি সন্দেহে গ্রেফতার করা হয়েছিল। কিন্তু আদালতে ধৃতরা নিজেদের নাগরিকারের পক্ষে প্রমান দেখিয়ে ছাড়া পান বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।


যাত্রাপুর গ্রামের বাসিন্দা বৃদ্ধ মানিক দেবনাথের অভিযোগ, “আমি তিনবার ভোট দিয়েছি। আমার বিরুদ্ধে বাংলাদেশি বলে অভিযোগ করা হয়েছে। আমার ভারতীয় নাগরিকত্বের সমস্ত প্রমান আছে। তবু গ্রেফতারের ভয়ে রাতের অন্ধকারে বাড়ি ছেড়ে বনে জঙ্গলে পালিয়ে বেড়াতে হচ্ছে।” একই অভিযোগ ওই গ্রামের বাসিন্দা বিরাট মন্ডল রাধিকাজীবন বিশ্বাসদের।


নদিয়া জেলা কংগ্রেসের নেতা গৌরীশঙ্কর দত্ত বলেন, "চক্রান্ত করে বহু ভোটারের বিরুদ্ধে বাংলাদেশি বলে অভিযোগ এনে হেনস্থা করছে সি.পি.এম।” আর সিপিএমের নদিয়া জেলা কমিটির সম্পাদক আশু ঘোষের বক্তব্য, “আমাদের দল প্রকাশ্যে কাজ করে। চক্রান্তকে সিপিএম ঘৃণা করে। এ ক্ষেত্রেও আমাদের একই বক্তব্য।"

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

তৃণমূল নেত্রী ফের সংসদে

ভাতে কেরোসিন যাত্রাপুরে, অভিযোগ বাংলাদেশী

যদা যদা হি ধর্মস্য... গীতার এই শ্লোকে ঠিক কী বলা হয়েছে?