হিন্দু শাস্ত্র সম্পর্কে উপেন্দ্রনাথ মল্লিক
হিন্দু ধর্মশাস্ত্র সম্পর্কে বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী ও সমাজ সংস্কারক প্রয়াত উপেন্দ্রনাথ মল্লিক মহাশয়ের লিখিত বইয়ের কয়েকটা লাইন—
"ব্রাহ্মণ্যবাদী সমাজ ব্যবস্থাই আজ হিন্দুধর্ম নামে পরিচিত। ব্রাহ্মণ্যবাদ দাঁড়িয়ে আছে তিনটি মূলনীতির উপর— অসাম্য, বিভেদ ও শোষণ। জন্মান্তরবাদ (আত্মা তত্ত্ব), গুরুবাদ, পাপপুণ্য , ইহকালের ক্ষণিকতা, পরকালের প্রলোভন, নির্বিচারে ব্রাহ্মনকে ভক্তি ও দান— এগুলি হলো ব্রাহ্মন্যবাদী শোষণের ভিত্তি। ব্রাহ্মন্যবাদ থেকে সৃষ্টি হয়েছে হিন্দু সাম্রাজ্যবাদ। ব্রাহ্মনরা দেবদেবীর স্রষ্টা। ব্রাহ্মন্যবাদী উচ্চবর্ণের অত্যাচারে সমাজের নিচুতলার হিন্দুরা দলে দলে ইসলাম, খ্রিস্টান ও শিখধর্ম গ্রহণ করেছেন।…..
যে ধর্মের শাস্ত্রগ্রন্থে একশ্রেণীর মানুষের জ্ঞান অর্জনের ও অস্ত্র ধারণের অধিকার দেয় নাই, তা ধর্ম নয়— তাহলো মানুষের জীবন নিয়ে ব্যবসা। যে ধর্ম তার একটি অংশের মানুষকে চিরকাল মূর্খ ও দরিদ্র করে রাখতে চায়, তাকে ধর্ম বলে না। শাস্ত্রগ্রন্থসমূহই হিন্দু সমাজের সবচেয়ে বড়ো শত্রু। এই সমস্ত শাস্ত্র যতদিন সমাজে প্রচলিত থাকবে, ততদিন হিন্দুদের পতনকে কেউ রোধ করতে পারবে না। আমার যতদূর জানা আছে কোন মহাত্মাই জাতব্যবস্থার বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষণা করেন নাই। তাঁরা কখনো বলেন নাই যে, 'সব মানুষ সমান'। তাঁদের বাণী হলো, 'ঈশ্বরের কাছে সবাই সমান'। জাত ব্যবস্থা সম্পর্কিয় শাস্ত্রের নির্দেশ হলো— গুণহীন ব্রাহ্মণ গুনবান শূদ্রের থেকে শ্রেয়।"
উপেন্দ্রনাথ মল্লিক বৃদ্ধ বয়সে বই লিখে এইসব কথা প্রচার করেছেন মূলত মশিয়াহাটির মানুষকে শিক্ষা দেবার জন্য।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন