কুলটিয়া বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার কাজ ছিল অনেক বেশি কঠিন লড়াই

 কুলটিয়া বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার কাজ ছিল অনেক বেশি কঠিন লড়াই

সুকৃতিরঞ্জন বিশ্বাস


কুলটিয়া বালিকা বিদ্যালয়ের নাম প্রথমে ছিল মশিয়াহাটি বালিকা বিদ্যালয়। এই বিদ্যালয়ের প্রথম বিদ্যালয়গৃহ ছিল বর্তমান মশিয়াহাটি বিদ্যালয়ের উত্তরপোতার বিল্ডিংয়ের ঠিক পূবপাশে, যেখানে এখন অন্য একটি ঘর দাঁড়িয়ে আছে—এইরকম এক জায়গায়। ঘরটি গোলপাতার ঘর ছিল। একসময় তা জীর্ণ হয়ে যায়। তাই সরকারি কর্তৃপক্ষ পরিদর্শন রিপোর্টে ঘরটি মেরামত করার জন্য তাগিদ দিতে থাকে। কিন্তু টাকার অভাবে তা মেরামত করা সম্ভব হচ্ছিল না। এমন সময়ে বর্ষাকালে ঘরটি ভেঙে পড়ে। তখন মশিয়াহাটি বিদ্যালয়ের হোস্টেল ঘরের মধ্যে কিছুদিন বালিকা বিদ্যালয়ের ক্লাস হয়। তারপর বিদ্যালয়টি স্থানান্তরিত হয় কুলটিয়া গ্রামে, যেখানে এখন বিদ্যালয়টি আছে। বালিকা বিদ্যালয় যখন মশিয়াহাটি থেকে কুলটিয়াতে স্থানান্তরিত করা হয়, তখন বিদ্যালয়ের নামও পাল্টে দেওয়া হয়। নুতন নাম হয় কুলটিয়া বালিকা বিদ্যালয়। সেটা হলো ১৯৩৮ সালের শেষ বা ১৯৩৯ সালের শুরুর সময়ের ঘটনা।


বালিকা বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা হবার পর সর্বপ্রথম দুই জন সরকারি অফিসার বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করেন ১৯২২ সালের ৪ মার্চ তারিখে। ওই সরকারি লিখিত রিপোর্ট থেকে জানা যায় যে, বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল ১৯২১ সালের মে মাসে এবং তখন বিদ্যালয়ের মাসিক আয় বা গ্রান্ট ছিল মাত্র ২ টাকা। এই ২ টাকা মাসিক গ্রান্ট মঞ্জুর করেছিল কলকাতার ব্রাহ্মদের একটি সংগঠন, সেটা কোন সরকারি অনুদান বা গ্রান্ট ছিল না। সাহায্যকারী সংগঠনটির নাম ছিল 'সোসাইটি ফর দি ইম্প্রুভমেন্ট অফ ব্যাকওয়ার্ড ক্লাসেস ইন বেঙ্গল এন্ড আসাম'। পরিদর্শকরা প্রথম রিপোর্টে লিখেছেন—মোট ৩৭ জনের মধ্যে ৩০ জন ছাত্রী ওইদিন বিদ্যালয়ে হাজির ছিল। তাঁদের মধ্যে ১২ জনের মত ছাত্রী বাংলা হরফ লিখতে পারে, কেউ কেউ ২০ পর্যন্ত পড়তে পারে, তাঁরা তালপাতায় লেখে ইত্যাদি সবই জানা যায় ওই রিপোর্ট থেকে। ওইদিন বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন একইসাথে দুইজন অফিসার— যশোরের ডেপুটি ডি আই মি: আর সি ব্যানার্জি এবং মনিরামপুর সার্কেলের সাব ইন্সপেক্টর অফ স্কুলস মো: মণিকুল্লা।


শতবর্ষকাল জুড়ে বিদ্যালয় পরিদর্শন রিপোর্ট সম্বলিত এই অমূল্য এবং দুর্লভ নথিটি আজও বিদ্যালয়ে গচ্ছিত আছে। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় বহু নথি হারিয়ে গেলেও বা অযত্নে নষ্ট হয়ে গেলেও, এই মূল্যবান পরিদর্শন খাতাটি বেঁচে গেছে। এই খাতাটিতে আছে ইংরেজ আমলের ৫৮ টি পরিদর্শন রিপোর্ট। পাকিস্তান আমলের ২১ টি পরিদর্শন রিপোর্ট এবং বাংলাদেশ আমলের ২০১৪ সাল অবধি আরো ২৩/২৪ টি পরিদর্শন রিপোর্ট (হয়তো এরপরেও আছে আরো কয়েকটি পরিদর্শন রিপোর্ট)। এই রিপোর্টগুলি পড়লে বোঝা যায় বিদ্যালয়টি গড়ে তুলতে এলাকার মানুষের কী কঠিন লড়াই জিততে হয়েছে। বিশেষ করে শুরুর দিকের লড়াই ছিল বেশি কঠিন। কারণ সেই সময়ের মানুষেরা ছিলেন বেশি অসহায়—অঞ্চলের মানুষের দরিদ্রতা, শিক্ষাহীনতা এবং কিছু সামাজিক ব্যাধি (বাল্যবিবাহ ইত্যাদি) বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে যে কী কঠিন বাধা হয়ে দাঁড়ায়, তা এইসব রিপোর্টগুলি না পড়লে বোঝা সম্ভব নয়।


আজ শতবর্ষ পরে একমাত্র এই পরিদর্শন রিপোর্টগুলি থেকে সঠিকভাবে জানতে পারি কে ছিলেন এই বিদ্যালয়ের প্রথম প্রধান শিক্ষক এবং অন্যান্য সমগ্র সময়কাল জুড়ে কোন কোন শিক্ষক-শিক্ষিকা এই বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন, কেমন বেতন পেয়েছেন তাঁরা ইত্যাদি সবই লেখা আছে এইসব রিপোর্টের মধ্যে। ছাত্রীসংখ্যা কেমন ছিল এবং কীভাবে একটু একটু করে এই সংখ্যা বেড়েছে, কেমন রেজাল্ট করেছেন তাঁরা। কীভাবে বিদ্যালয়ের অনুমোদন পাওয়া গেছে এবং অনুমোদন টিকিয়ে রাখার জন্য কীসব কঠিন সমস্যার মোকাবিলা করতে হয়েছে এলাকার মানুষকে। কোথায়, কারা এগিয়ে এসেছেন বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য সহযোগিতার ডালি হাতে নিয়ে বা কীভাবে এবং কখন বিদ্যালয়গৃহ তৈরি হলো, কাদের বিশেষ সহযোগিতা পাওয়া গেছে এইসব কাজে— সব কিছুর এক অনন্য দলিল হলো এই জীর্ণ পরিদর্শন খাতাটি। এখনই খাতাটির সব পৃষ্ঠা ঠিকমত পড়া যায় না, আর দেরি হলে পাঠোদ্ধার অসম্ভব হয়ে যাবে। তাই, মনে হয় যে, নথিটি নুতন করে লিখে বা টাইপ করে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ দ্বারা সত্যায়িত করে রাখা বাঞ্চনীয়।


এই বালিকা বিদ্যালয় শুরু হয় মোটামুটি ৩০ থেকে ৪০ জন ছাত্রী নিয়ে। অথচ ১৯২১ সাল থেকে ১৯৩৮/৩৯ সাল পর্যন্ত অর্থাৎ প্রায় ২০ বছর চেষ্টা করেও ছাত্রী সংখ্যা বাড়ানো সম্ভব হয় না—ছাত্রীসংখ্যা ৪০-এর গন্ডি পার হয় না। বিদ্যালয়ের স্থান পরিবর্তনের পর ১৯৪১ সাল থেকে ছাত্রীসংখ্যা বাড়তে শুরু করে। ওই বছর ছাত্রীসংখ্যা দাঁড়ায় ৭৪, ১৯৪৫ সালে ৯৩, ১৯৪৬ সালে ১১৫ এবং স্বাধীনতার সময় ১৯৪৭ সালে ছাত্রীসংখ্যা বেড়ে ১৪৮ জন হয়ে যায়।


সেই সময়ে ইংরেজ আমলে বিদ্যালয় শিক্ষায় বেশ কয়েকটি ধাপ ছিল। যেমন—নিন্ম প্রাথমিক (প্রথম এবং দ্বিতীয়শ্রেণী), উচ্চ প্রাথমিক (তৃতীয় ও চতুর্থশ্রেণী), মধ্য ইংরেজি (পঞ্চম ও ষষ্ঠশ্রেণী) এবং তারপর উচ্চ ইংরেজি। পাকিস্তান আমলে আসে জুনিয়র হাইস্কুল প্রথা।


বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর প্রথম চার বছর প্রথম এবং দ্বিতীয়শ্রেণীর ক্লাস হয়। তারপর ১৯২৫ সালে খোলা হয় তৃতীয়শ্রেণী। কিন্তু তারপর ১০ বছর পেরিয়ে যায় কিন্তু বিদ্যালয়ে চতুর্থশ্রেণী খোলা সম্ভব হয় না। ছাত্রীর অভাবে এই দুরবস্থা চলতে থাকে। এই ১০ বছরের মধ্যেও দেখা যায় যে, দ্বিতীয়শ্রেণীতে ছাত্রী থাকলেও তৃতীয়শ্রেণীতে কোন ছাত্রী নেই। আবার কোন বছরে তৃতীয়শ্রেণীতে ছাত্রী থাকলেও দেখা গেছে দ্বিতীয়শ্রেণীতে একজন ছাত্রীও নেই। এই সমস্যা হতো মেয়েদের বাল্যবিবাহের জন্য। বিয়ের পর ছাত্রী শ্বশুর বাড়ি চলে যেত। চতুর্থশ্রেণী বা তার নিচের দুই ক্লাসের প্রায় সব ছাত্রীই ছিল বিবাহিতা। এসব তথ্য জানার পর আরো ভালভাবে বোঝা যায়— কেন রাইচরণ বাল্যবিবাহ বন্ধ করার জন্য আন্দোলন করেছিলেন!


১৯৩৫ সালে বালিকা বিদ্যালযে চতুর্থশ্রেণী খোলা হয় এবং বিদ্যালয়ে উচ্চ প্রাথমিকের জন্য অনুমোদন চাওয়া হয়। সেই বছরেই অনুমোদন মিলে যায় কিন্তু দেখা যায় সে বছর তৃতীয়শ্রেণীতে কোন ছাত্রী নেই, ছাত্রীর বিয়ে হয়ে চলে গেছে, ক্লাস খালি!


১৯৩৫ সালের পর ১৯৪৫ সাল—১০ বছরের ব্যবধান! এই বছর থেকে কুলটিয়া বালিকা বিদ্যালয় পঞ্চম ও ষষ্ঠশ্রেণীর ক্লাস শুরু করে এবং মধ্য ইংরেজি বিদ্যালয়ের অনুমোদনের জন্য আবেদন করে। ১৯৪৫ সালেই বিদ্যালয় এই স্বীকৃতি অর্জন করে। পরে পাকিস্তান আমলে এই বিদ্যালয় ১৯৫১ সালে জুনিয়র হাইস্কুল এবং ১৯৬৯ সালে হাইস্কুলের মর্যাদা অর্জন করে।


মশিয়াহাটি বিদ্যালয় ১৯১৭ সালে মধ্য ইংরেজি বিদ্যালয় দিয়ে যাত্রা শুরু করে এবং ১৯২৩ সালেই ম্যাট্রিক পরীক্ষা দেবার অনুমতি আদায় করে নেয়। একটি বছরও ছেদ পড়েনি, পর পর এগিয়ে যায়। যদিও অনুমতি সামান্য দেরিতে পাওয়ায় ওই বছর ছাত্ররা পরীক্ষায় বসতে পারেন না। ১৯২৪ সালে প্রথম ব্যাচ মশিয়াহাটি বিদ্যালয় থেকে ম্যাট্রিক পরীক্ষা দেন। কিন্তু বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা অত সহজে সম্ভব হয় নি। ২৫/২৬ বছর লড়াই করতে হয়েছে মাত্র ষষ্ঠশ্রেণী পর্যন্ত পৌঁছতে। জুনিয়র হাইস্কুল পর্যন্ত পৌঁছতে সময় লেগেছে ৩১/৩২ বছর এবং মোট ৫০ বছরের লাগাতার লড়াইয়ের পর কুলটিয়া বালিকা বিদ্যালয় হাইস্কুলের মর্যাদা আদায় করতে সক্ষম হয়।


কুলটিয়া বালিকা বিদ্যালয় শতবর্ষ অতিক্রম করেছে। 'অতিক্রম করেছে' এই কথাটুকু বলা যথেষ্ট নয়। বিদ্যালয়টি এক একটি ধাপের অনুমোদন পেয়েছে এবং প্রতিটি পর্যায়ে ছাত্রীরা উৎকর্ষতার পরিচয় রেখেছে—যে ইতিহাস বিদ্যালয়ের রেকর্ড বই খুলতেই চোখ ধাঁধিয়ে দেয়।


অনুন্নতশ্রেণীর মানুষের চেতনায় ওড়াকান্দি এক বিশেষ নাম, যা সকলেই শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। আর তার পরেই সমগ্র পূর্ববাংলার মধ্যে দ্বিতীয় নাম মশিয়াহাটি। বাংলার অনুন্নতজনের দুই জাগরণ কেন্দ্র। গুরুচাঁদ ঠাকুর যেমন এক অবিস্মরণীয় নাম, তেমনি আরেক মনীষী হলেন রাইচরণ। রাইচরণের আত্মত্যাগ যেমন তুলনাহীন, ঠিক তেমনি তাঁর অমর কীর্তি এই বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা—এই সৃষ্টির কোন জুড়ি নেই!


বলতে কোন দ্বিধা নেই— সুদীর্ঘকাল ধরে কুলটিয়া বালিকা বিদ্যালয় গোটা দেশের মধ্যে একটি ভাল বিদ্যালয় হিসাবে সুনাম ধরে রাখতে পেরেছে। আর নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, গোটা গ্রামবাংলার বিদ্যালয়গুলির মধ্যে এই বিদ্যালয় সর্বশ্রেষ্ঠ বিদ্যালয়। এতো দীর্ঘ সময়কাল ধরে বিদ্যালয়ের রেজাল্ট ও অন্যান্য সবকিছুতেই এই উন্নত মান ধরে রাখা এক কঠিন কাজ। এই কৃতিত্বের জন্য যেমন ছাত্রীরা প্রশংসার দাবিদার, তেমনি দাবিদার শিক্ষক-শিক্ষিকারা ও প্রধান শিক্ষক এবং পরিচালকমণ্ডলী। আমরা নিশ্চিতভাবে স্মরণ করবো এই বিদ্যালয়ের প্রবাদপ্রতিম প্রধানশিক্ষক শিবপদ বিশ্বাস মহাশয়কে। বর্তমান প্রধানশিক্ষক আমাদের স্নেহের কমলেশ সরকার নানা প্রতিকূলতার সাথে লড়াই করে চলেছেন। কোন সন্দেহ নেই যে, একটা সময়কাল পর্যন্ত বিদ্যালয় এবং প্রধান শিক্ষক পারিপার্শ্বিক যে সামগ্রিক সহযোগিতা পেতেন তিনি এখন তা পুরোপুরি হয়তো পান না। এটা কোন ব্যক্তির বিষয় নয়, এহলো এক সামাজিক পরিবর্তন। তাই তাকে নিজের মত করে লড়াই চালিয়ে যেতে হবে, তিনি তা করছেনও সাফল্যের সাথে। যারজন্য স্কুলের ছাত্রীদের রেজাল্ট, নিয়মানুবর্তিতা ধরে রাখা সম্ভব হয়েছে, মনে হয় সব কিছুর মান বর্তমানে উর্ধগামী বলা যায়।


কুলটিয়া বালিকা বিদ্যালয় নিছক একটি বিদ্যালয় নয়। আমার মনে হয় হয়---এ হলো এক নারীমুক্তির লড়াই। গোটা এলাকার নারীমুক্তির কেন্দ্র হলো কুলটিয়া বালিকা বিদ্যালয়। তাই বিদ্যালয় নির্বিশেষে গোটা ছাত্রী সমাজের সাফল্যের দাবিদার এই বিদ্যালয়। সেজন্য এই প্রতিষ্ঠানকে আরো বিকশিত করার দায়িত্ব গোটা এলাকার সবার উপর বর্তায়। আর বালিকা বিদ্যালয়ের সমস্ত শিক্ষক শিক্ষিকা ও প্রধান শিক্ষক যে সেই মহতি লড়াইয়ের নেতৃত্ব করছেন, সেটা নিশ্চয়ই স্মরণে রেখেই তারা লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।


সবশেষে স্মরণ করি সেইসব ব্যক্তিবর্গকে যারা নেতৃত্ব দিয়েছিলেন এই বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার কঠিন সংগ্রামে এবং অভিনন্দন জানাই তখনকার দিনের এলাকাবাসীকে—যারা যোগ্য সহযোগিতা করেছিলেন এই মহান সংগ্রামে। অবশ্যই অভিনন্দন জানাই শতবর্ষ উদযাপন কমিটিকে কারণ তারা খুব কঠিন পরিস্থিতিতেও হাল ছেড়ে না দিয়ে এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছেন এবং বিদ্যালয়ের শতবর্ষ কর্মকান্ড সাফল্যের সাথে এগিয়ে চলেছেন।



মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

তৃণমূল নেত্রী ফের সংসদে

যদা যদা হি ধর্মস্য... গীতার এই শ্লোকে ঠিক কী বলা হয়েছে?

ভাতে কেরোসিন যাত্রাপুরে, অভিযোগ বাংলাদেশী