মশিয়াহাটি স্কুলের গোড়াপত্তন নিয়ে কিছু বিতর্ক
মশিয়াহাটি বিদ্যালয়ে ১৯৪২ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত উপেন বাবুর ভূমিকা নিয়ে কোন বিতর্ক হয় নি। বিতর্ক ৩/৪ টি বিষয় নিয়ে—,
১) ১৮৭০ সালে কুলটিয়ার মল্লিক বাড়িতে কোন পাঠশালা ও নৈশ বিদ্যালয় ছিল কিনা? প্রকৃতি বাবু তেমন দাবি করছেন। আমি তাতে সন্দেহ প্রকাশ করেছি। কারণ ওড়াকান্দিতে গুরুচাঁদের স্কুল হয় ১৮৮১ সালে। অন্যকোন প্রমান নেই যার জন্য মল্লিক বাড়িতে ১৮৭০ সালে পাঠশালা ছিল বলে মেনে নেওয়া যায় ।
২) প্রকৃতি বাবু বলছেন মশিয়াহাটি স্কুল তৈরী করার কাজে মল্লিকদের প্রধান ভূমিকা। আমি অন্যান্যদের মত তাদের ভূমিকা ছিল মেনে নিয়ে বলছি — না, রাইচরণের নেতৃত্বে মশিয়াহাটি স্কুল তৈরী হয়। অন্য আরেকজনের প্রধান ভূমিকা ছিল, তিনি সুজাতপুর গ্রামের অধর বিশ্বাস। বরং হাই স্কুল করার সময়ে মল্লিকদের দুই নেতা দরশন মল্লিক এবং মথুর মল্লিক বিরোধিতা করেছিলেন, স্কুল কমিটি/পদ থেকে পদত্যাগ করেন।
৩) প্রকৃতি মল্লিক বলছেন কুলটিয়া নিন্ম প্রাথমিক বিদ্যালয় তৈরী হয় তাদের বৈঠক খানায়। আমি বলছি ওটা গ্রামের লোক মিলে তৈরী করেন এবং ওই পাঠশালা ছিল মল্লিক বাড়ির উত্তরে ঠাকরুন তলায়।
তিনি বলছেন মশিয়াহাটি স্কুল তৈরী করার জন্য প্রথম বড়ো মিটিং হয় তাদের বৈঠক খানায়। আমি বলছি না, ঐ মিটিং হয় নিন্ম প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে। শরৎচন্দ্র মজুমদার লিখেছেন ঐ মিটিং হয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে। আমি মনে করি শরৎ বাবু ঠিক লিখেছেন।
৪) প্রকৃতি বাবুর মত যে, কুলটিয়া নিন্ম প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকেই মশিয়াহাটি স্কুল হয়েছে। আমি লিখেছি যে, ঠিক তা নয়। ঐ অঞ্চলে কয়েকটি নিন্ম প্রাথমিক বিদ্যালয় চলছিল, সেগুলির মিলিত রূপ মশিয়াহাটি স্কুল। তার জন্য মশিয়াহাটি স্কুলের প্রথম দিকের নাম ছিল কুলটিয়া- সুজাতপুর স্কুল। এইসব বিতর্ক। আপনি বলুন আমার ভুল কোথায় কোথায়?
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন