ধর্ম বিশ্বাসে রূপান্তর
আমরা ঝগড়া করি, করছিও । এমন অনেক বিষয় আছে, যাতে সমাজের সবাই কোনদিন একমত হয় না, হতে পারবে না। কিন্তু কিছু বিষয় আছে, যাতে সমাজ একমত হতে পারে, একমত হওয়া প্রয়োজন।
ধরা যাক আজকের বাংলার অস্পৃশ্য দলিত সমাজ। ৩৫০০ বছর আগে বা ১০০০ বছর আগে বল্লাল সেনের সময়েও তাঁদের সম্পর্কে কোন প্রামান্য ইতিহাস পাওয়া যায় না। শুধু কিছু অনুমানভিত্তিক গল্প শোনা যায়। এমনকি ১০০০ বছর আগে যে মানুষগুলি নিয়ে একটা সমাজ ছিল, তাঁদেরই উত্তর পুরুষদের নিয়ে গঠিত কোন এক সমাজের অস্তিত্ব আজ আর নেই— আজকের সমাজ হয়তো বহু ভাঙাগড়া ও মিশ্রণের মধ্য দিয়ে গড়ে উঠেছে!
সুলতান আমলে নিচু স্তরের হিন্দুদের মধ্যে সামাজিক মর্যাদায় কিছু উত্থান পতন দেখা যায়, তা মোগল যুগে এসে অনেকটাই স্থিতিশীল হয়, সামাজিক মর্যাদার প্রশ্নে উত্থান পতন বন্ধ হয়ে যায় এবং বর্ণাশ্রম প্রথা কঠিনতর হতে থাকে ও এই কুপ্রথা পূর্ণতা পায়।
বর্ণাশ্রম প্রথা বৈদিক যুগে শুরু হলেও, এই ব্যবস্থাকে টিকে থাকতে ও স্থায়িত্ব পেতে অনেক চড়াই উৎরাই পেরোতে হয়। বৌদ্ধ মতবাদ ও বৌদ্ধ শাসকদের কিছু কিছু বাধা, বেশিভাগ সময়কালে রাজক্ষমতা ও প্রশাসন ব্রাহ্মনদের অধরা থাকা, ভারতে মুসলমান শাসন এবং ইসলামের অগ্রগতি এসব কারণে ব্রাহ্মণ্যবাদী ব্যবস্থা বা বর্ণাশ্রম ব্যবস্থা জাঁকিয়ে বসতে অনেকটা সময় লেগে যায়।
বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করে নিশ্চিত করে বলা যায় যে, গত ৩০০ বছরকাল ধরে ভারতে বর্ণাশ্রম ব্যবস্থা প্রস্তর কঠিন রূপ পরিগ্রহ করেছে। বর্ণ প্রশ্নে উত্থান পতন একেবারেই বন্ধ হয়ে গেছে। অর্থাৎ আজ যাঁরা অস্পৃশ্য, গত ৩০০ বছর ধরে যে তাদেরই পূর্বপুরুষেরাই অস্পৃশ্য ছিলেন, একথা নিশ্চিত করে বলা যায়।
একটা সময়কাল পর্যন্ত ধর্ম মানুষের কাছে অপরিবর্তনীয় বলে বিবেচিত হত না। প্রয়োজনের কথা ভেবে ও বুঝে তুলনায় অনেক সহজে মানুষ বা মানবসমষ্টি ধর্ম ত্যাগ ও গ্রহণ করতেন। সুলতান যুগ এবং মোগল যুগের সন্ধিক্ষনে এদেশে বহু মানুষ ইসলাম গ্রহণ করেন। সেটা চৈতন্য মহাপ্রভুর সময়কাল। তিনি এই ধর্মান্তর জোয়ার কিছুটা সামলে দিয়েছিলেন।
সম্ভবত ভারতে সবচেয়ে বেশি মানুষ ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত হন মোগল যুগের শেষ দিক থেকে শুরু করে ইংরেজ আমলের প্রথম দিকটায়। ভারতের বহু মানুষ খ্রিস্ট ধর্মেও ধর্মান্তরিত হয়েছেন।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন