শাহবাগ আন্দোলন নিয়ে আমার কিছু কথা
শাহাবাগ আন্দোলন নিয়ে আমার কিছু কথা
[ নীল আকাশ পত্রিকায় ১৬ মার্চ , ২০১৩ সংখ্যায় প্রকাশিত প্রতিবেদন ]
( এই লেখাটি ২১ শে ফেব্রুয়ারি , ২০১৩ তারিখে লেখা। লেখাটি পাঠিয়েছিলাম কলম পত্রিকায়, তারা ছাপেনি । তাই ফেসবুকে পােস্ট করে দিয়েছিলাম । এই লেখার জন্য জামাত বিরােধি বন্ধুরা আমাকে ‘ রামছাগল ’ , 'রাজাকার ’--- এসব নানা শব্দে আখ্যায়িত করেছেন । তবুও সাহস করে ছেপে দিয়েছিলাম নীলআকাশ পত্রিকায়)
ঢাকার শাহাবাগে বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বে এক আন্দোলন চলছে । আন্দোলনের প্রধান দাবি হলাে – যুদ্ধাপরাধী কাদের মােল্লার ফাঁসির শাস্তি । জামাতে ইসলামি নামক রাজনৈতিক দলটিকে নিষিদ্ধ করার দাবিও তাদের অন্যতম প্রধান দাবি । এই আন্দোলন যখন চলছে, তার মধ্যে ব্লগ লেখক রাজীব হায়দার খুন হন । রাজীব হলেন – এই শাহবাগ আন্দোলনের উদ্যোক্তা অনেকের মধ্যে একজন ।
ব্লগে তিনি বিশ্বনবি হযরত মােহাম্মদ সম্পর্কে কুৎসা লিখেছেন বলে অভিযােগ । আবার অন্য অনেকের অভিযােগ হলাে---জামাতে ইসলামির লােকজন তাকে হত্যা করেছেন এবং শাহবাগ আন্দোলন বানচাল করার জন্য রাজীবের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচার করছেন ।
ব্যক্তিগতভাবে আমি ও আমার স্ত্রী বিশাখা বিশ্বাস (বৈরাগী) দুজনেই বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে মুক্তিযােদ্ধা ছিলাম ও সক্রিয়ভাবে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করি। তাছাড়া বাংলাদেশ আমার মাতৃভূমি ও জন্মভূমি । রাজনৈতিক কারণে দেশ ছাড়তে বাধ্য হলেও , স্বাভাবিকভাবেই সেদেশের ঘটনাবলী আজও আমাদের মনকে নাড়া দেয় । সেই অনুভূতি থেকে কয়েকটি কথা আমি ফেবুকে লিখেছি । তাতে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে দুজন তরুণ প্রজন্মের বাংলাদেশী প্রচণ্ড প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন । আমার কথা তাদের পছন্দ হয়নি । নাম দেখে মনে হলাে, তারা দুজনেই হিন্দু । একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী।
হযরত মােহাম্মদ এবং ইসলামের বিরুদ্ধে কুৎসার বিরােধী তারাও । কিন্তু খবর উদ্ধৃত করে তারা লিখেছেন যে, কোনভাবে রাজীবের ব্লগে এসব কুৎসা বেআইনীভাবে ঢােকানাে ( intrude ) হয়েছে অথবা রাজীব যদি ঐসব বাজে কথা লিখেও থাকেন ,তাহলে তা অনেক পুরনাে লেখা । শাহবাগ আন্দোলনের সময় এসব উত্থাপনের মধ্যে দেশের অসংখ্য মানুষ অন্য উদ্দেশ্যের গন্ধ পাচ্ছেন বলে তাদের দাবি । তাছাড়াও রাজীব যদি অপরাধ করে থাকেন , তাকে খুন করা আরও বড় অপরাধ বলে তারা মনে করেন ।---আমার মতে তাদের এসব কথা অযৌক্তিক নয়।
এখানে, এই কলকাতায়, গত ২/৩ দিনে আমাকে অন্তত ৩৫/৪০ জন টেলিফোন করেছেন – যারা কলম পত্রিকায় এ সম্পর্কতি লেখাগুলির বিরােধী। এই পত্রিকাটিতে শাহবাগ নিয়ে প্রতিদিন খবর ও লেখা প্রকাশিত হচ্ছিল। আমার সঙ্গে কলম পত্রিকার কোন না কোন যােগাযােগ আছে মনে করে তারা আমায় টেলিফোন করেছেন ।
বিশ্বনবী হযরত মােহাম্মদ একজন মহামনীষী । সভ্যতার অগ্রগতির পথে তাঁর অসামান্য অবদান । আমার ধারণা ধর্ম নির্বিশেষে পৃথিবীর অধিকাংশ মানুষ তার অবদান স্বীকার করেন । কিন্তু পৃথিবীতে বসবাস করেন ৭০০ কোটি মানুষ । তার মধ্যকার কিছু সলমন রুশদি ও তসলিমা নাসরিনরা নবীর নামে কুৎসা করেছেন। তারা যে কুৎসা করেছেন, তা তারা স্বীকার করেন । নবীকে কুৎসা করে কয়েকজন মিলে দুটি সিনেমা করেছেন। এখন রাজীবের বক্তব্য আর আমাদের জানার উপায় নেই । হয়তাে নবীকে কুৎসা করেন এমন আরও কিছু মানুষ থাকতে পারেন পৃথিবীতে।
সিনেমায় হযরত মােহাম্মদের নিন্দার বিরুদ্ধে কলকাতায় এবং রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় প্রতিবাদ সভা হয়েছে । তার কোন কোনটিতে আমি অংশগ্রহণও করেছি। এখন আবার আশিস নন্দীর নাম এলাে । তিনি বলেছেন দলিতদের স্বভাব নিয়ে । দলিতরা নাকি গােষ্ঠীগতভাবে দুর্নীতিপ্রবণ । তা নিয়ে দেশের বিভিন্ন শহরের সাথে কলকাতার মহাবােধি সােসাইটি হলে প্রতিবাদ সভা হয়েছে । সেখানেও ছিলাম আমি , কিছু কথাও বলেছি । এ অবস্থায় মনে কিছু প্রশ্ন উঠছে । তাহলাে – কিছু বিকৃত মানসিকতার মানুষ বা কিছু মানুষ অসৎ উদ্দেশ্য নিয়ে বাজে কথা বলবেন বা লিখবেন ; আর হাজার হাজার মানুষ নিজের ক্ষতি স্বীকার করে ও অন্যান্য বহু মানুষকে নানা রকম সমস্যার মধ্যে ফেলে প্রতিবাদ আন্দোলন করে যাবেন কতকাল ধরে! আর তাতে কী লাভ হচ্ছে বা আদৌ ভাল কিছু হচ্ছে কি না?
আমার আশংকা যে , প্রচার পাবার আশায় বা বিখ্যাত হবার লােভে বেশি বেশি মানুষ এইসব কুৎসা প্রচারে উৎসাহী হয়ে না ওঠেন ! কারণ হিসাবে বলতে পারি – আমার বিবেচনায় রুশদি ও তসলিমা নাসরিন নিতান্ত মধামানের লেখক ও লেখিকা । কিন্তু এখন তারা যথেষ্ট বিখ্যাত। তাদের বিরুদ্ধে মানুষের প্রতিবাদ আন্দোলন এবং সরকার তাদের বিরুদ্ধে যেসব ব্যবস্থাদি গ্রহণ করেছে, সে সবই তাদের বিখ্যাত করেছে । না হলে, নিতান্ত কম সংখ্যক মানুষ তাদের লেখা সম্পর্কে জানতেন ও তাদের লেখা পড়তেন । আর ইসলাম বিরােধী শক্তিও তাদের ব্যবহার করার কথা ভাবতাে না ।
“ ইনােসেন্স অফ মুসলিম" নামের সিনেমাটিরতাে কোন মান বা উৎকর্ষতাই নেই---যার জন্য সামান্যতম প্রচারও সিনেমাটি পেতে পারে! আর এখনতাে বাংলাদেশে চলছে এক উল্টো পুরাণের গল্প । ইসলামপন্থিরা প্রচার করছেন নবীর অবমাননার কথা । আর সরকার ও অন্যরা নবীর অবমাননা কথা শুধু অস্বীকার করছেন তাই নয় , এই কুকাজ কিছু উগ্র ইসলামপন্থীদের চক্রান্ত বলে অভিযােগ করছেন । আর কলকাতায় কেউ কেউ কলম পত্রিকার ভূমিকাকে ভূল কাজ বলে মন্তব্য করছেন।
বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধে মূলত দুটি পক্ষ ছিল । একটি অংশ স্বাধীন বাংলাদেশের পক্ষে ; অন্যটি পাকিস্তানপন্থি। 'পাকিস্তানের পক্ষ অবলম্বন করা ভুল সিদ্ধান্ত ছিল ' – একথা আজ যে কেউ বলতে পারেন , বলা সহজ; কিন্তু ১৯৭১ সালের মার্চ মাসে যখন পাকিস্তানের রাজনীতিতে টানাপোড়েন চলছে তখন সবকিছু বোঝা ও সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন কাজ ছিল। যেকোন মানুষের সেই সিদ্ধান্ত ভুল বা ঠিক , যাই হােক না কেন – তা ছিল রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত । তাই , সমস্ত পাকিস্তানপন্থি বা রাজাকার , আলবদর ও আলশামসদের অপরাধি বলা যায় না । তারা সবাই দেশপ্রেমিক নন – এমনও নয় ।
আবার যুদ্ধাপরাধী শুধু পাকিস্তানপন্থিদের মধ্যেই ছিলেন – সত্যটা এমন নয় । বাংলাদেশের স্বাধীনতাপন্থীদের মধ্যেও যুদ্ধাপরাধী থাকতে পারেন , ছিলেন । কিন্তু বিজয়ী পক্ষের মধ্যে যুদ্ধাপরাধী খোঁজার বা সনাক্তকরণের রেওয়াজ বা নজির পৃথিবীতে খুবই কম ।
১৯৭১ সালে আমার বয়স ১৬/১৭ বছর । বেশি কিছু বােঝা বা বিচার করার মত বয়স সেটা নয় । তবুও আমি দুটি গণহত্যার কথা বলতে পারি। এই দুটি ঘটনায় স্বাধীন বাংলাদেশপন্থীরা অপরাধী এবং যারা গণহত্যার শিকার হয়েছিলেন তারা নিরপরাধী, হতে পারেন তাদের মধ্যকার কেউ কেউ পাকিস্তানপন্থী মানুষ ছিলেন। যশাের শহরের লাগােয়া নীলগঞ্জ ও ঝুমঝুমপল্লীতে ছিল বিহারী মুসলমানদের বাস। সেখানে গণহারে বিহারী মুসলমানদের হত্যা করা হয়।
যশাের শহরের বাসস্ট্যান্ডের সামনে মনিহার সিনেমা হলের পাশে একখণ্ড জমিতে ১৪ জন নিরীহ কাবুলিওয়ালাকে এক একজন করে কুপিয়ে খুন করা হয়। এ ঘটনা আমি নিজের চোখে দেখেছি । আজ মনে হয় – কাবুলিওয়ালাদের হয়তাে বিহারি মুসলমান ভাবা হয়েছিল । ঘটনা দুটি সম্ভবত ১৯৭১ সালের এপ্রিল মাসের প্রথম দিককার ঘটনা , যখন ৫/৭ দিন যশাের শহর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী ই.পি.আর - দের দখলে ছিল ।
এমন নৃশংস ঘটনা নিশ্চয়ই সেদেশে আরও ঘটেছে । বিহারি মুসলমানরা সাধারণভাবে পাকিস্তানের পক্ষে ছিলেন । তাই, এসব ঘটনার তদন্ত ও বিচারের দাবি তােলার কেউ নেই বা বাংলাদেশে এই দাবি তােলার পরিবেশ ও পরিস্থিতি নেই । চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধগুলির অনেকগুলিই হয়তাে এসব ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার ফলাফল।
কাদের মােল্ল্যার বিরুদ্ধে অভিযােগ অতি গুরুতর । অভিযােগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হলে এমন অপরাধে ফাঁসির শাস্তিও যথেষ্ট নয় । আদালত এই ঘটনায় অপরাধী বলে অভিযুক্তের ভূমিকার গুরুত্ব , সারাজীবন তার অন্যান্য কাজ , বয়স ও আরও নানা বিষয় বিচার বিবেচনা করে বিচারক তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের শাস্তি দিয়েছেন । আইন আদালত যতটুকু জানিবুঝি - অভিযুক্ত আসামি নিজের শাস্তি কমানাে বা মুকুবের আপিল করতে পারেন ; কিন্তু শাস্তি আরও কঠোর করার কোন আইনী ব্যবস্থা আছে কি? হয়তো তা হতে পারে, সেক্ষেত্রে আইন সংশােধনের প্রয়ােজন পড়তে পারে। তেমন কিছু যদি করা হয় , বহু মানুষের কাছে তা অনুচিত কাজ বলে বিবেচিত হবে এবং এই দৃষ্টান্ত ভবিষ্যতে দেশে নানা সমস্যার জন্ম দিতে পারে।
শাহাবাগের জমায়েত ও ধর্ণার লক্ষ্য যদি ধিক্কার এবং প্রতিবাদ জানানাে হয়, আর তা যদি দেশের নতুন প্রজন্ম ও দেশবাসীকে সচেতন-শিক্ষিত করার প্রয়াস হয় , তাহলে এই আদালন অনেকাংশে সফল । কিন্তু যদি আওয়ামী লীগ দ্বারা এই আন্দোলন হাইজ্যাক হয়ে যায়, তাহলে তা ভবিষ্যতে দেশের জন্য মঙ্গলের পরিবর্তে বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে । শাহাবাগে জমায়েত হওয়া তরুণ প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের যে চেতনা অর্থাৎ গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ইত্যাদির আকাঙ্খা করছেন ; আওয়ামী লীগের অতীত ও বর্তমানের ক্রিয়াকাণ্ডের সাথে তা মেলে না।
১৯৮ জন যুদ্ধাপরাধী পাকিস্তানী সৈন্যের মুক্তি দেওয়া হয় এবং রাজাকার ও অন্যান্য যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের কোন উদ্যোগ নেন নি বঙ্গবন্ধু মুজিবুর রহমান। তাঁর নিজের জীবদ্দশায় হাজার হাজার বিরোধী নেতা-কর্মীদের, বিশেষ করে বামপন্থিদের জেলবন্দি করা হয়। সাধারণ যুবকসহ শত শত মুক্তিযােদ্ধাদের পুলিশ হাজতে ও কুখ্যাত রক্ষীবাহিনী ক্যাম্পে পিটিয়ে হত্যা করা হয় । দেশে গণতন্ত্রের গলাটিপে হত্যা করে সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলিকে নিষিদ্ধ ঘােষণা করা হয়, তৈরি করা হয় বাকশাল। গণতন্ত্রহীন পরিবেশে এভাবে তিনি রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের জন্য সামরিক বাহিনীর পথ পরিষ্কার করেন এবং কিছু বর্বর সেনার হাতে নৃশংসভাবে সপরিবারে খুন হয়ে যান ।
বাংলাদেশের স্বাধীনতার অব্যবহিত পরে ১৯৭৪ সালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক ইসলামিক সম্মেলনে যােগদান করেন এবং তার সদস্যপদ গ্রহণ করে বাংলাদেশ । ঢাকার রমনা কালিবাড়ির চূড়া ক্ষতিগ্রস্ত হয় বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের প্রাক্কালে। জেনারেল ইয়াহিয়া নেতৃত্বাধীন সরকার তা মেরামত করার জন্য অর্থ বরাদ্দ করে, অবশ্য যুদ্ধের জন্য তা কার্যকরী হয় না। আর ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু মুক্ত হয়ে দেশে ফিরে এসে বুলডােজার দিয়ে ঐ মন্দির গুড়িয়ে দিয়ে সেখানে সােহরাওয়ার্দি উদ্যান তৈরি করেন । বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের এইসব সিদ্ধান্ত সে দেশে ধর্মভিত্তিক রাজনীতির পথ পরিষ্কার করে ।
আশা করতে পারি — আমরা যারা ভারতে হিন্দুরাজ প্রতিষ্ঠার বিরােধিতা করি ; তারা বাংলাদেশে ইসলামি শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য যেকোন প্রকার পদক্ষেপ ও চেষ্টাকে সমর্থন করবাে না । শাহাবাগের আন্দোলনে আজও আওয়ামি লীগ নেতা বা অন্যকোন দলের নেতা নেত্রী মঞ্চে জায়গা পাননি । সেজন্য, শাহাবাগ আন্দোলনের প্রতিক্রিয়ায় জামাতে ইসলামীর তীব্র প্রতিক্রিয়া অভিপ্রেত নয় । আর আন্দোলনকারীদের দিক দিয়েও জামাতে ইসলাম পার্টিকে নিষিদ্ধ করার দাবিও সঠিক নয় বলেই মনে হয় ।
যুদ্ধাপরাধী , সে যে দলেরই হােক , তার পক্ষে দাঁড়ানাে কীভাবে সম্ভব ! নিশ্চয়ই ইসলামও এই ধরণের দাবি ও সিদ্ধান্তকে সমর্থন করে না । বাংলাদেশের সংখ্যালঘু মানুষেরা জামাতে ইসলামিকে ভয় পান, ইসলামপন্থিদের কাছে এটা মর্যাদার বিষয় নয় । কেন এই অবস্থা , জামাতে ইসলামিকে তা ভাবতে হবে এবং সংখ্যালঘুদের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করতে হবে ।
শাহাবাগ আন্দোলনে নেতৃত্ব দেবার জন্য ১৪ জন নেত্রীকে অগ্নিকন্যা উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছে, যার মধ্যে ৫ জন নেত্রী হিন্দু সম্প্রদায়ের । শাহাবাগ জমায়েতে হিন্দুদের উপস্থিতি দেশে তাদের জনসংখ্যার আনুপাতিক হারের থেকে অনেক বেশি--- যা নানা কারণে অস্বাভাবিক নয় । অন্যদিকে মসজিদকে ভিত্তি করে ব্লগার রাজীবের বিরােধিতার সীমা পেরিয়ে, শাহাবাগ আন্দোলনের বিরােধিতার কৌশল অবলম্বন করা হচ্ছে । এসব দেখে দুশ্চিন্তার কিছু নেই---একথা বলা যাচ্ছে না ।
সুকৃতিরঞ্জন বিশ্বাস
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন