নমোরা কি ধরণের হিন্দু?
১৮৭১/৭২ সালে সম্মানিত হিন্দুর মর্যাদা পেতে চণ্ডালদের সাধারণ ধর্মঘট ইতিহাস খ্যাত। কিন্তু হিন্দু হিসাবে মান্যতা তাঁরা পান নি। তাঁরা অস্পৃশ্য চাঁড়াল হিসাবেই গণ্য হতে থাকেন।
হরিচাঁদের জন্ম ১৮১২ সালে। তিনি বেদবিধি মানেন নি এবং বিশেষ করে চণ্ডালদের হিন্দুশাস্ত্র মানতে নিষেধ করেছেন। এতে বোঝা যায় --- সমাজ তাদের হিন্দু হিসাবে স্বীকার না করলেও তারা নিজেদের হিন্দু মনে করতেন এবং হিন্দুশাস্ত্র মানতেন।
১৯০০ সাল নাগাদ বা একটু আগে গুরুচাঁদ ঠাকুর যখন মিড সাহেবের সহযোগিতা নিয়ে সামাজিক সংস্কার, স্বাস্থ্য, শিক্ষা আন্দোলন করছেন, বোঝা যায়/জানা যায় তখন তিনি মিডের সহযোগিতার বিনিময়ে নমোদের খ্রীষ্ট ধর্মে ধর্মান্তরিত করার ব্যাপারে যেকোনো মাত্রায় প্রতিশ্রুত হয়েছিলেন। কিন্তু তিনি পারেন নি। অর্থাৎ গুরুচাঁদেরও সাধ্যে কুলোয় নি নমোদের হিন্দু থেকে খ্রিষ্টান করার।
যশোর-খুলনার বিখ্যাত সংস্কারক/নেতা রাইচরণের জীবনেও এই অভিজ্ঞতা হয়।খ্রিষ্টান বানাতে পারে এই আশংকায় ওখানকার নমোরা তাদের উদ্যোগে তৈরি বিদ্যালয়ে শিক্ষা নিতে চান নি, বিদ্যালয়টি পুড়িয়ে দেয়।
মতুয়া ধর্মান্দোলনে একটা অগ্রগতি আছে ঠিকই কিন্তু মতুয়ারা হিন্দু ধর্ম বর্জন করেছেন --- একথা বলা যায় কি? দুই বাংলার ঠাকুর বাড়িতেই কালি-দুর্গা গেড়ে বসে আছে। হিন্দুদের লড়াইয়ে ও হিন্দু ধর্ম রক্ষায় মতুয়াদের অগ্রবর্তী সৈনিক হতে আপত্তি আছে কি? বরং সে দায়িত্ব পেলে ও পালন করতে পারলে, তারা গর্বিত হবেন --- একথা কি ভুল?
আমার মনে হয় --- ১৯০০ সাল নাগাদ নমোরা গুরুচাঁদের ইচ্ছা মেনে যদি ঐক্যবদ্ধভাবে খ্রিস্টান হয়ে যেত, তাহলে অধিকাংশ নমো খ্রিষ্টানের গলায় আজ টাই ঝুলতো। কিন্তু তাদের কাছে হিন্দু ধর্মের আকর্ষণ বেশি মনে হয়েছে। মাহারদের নিয়ে আম্বেদকর যা পেরেছেন, নমোদের তা করানো যায় নি।
আজ আবারও এক কঠিন সময়। কী নীতি-কৌশল ঠিক হবে তাদের নিয়ে। তাদের ধর্মান্তরিত করার চেষ্টা করবেন, না সমব্যথীদের সাথে ঐক্যবদ্ধ হবার পরামর্শ দেবেন।
আমাদের যেন মনে থাকে --- নমোরা হিন্দু হতে ও হিন্দু থাকতে চেয়েছেন ঠিকই ; তবুও উচ্চবর্ণ হিন্দুদের বা ব্রাহ্মণবাদীদের খবরদারির বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছেন বার বার। তারা বামুনদের একাধিপত্য মানতে চান নি, আজও মানতে রাজি নন।
রাজনৈতিক আন্দোলনের প্রশ্নে আমরা ১৯০৫/০৬ সালে গুরুচাঁদের সিদ্ধান্ত থেকে শিক্ষা নিতে পারি, আম্বেদকরের নির্দেশ স্মরণ করতে পারি, ১৯৪৩ সালে যোগেন্দ্রনাথের সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্তে আসতে পারি কী না? অর্থাৎ মুসলমানদের সাথে রাজনৈতিক ঐক্যমত্য গড়ে তুলতে পারি কী না!
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন