ড. আম্বেদকরের কিছু মৌলিক নির্দেশ
আমার মনে হয়েছে --- আম্বেদকর সাম্য, সৌভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করেছেন এবং সেই কাজ করার জন্য বলেছেন। তার জন্য গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা এবং গণতান্ত্রিক পদ্ধতির উপর জোর দিয়েছেন। উপায় হিসাবে Educate, Agitate, Organise করার কথা বলেছেন।
শুধু বলেন নি, তিনি শিক্ষিত করার জন্য প্রচুর লিখেছেন, মুকনায়ক ও বহিষ্কৃত ভারত পত্রিকা প্রকাশ করেছেন, শহরে হোস্টেল খুলেছেন, রাজনীতি শিক্ষাদানের স্কুল করেছেন, সাধারণ কলেজ গড়েছেন।শিক্ষার জন্য অনুকূল আইন, নীতি, নিয়ম গড়ার সংগ্রাম করেছেন ও সুযোগ পেলেই আইন- নীতি পদ্ধতি তৈরি করেছেন। আইন তৈরির উপর জোর দিয়েছেন।
তিনি সামাজিক সংগঠন গড়েছেন, কৃষক ও শ্রমিক সংগঠন গড়েছেন, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠন করেছেন এবং ধর্মীও-সামাজিক আন্দোলন করেছেন, কৃষক ও শ্রমিক আন্দোলন করেছেন, রাজনৌতিক আন্দোলন করেছেন। আন্দোলন করতে গিয়ে তার কর্মীরা মার খেয়েছেন, এমনকি শহীদ হয়েছেন।
আম্বেদকর নির্যাতিত/দলিত মানুষের সাথে মুসলমানের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের কথা বলেছেন। এই ঐক্যকে ভিত্তি করে ও তাদের নেতৃত্বে অন্যান্য গণতান্ত্রিক মানুষকে সাথে নিয়ে যুক্তফ্রন্ট গড়ার কথা বলেছেন।
তিনি সবচেয়ে বড় বিপদ বলে উল্লেখ করেছেন হিন্দুরাজের প্রবক্তাদের এবং যে কোনো মূল্যে তাদের প্রতিরোধ করার জন্য বলেছেন।
তিনি প্রেম ও করুনার কথা বলেছেন। ভ্রাতৃত্বের কথা বলেছেন ও ঘৃণার বিরোধিতা করেছেন। সে কারণেই পাল্টা নির্যাতন বা পাল্টা ঘৃণার বিরোধী তিনি। ঘৃণা উচ্ছেদের জন্য ঘৃণার বিরুদ্ধে তার সংগ্রাম।
তিনি সামন্ততান্ত্রিক চিন্তা, চেতনা ও মূল্যবোধের বিরোধী। আধুনিকতার পূজারী। বিশ্বাসমূলক মতাদর্শের বিরোধী বরং বিতর্ক, বিচার, বিশ্লেশনের ও যুক্তির উপর নির্ভর করার পক্ষপাতী।
আম্বেদকর সততা ও সচ্চরিত্রতার কথা বলেছেন।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন