বাদুড়িয়া নিয়ে ফেসবুক পোস্ট ও তার পরের ঘটনা
একটা শব্দের খুব চল দেখছি -- মৌলবাদ। এটা ভাল বুঝিনা স্বীকার করে নিয়েই কয়েকটি কথা।
একজনকে চিনি, তিনি ১৯৭৭ সালের পরের সি পি এম, ২০১১ পর্যন্ত। অন্য একজন বি এস পি, এখন বিক্ষুব্ধ-বসে যাবার মতো। তারা ধর্মীয় মৌলবাদ নিয়ে খুব সরব দেখছি।
আচছা, বলুনতো --- বিশেষ করে এই পর্যায়কালের সি পি এম এবং কাশিরামের দলের মানুষ মৌলবাদী না হয়ে পারেন কি? আমি মৌলবাদী বলছি, শুধু ধর্মীয় মৌলবাদের কথা বলছি না।
সাম্প্রতিক প্রসঙ্গটি নিয়েও বলি --- কাবা শরীফ সামনে রেখে যে বিকৃত-অশ্লীল ছবি, তা কি শুধু সার্বিকভাবে ধর্মীয় স্পিরিট/ মতাদর্শের বিরুদ্ধে আক্রমণ? অথবা তার সাথে দেশের বা অঞ্চলের মুসলমান সম্প্রদায়ের মানুষকে হেয় ও অসম্মানিত করার প্রয়াস? আমার মনে হয় এই পোস্টের ক্ষেত্রে দ্বিতীয় বিষয়টি প্রাধান্য পেয়েছে। আমার মতো যদি কেউ ভাবেন, তাহলে তিনি বিক্ষুব্ধ হতেই পারেন। প্রতিবাদে সরব হবেন, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু যাদের আত্মসম্মান বোধ নেই অথবা অক্ষম, তাদের কথা আলাদা। তারা ধর্মীয় মৌলবাদ বা অন্য যেকোনো তত্ত্বের আড়াল নিতেই পাতেন।
আরেকটি কথা বলি -- আমরা যদি অন্তত কিছু পথ একসাথে চলতে চাই, তাহলে, যারা বোঝা একটু বেশি বইতে পারেন, তাদের বেশি বোঝা কাঁধে নিতে হবে। যারা বেশি পারে না, তাদের উপর চাপ/বোঝা কম চাপাতে হবে। সমান সমান বইতে হবে বলে জোর করলে একসাথে চলা যাবে না। মাওবাদীরা অনেক ক্ষেত্রে এগিয়ে, তারা বোধ হয় ভাবেন সবাই তাদের মতন, তাই তারা একা, অনেকটাই নিঃসঙ্গ, বিচ্ছিন্ন, একা। একসাথে চলতে চলতে সবার সব ক্ষেত্রে উৎকর্ষতা বাড়ানোর প্রচেষ্টা নিতে হবে। আমরা যেন ভুলে না যাই --- সব দেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা নিজ নিজ ধর্ম সম্পর্কে একটু বেশী সপর্শকাতর হয়ে থাকেন।
কথাটা পরিমিতি বোধ নিয়ে। এই প্রশ্ন সঙ্গত। বাদুরিয়া-বসিরহাটের ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি হয়েছে -- একথা অনেকে বলেছেন, আমরাও বাড়াবাড়ি না করতে আবেদন করেছি। কিন্তু আমরা না চাইলেও বহু ক্ষেত্রে এটা হয়। এমনকি প্রতিটি মা-বাবা তাদের প্রিয়তম সন্তানের ক্ষেত্রে যে ব্যবহার না করা উচিত, তা অনেকক্ষেত্রে করে বসি। আর এটাতো বহুজনের আবেগের সমস্যা। যুক্তিবাদীরা একটু বুঝিয়ে বলবেন -- কেউ কাউকে গালি দিলে কেন তিনি উত্তেজিত হন!--- আমরাতো জানি গালিতে কিছু হয় না। মানুষের এসব প্রবৃত্তি ভুলে গেলে চলে না, যদিও ভালো-মন্দ, উচিত-অনুচিত ভুলে যাবার কথা বলছি না।
আন্দোলনের ধরণ নিয়ে কি আর বলার আছে! অসঙ্গত পদ্ধতিগুলিই তো আজ এদেশে আন্দোলনের ধরণ।
আম্বেদকরের মূর্তির অবমাননা নিয়ে আরো বড় আন্দোলন কয়েকবার হয়েছে। গোটা ট্রেন পুড়েছে, ৩০০ এর বেশি বোম্বে স্টেট ট্রান্সপোর্ট-এর বাস পুড়েছে, ১২ জন মানুষ পুলিশের গুলিতে মারা গেছেন। একজন হিন্দু দেবতার চরিত্র ইত্যাদি নিয়ে আম্বেদকর বই লেখেন। তা নিয়ে মহারাষ্ট্রে তুলকালাম করে হিন্দুরা -- বনধ, খুন কত কিছু। ইন্দিরা গান্ধী খুনের পর দিল্লির শিখদের গণ হত্যার কথাই ধরুন। ওটা কি উচিত? কিন্তু হিন্দুরা তা করেছিল। সব সম্প্রদায় এসব অসঙ্গত কাজ করে ফেলে। আমরা এসব চাই না, কিন্তু তবুও হয়। সতর্ক হতে হবে, যাতে আর যেন না হয়।ফলে বাদুরিয়ায় ফেসবুক পোস্ট- এর প্রতিক্রিয়ায় যা হলো,এসব একেবারে নুতন --- এ কথা বলা যাবে না।
তবে আমার মনে হয় -- বর্তমান ঘটনাটি চক্রান্তমূলক। যেন যেন প্রকারে একটা হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা বাধানোর পরিকল্পনার অংশ এটা। তাই সব পক্ষের বেশি সতর্কতার প্রয়োজন। এমন কিছু করা যাবে না , যাতে চক্রান্তকারীরা সফল হয়। ওই অঞ্চলের মানুষ সেই পরীক্ষায় মোটামুটি সফল, সবাইকে ধন্যবাদ।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন