বিজেপি-র রাজনৈতিক কৌশল
কর্ণাটকের মাঙ্গালুরু জেলায় (সমুদ্র তীরবর্তী জেলা) হিন্দু-মুসলমান দাঙ্গায় ২ জন মারা গেলেন। একজন হিন্দু (RSS),অন্যজন মুসলমান (SDPI)। কংগ্রেসের মুখ্যমন্ত্রী বলছেন শান্তি রক্ষা করতে বি জে পি ও সংঘ পরিবারের সাম্প্রদায়িক উস্কানি বন্ধ করা দরকার। আর বি জে পি বলছে --- কংগ্রেসের সংখ্যালঘু তোষণ বন্ধ করতে হবে।
এখনো পর্যন্ত যারা গ্রেফতার হয়েছেন, তার মধ্যে ১০০০ মতো জন হিন্দু ও হিন্দু সংগঠনের নেতা। তাদের বিরুদ্ধে ১৪৩, ১৪৭,১৮৮,৪২৭ ৫০৪, ৩০৮,৩৫৩,১৪৩, ১৪৭,১৪৮,১৪৯ ধারায় মামলা করেছে পুলিশ। বহু মুসলমানকেও গ্রেফতার করা হয়েছে এবং একই রকম ধারায় মামলা হয়েছে। BJP, VHP, HJV প্রভৃতি সংগঠন সমস্ত হিন্দুর বিরুদ্ধে কেসগুলি তুলে নেবার জন্য দাবি করেছে, না হলে আরো জোরদার আন্দোলন/অশান্তির হুমকি দিয়েছে।
বি জে পি দলের ও বি সি মোর্চার রাজ্য সম্পাদক, যুব মোর্চার জেলা সভাপতি, বজরং দলের রাজ্য কনভেনর, হিন্দু হিতরক্ষন সমিতির কনভেনর গ্রেফতার হয়েছেন। বি জে পি-র অভিযোগ কংগ্রেস আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যর্থ হয়ে জেলায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে।
খবরে প্রকাশ, আহত RSS সদস্যকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে একজন মুসলমান হাসপাতালে ভর্তি করে মানবিকতার পরিচয় দিয়েছেন কিন্তু তাঁকে বাঁচানো যায় নি। মৃত দুজনের বিরুদ্ধে কোনো খারাপ অভিযোগ পুলিশের খাতায় না থাকায় সরকার তাদের ক্ষতিপূরণ দেবার কথা ঘোষণা করেছে। হিন্দু বা মুসলমান, কংগ্রেস, বি জে পি, এস ডি পি আই, পপুলার ফ্রন্ট -- যে কোনো দোষীকে গ্রেফতারের নির্দেশ দিয়েছে সরকার।
উত্তর প্রদেশ, পশ্চিমবঙ্গ, কর্ণাটক --- এসব দেখে মনে হচ্ছে --- বি জে পি যেখানে ক্ষমতায় নেই, সেখানে দাঙ্গাকেই ক্ষমতা দখলের হাতিয়ার করার চক্রান্ত করেছে। কিন্তু এই বর্বরতাকে কি দেশের মানুষ মেনে নেবেন?
আমার ধারণা সাময়িক উত্তেজনায় কোথাও মানুষ তাদের সমর্থন যদি করেও, সে সমর্থন হবে ক্ষণস্থায়ী। উন্নয়নের পথ কঠিন এবং তা যে তাদের পক্ষে সম্ভব নয় এটা বি জে পি বুঝে গেছে। তাই মানুষের দৃষ্টি অন্যদিকে আটকে রাখতে এসব সর্বনাশা পথ তারা গ্রহণ করছে।
কেন্দ্রীয় সরকার তার প্রতিশ্রুতির কিছুই করতে পারে নি। সুইস ব্যাংকের টাকা দেশে আসেনি, দেশে দুর্নীতি কমেনি, কালো টাকা উদ্ধার হয় নি। বাড়তি চাকরির সুযোগ সৃষ্টি হয় নি বরং চাকরির সুযোগ ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে। উল্লেখযোগ্য কোনো শিল্প প্রতিষ্ঠার কথা ছেড়ে দিন, তেমন কোনো শিল্প প্রতিষ্ঠার সূচনাই হয় নি। কেবল গরু রক্ষা ও খাওয়া নিয়ে গুন্ডামি এবং মানুষ হত্যা চলছে। রাম মন্দিরের আওয়াজ উঠছে। তালাক নিয়ে কান্নাকাটি হচ্ছে।
অসমে বাড়তি কিছু বাঙালি হিন্দুর ভোট পেয়ে বি জে পি ক্ষমতায় আসে। বলেছিল --- উদ্বাস্তু হিন্দুর ডি ভোটার-নাগরিকত্ব সমস্যার সমাধান করবে। আজও কিছুই হয় নি। ওই হিন্দুরা এখন সংশয়ে, আগামীতে বিক্ষুব্ধ হতে পারে। সুবোধ-নিখিল ভারত বি জে পি-হিন্দুত্ববাদের সমর্থক ও প্রচারক। তারা বি জে পি -র জেলে এবং অন্যায়-অবিচারের শিকার।
মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান, গুজরাট, মহারাষ্ট্র --- এখানে চাষীদের নানা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বি জে পি। এখন চাষীরা রাস্তায়। স্বপ্ন ভঙ্গের বেদনায় তারা লালচক্ষু জনতা। গোয়া এবং মণিপুরে তারা ক্ষমতায় গেল পিছনের দরজা দিয়ে। নৈতিকতার ধ্বজা ওড়ানো পার্টি পিছনের দরজা খোঁজে কেন?
বি জে পি বোধহয় টের পেয়ে গেছে যে, তাদের পুরোনো এলাকা এখন আর নিশ্চিন্ত থাকার মতো এলাকা নয়। তাই টিকে থাকতে হলে নুতন এলাকা চাই, যেখানকার মানুষ তাদের প্রকৃত রূপ চেনে না। এবং এই প্রয়োজনে তাদের ' হিন্দু ' ছাড়া আর কোনো এজেন্ডা নেই। কিন্তু রুটি-রুজি বিনা হিন্দুরও যে হিন্দু-হিন্দু বেশিদিন ভালো লাগে না, বি জে পি বেল্টের পালস বোধ হয় সে জানান দিতে শুরু করেছে।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন